খবর

‘অযাচিত মন্তব্য, হস্তক্ষেপের এক্তিয়ার নেই’: কাশ্মীর নিয়ে এরদোয়ানকে জবাব ভারতের

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইপ এরদোয়ানের মন্তব্য খারিজ করল ভারত।
  • মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লি জানিয়ে দিল, ভারতের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার সঙ্গে জড়িত এই বিষয়ে কোনও বাইরের পক্ষের হস্তক্ষেপের এক্তিয়ার নেই।
  • এরদোয়ানের মন্তব্যকে ‘অযাচিত’ বলেও অভিহিত করেছে বিদেশ মন্ত্রক।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইপ এরদোয়ানের মন্তব্য খারিজ করল ভারত। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লি জানিয়ে দিল, ভারতের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার সঙ্গে জড়িত এই বিষয়ে কোনও বাইরের পক্ষের হস্তক্ষেপের এক্তিয়ার নেই। এরদোয়ানের মন্তব্যকে ‘অযাচিত’ বলেও অভিহিত করেছে বিদেশ মন্ত্রক।

কী বললেন এরদোয়ান?

দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে এরদোয়ানের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, রাষ্ট্রপুঞ্জে ভাষণের সময় ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট যে প্রসঙ্গ তুলেছেন, ভারত তা প্রত্যাখ্যান করছে।

জয়সওয়ালের বক্তব্য, বিষয়টি ভারতের সার্বভৌম অধিকার ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এই বিষয়ে বাইরের কোনও পক্ষের হস্তক্ষেপের অধিকার ভারত স্বীকার করে না।

এরদোয়ান ২২ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেন।

কাশ্মীর প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য ছিল, দক্ষিণ এশিয়ার সমস্ত বিরোধ, কাশ্মীর-সহ, আলোচনার মাধ্যমে মেটানো প্রয়োজন। সেই আলোচনার ভিত্তি হিসেবে রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ এবং সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলির উল্লেখ করেন তিনি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপস্থিতিতেই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এই বক্তব্য রাখেন।

দিল্লির পুরনো অবস্থান

কাশ্মীর প্রশ্নে ভারতের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই অপরিবর্তিত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়গুলি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করতে হবে। তৃতীয় কোনও দেশের মধ্যস্থতা ভারত গ্রহণ করে না।

এই অবস্থানের সঙ্গে ১৯৭২ সালের শিমলা চুক্তির প্রসঙ্গও জড়িত। ওই চুক্তিতে ভারত ও পাকিস্তান শান্তিপূর্ণ উপায়ে এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য মেটানোর অঙ্গীকার করেছিল।

ফলে এরদোয়ানের মন্তব্যের জবাবেও নয়াদিল্লি নতুন কোনও অবস্থান নেয়নি। বরং নিজেদের দীর্ঘদিনের অবস্থানই ফের স্পষ্ট করেছে।

নতুন নয় এই প্রসঙ্গ

রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে এরদোয়ানের কাশ্মীর প্রসঙ্গ তোলাও নতুন ঘটনা নয়। ২০১৯ সালে ভারত সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করার পর বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। ২০২০ এবং ২০২১ সালেও সাধারণ পরিষদে তাঁর বক্তব্যে কাশ্মীরের উল্লেখ ছিল। ২০২৪ সালে অবশ্য তাঁর ভাষণে এই প্রসঙ্গ ছিল না। পরের বছর ফের কাশ্মীরের কথা তোলেন তিনি।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেও এরদোয়ানের বক্তব্যের পরে ভারত জানিয়েছিল, কাশ্মীর নিয়ে তার অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়নি। জয়সওয়াল সে সময়ও ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে বাইরের কোনও পক্ষের মধ্যস্থতার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছিলেন।

ওআইসি-তেও আপত্তি

এরদোয়ানের মন্তব্যের কয়েক দিন আগেই কাশ্মীর নিয়ে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসির একটি যৌথ বিবৃতিও প্রত্যাখ্যান করেছিল ভারত।

রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউ ইয়র্কে ওআইসির সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর বৈঠক হয়। পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব, আজারবাইজান এবং নাইজার—এই পাঁচ দেশ ওই গোষ্ঠীর সদস্য। তাদের বিবৃতিতে কাশ্মীরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব কার্যকর করার দাবি জানানো হয়।

এর জবাবে বিদেশ মন্ত্রক জানায়, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার এক্তিয়ার ওআইসির নেই। জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের সম্পূর্ণ ভূখণ্ডকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলেও পুনরায় উল্লেখ করে নয়াদিল্লি।

ওআইসি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারকে বারবার সমর্থন করছে বলেও অভিযোগ করে ভারত। পাকিস্তানের প্রচারের মঞ্চ হওয়ার বদলে তার নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ড থেকে ছড়ানো সন্ত্রাসের মোকাবিলায় সংস্থাটির নজর দেওয়া উচিত—এমন বক্তব্যও জানায় বিদেশ মন্ত্রক।

সম্পর্কেও টানাপড়েন

কাশ্মীর নিয়ে মতপার্থক্যের পাশাপাশি গত বছর ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় তুরস্কের অবস্থানও নয়াদিল্লি-আঙ্কারা সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি করেছিল। ২০২৫ সালের পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলা এবং তার পরের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় তুরস্ক পাকিস্তানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল।

তার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কাশ্মীর এবং সন্ত্রাসবাদ নিয়ে অবস্থানের ফারাক আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

একই জায়গায় দুই অবস্থান

ফলে এরদোয়ানের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে মূল বিরোধটা কেবল কাশ্মীর নিয়ে নয়, এই প্রশ্নেও—বিষয়টি নিয়ে বাইরের কোনও পক্ষের বক্তব্য রাখার জায়গা আছে কি না।

তুরস্ক রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ ও সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর কথা বলছে। ভারত সেখানে জোর দিচ্ছে সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার উপর।

মঙ্গলবারের প্রতিক্রিয়ায় নয়াদিল্লি তাই নতুন কোনও বার্তা দেয়নি। বরং বহু দিনের অবস্থানই আরও এক বার স্পষ্ট করেছে—কাশ্মীর প্রশ্নে বাইরের কোনও পক্ষের হস্তক্ষেপ ভারত গ্রহণ করে না।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles