মোহনলালের মতের অপেক্ষায় অজয়

যা জানা জরুরি
- ‘দৃশ্যম’-এর হিন্দি সংস্করণে বিজয় সালগাঁওকর হয়ে দর্শকের মন জয় করেছেন অজয় দেবগন।
- কিন্তু তৃতীয় ছবির মুক্তির মুখে তাঁর নিজেরই অপেক্ষা অন্য এক অভিনেতার প্রতিক্রিয়ার জন্য।
- তিনি মোহনলাল—মূল মালয়ালম সিরিজের বিজয় সালগাঁওকর।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
‘দৃশ্যম’-এর হিন্দি সংস্করণে বিজয় সালগাঁওকর হয়ে দর্শকের মন জয় করেছেন অজয় দেবগন। কিন্তু তৃতীয় ছবির মুক্তির মুখে তাঁর নিজেরই অপেক্ষা অন্য এক অভিনেতার প্রতিক্রিয়ার জন্য। তিনি মোহনলাল—মূল মালয়ালম সিরিজের বিজয় সালগাঁওকর।
‘দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন’ দেখে নিজের মতামত জানানোর জন্য মোহনলালকে ফোনও করেছিলেন অজয়। তবে তখন ছুটিতে থাকায় ছবিটি দেখতে পারেননি মালয়ালম তারকা। অজয়ের আশা, খুব শিগগিরই ছবিটি দেখে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাবেন তিনি।
ফিকি ফ্রেমসের আলোচনায় বিষয়টি ওঠে। মোহনলাল তাঁকে ফোন করেছিলেন কি না, জানতে চাওয়া হলে অজয় জানান, ছবিটি দেখানোর আগ্রহ থেকেই ফোন করেছিলেন তিনিই। মূল মালয়ালম ছবির নির্মাতাদের কাজের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তাই এ বার হিন্দি ছবির গল্প যখন সম্পূর্ণ আলাদা পথে এগিয়েছে, তখন মোহনলালের মতামত তাঁর কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
ছুটিতে থাকা সত্ত্বেও মোহনলাল যোগাযোগ রেখেছেন বলেও জানান অজয়। তবে ছবি দেখা এবং তার পর প্রতিক্রিয়া জানানোর অপেক্ষা এখনও শেষ হয়নি।
এ দিকে, ‘দৃশ্যম’ সিরিজের হিন্দি অধ্যায় এখানেই শেষ করতে চান অজয়। তাঁর যুক্তি, এমন জটিল রহস্যকাহিনির নতুন পর্ব তৈরি করা সহজ নয়। বিজয় ও তাঁর পরিবারকে বার বার নতুন খুনের ঘটনায় জড়িয়ে গল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়াও তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
অজয়ের কথায়, আগের গল্প যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখান থেকেই বিশ্বাসযোগ্য ভাবে নতুন কাহিনি তৈরি করতে হয়। আগে প্রয়োজন উপযুক্ত ভাবনা, তার পর সিকুয়েল। সেই গল্পের সন্ধানে পরিচালক অভিষেক পাঠক ও তাঁর লেখকেরা প্রায় চারটি চিত্রনাট্য বাতিল করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় বাঁক এবং চমক মেলার পরই বর্তমান গল্পটি চূড়ান্ত হয়।
অজয় জানিয়েছেন, মুক্তির আগে তিনি নিজেও ছবিটি দেখে ফেলেছেন এবং তাঁর ব্যক্তিগত বিচারে তৃতীয় পর্ব দ্বিতীয়টির থেকেও ভাল হয়েছে। তবে সেটি অবশ্যই অভিনেতার নিজস্ব মূল্যায়ন।
রহস্য ধরে রাখাই যে এ বার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, সেটিও স্পষ্ট করেছেন অজয়। বিজয় কী করতে চলেছে বা তার পরিবারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে, দর্শক যদি আগেভাগেই আঁচ করে ফেলেন, তা হলে ‘দৃশ্যম’-এর মূল আকর্ষণই নষ্ট হবে। তাই পরিচিত চরিত্র ফিরিয়ে এনেও নতুন করে দর্শককে চমকে দেওয়াই নির্মাতাদের লক্ষ্য।
পরিচালক অভিষেক পাঠক এর আগে ‘বলিউড হাঙ্গামা’-কে জানিয়েছিলেন, দ্বিতীয় ছবির মুক্তির পরই নিজের মতো করে তৃতীয় কাহিনি লেখার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। মালয়ালম তৃতীয় পর্বের জন্য অপেক্ষা করে তার সঙ্গে তুলনা করার পথে হাঁটেননি। গল্প, চিত্রনাট্য এবং সংলাপ তৈরি করতে প্রায় দু’বছর সময় লেগেছে। অজয়-সহ সংশ্লিষ্টরা চিত্রনাট্য পছন্দ করার পরেই ছবিটি তৈরির ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হন পরিচালক।
ফলে দুই ভাষার ‘দৃশ্যম ৩’ একই নামের সিরিজের অংশ হলেও গল্পের দিক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এমনকি নামেও তার ইঙ্গিত রয়েছে। ‘দৃশ্যম ৩’-এর বদলে ‘দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন’ রাখার পিছনে রয়েছে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা।
অভিষেকের ব্যাখ্যা, শুধু ‘৩’ থাকলে দর্শকের মনে চতুর্থ পর্বের সম্ভাবনা থেকেই যেত। কিন্তু নির্মাতারা এই ছবিতেই গল্প শেষ করতে চেয়েছেন। তাই ‘দ্য কনক্লুশন’ নামের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করা হয়েছে—দর্শককে একটি সম্পূর্ণ কাহিনির প্রতিশ্রুতি দিতেই এই নাম।
অভিষেক আরও জানিয়েছিলেন, ট্রেলার দেখে মোহনলালের ভাল লেগেছিল এবং অজয় ও প্রযোজক কুমার মঙ্গত পাঠকের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি। তবে ট্রেলার পছন্দ হওয়া আর সম্পূর্ণ ছবি দেখে মতামত জানানোর মধ্যে ফারাক আছে। সেই দ্বিতীয় প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষাতেই এখন অজয়।
অভিষেক পাঠক পরিচালিত ছবিতে অজয়ের সঙ্গে রয়েছেন তব্বু, শ্রিয়া সরন ও রজত কাপুর। নতুন সংযোজন প্রকাশ রাজ। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী কাল, ২ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ছবিটি।
বিজয় সালগাঁওকরের গল্প কী ভাবে শেষ হয়, তা জানার কৌতূহলের সঙ্গে এখন আরও একটি প্রশ্ন জুড়েছে—মূল বিজয়, অর্থাৎ মোহনলালের চোখে কেমন লাগবে হিন্দি ‘কনক্লুশন’?
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



