সংস্কৃতি ও বিনোদন

‘আমাকে কখনও শাহিন, কখনও সোনি বলে ডাকেন’: বাবার বিরক্তিকর অভ্যাস এখন আলিয়ারও

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাবাদের কিছু অভ্যাস এমনই—বিরক্তিকর, অথচ অদ্ভুত ভাবে পরিচিত।
  • মহেশ ভট্টেরও তেমনই একটি অভ্যাস রয়েছে, যা এক সময় বিরক্ত করত মেয়ে আলিয়া ভট্টকে।
  • এখন মজার বিষয়, সেই অভ্যাসই নাকি নিজের অজান্তে রপ্ত করে ফেলেছেন আলিয়াও!

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাবাদের কিছু অভ্যাস এমনই—বিরক্তিকর, অথচ অদ্ভুত ভাবে পরিচিত। মহেশ ভট্টেরও তেমনই একটি অভ্যাস রয়েছে, যা এক সময় বিরক্ত করত মেয়ে আলিয়া ভট্টকে। এখন মজার বিষয়, সেই অভ্যাসই নাকি নিজের অজান্তে রপ্ত করে ফেলেছেন আলিয়াও!

সম্প্রতি বাবা মহেশ ভট্টের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের এই মজার দিকটি তুলে ধরেছেন ‘জিগরা’-র অভিনেত্রী। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, বাবার কোন অভ্যাসটি তাঁর সবচেয়ে বিরক্তিকর লাগে।

আলিয়ার উত্তর শুনলে বিষয়টি বেশ চেনা মনে হতে পারে।

তিনি বলেন, “বাবার সঙ্গে স্বচ্ছন্দে, সহজ ভাবে, একটানা কথা বলা খুব কঠিন হয়ে যায়, যখন উনি ভুলেই যান কার সঙ্গে কথা বলছেন। তখন আমাকে কখনও শাহিন, কখনও সোনি বলে ডাকেন। কখনও আবার এমন সব মানুষের নামে ডাকেন, যাঁদের নামই আমি কোনও দিন শুনিনি। অন্য সকলের সঙ্গেও উনি একই কাজ করেন।”

এর পরেই আসে মজার মোড়।

আলিয়ার কথায়, “কিন্তু দেখুন কাণ্ড, কথায় বলে না, গাছের ফল গাছের কাছেই পড়ে! এখন আমিও ঠিক একই কাজ করি। তাই বিরক্তির ব্যাপার হল, বাবার এই অভ্যাসটা আমার মধ্যেও চলে এসেছে।”

বাবাকে দেখেই শেখা

মহেশের এই অভ্যাস কী ভাবে মেয়ের মধ্যেও চলে এল? মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অবশ্য এর মধ্যে খুব অস্বাভাবিক কিছু নেই।

মুম্বইয়ের ‘সেন্টিয়ের ওয়েলনেস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডা. রিম্পা সরকার জানাচ্ছেন, বাবা-মায়ের আচরণ দেখতে দেখতে সন্তানেরা অনেক সময় তাঁদের নানা অভ্যাস অজান্তেই রপ্ত করে ফেলে।

ইন্ডিয়ানএক্সপ্রেস ডটকমকে তিনি বলেন, “আচরণ শেখার ক্ষেত্রে বাবা-মাই শিশুর জীবনের প্রথম এবং সবচেয়ে নিয়মিত আদর্শ। তাই বাবা-মা কী বলছেন, মস্তিষ্ক শুধু তা-ই গ্রহণ করে না। তাঁরা মানসিক চাপের মুখে কী ভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন, কী ভাবে কথা বলছেন, জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখছেন বা আবেগ সামলাচ্ছেন—সেগুলিও শিখে নেয়।”

বারবার দেখতে দেখতে এই আচরণগুলি শিশুর কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে। এক সময় সেগুলি স্বতঃস্ফূর্ত অভ্যাসের মতো আচরণে ঢুকে যেতে পারে। ফলে কোনও আচরণ নিজের পছন্দ কি না, তা নিয়ে সচেতন ভাবে ভাবার আগেই শিশু সেই আচরণ অনুসরণ করতে শুরু করতে পারে।

অপছন্দ হলেও কেন?

কিন্তু যে অভ্যাসটি ছোটবেলা থেকেই বিরক্তিকর বলে মনে হয়, সেটিও কি নিজের মধ্যে চলে আসতে পারে?

ডা. সরকারের মতে, কোনও আচরণকে অপছন্দ করা এবং সেই আচরণ নিজের মধ্যে থাকা—দুটি বিষয় পরস্পরবিরোধী নয়।

তিনি বলেন, “একটি শিশু ভাবতে পারে, ‘বাবা বা মা যখন এমন করেন, আমার একেবারেই ভাল লাগে না।’ অথচ একই আচরণের ধরন সে নিজের অজান্তেই আত্মস্থ করে ফেলতে পারে। কারণ, সেটি ইতিমধ্যেই তার শেখা আচরণগুলির অংশ হয়ে গিয়েছে।”

অর্থাৎ, কোনও আচরণকে ভুল বা বিরক্তিকর বলে বুঝতে পারলেই যে সেটি সঙ্গে সঙ্গে নিজের ব্যবহার থেকে বাদ দেওয়া যাবে, এমন নয়।

কাজে লাগে বলেই থাকে

কখনও আবার কোনও অভ্যাসের পিছনে লুকিয়ে থাকতে পারে আরও একটি কারণ—সেটি কোনও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কাজে দেয়।

ডা. সরকার ব্যাখ্যা করেন, কোনও আচরণ যদি বাবা বা মাকে উদ্বেগ সামলাতে, পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে, সংঘাত এড়াতে কিংবা অন্যের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত প্রতিক্রিয়া পেতে সাহায্য করে, তা হলে সন্তানও শিখে নিতে পারে যে ওই আচরণের একটা কার্যকারিতা রয়েছে।

ফলে বাইরে থেকে আচরণটি তার অপছন্দের হলেও, অজান্তেই সেটি নিজের আচরণের অংশ হয়ে যেতে পারে।

বড় হয়ে বদলানোর সুযোগ

তবে গল্পটা এখানেই শেষ নয়। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ নিজের আচরণকে আরও ভাল ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে শেখে। কোন অভ্যাস নিজের মধ্যে রাখতে চান, আর কোনটি বদলাতে চান—সে বিষয়ে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়।

ডা. সরকারের কথায়, “বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্তানেরা এই আচরণের ধরনগুলি আরও ভাল ভাবে চিনতে শেখে। কোনগুলি ধরে রাখবে আর কোনগুলি বদলাবে, সে বিষয়ে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও বাড়ে।”

এই কারণেই প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে কখনও হঠাৎ মনে হতে পারে—কোনও কথা বলার ধরন, কোনও পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া বা ছোট্ট কোনও অভ্যাস একেবারে বাবা-মায়ের মতোই হয়ে গিয়েছে।

ডা. সরকারের কথায়, “বারবার দেখতে দেখতে আমরা অনেক আচরণের ধরন আত্মস্থ করি। কিন্তু নিজের আচরণ সম্পর্কে সচেতন হলে সেগুলির নিছক পুনরাবৃত্তি না করে বদলে নেওয়ার সুযোগও পাই।”

আলিয়ার ক্ষেত্রে আপাতত সেই বদলের বদলে গল্পটা একটু মজারই—বাবার যে অভ্যাস এক সময় তাঁকে বিরক্ত করত, শেষ পর্যন্ত সেটাই এসে ঠাঁই নিয়েছে তাঁর নিজের মধ্যেও!

মূল প্রতিবেদনের ঘোষণা: এই প্রতিবেদন সর্বসাধারণের জন্য উপলব্ধ তথ্য এবং/অথবা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথোপকথনের ভিত্তিতে তৈরি।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles