International

‘ব্রাজিল কারও উঠোন নয়’: ভোটের আগে ট্রাম্পকে বার্তা লুলার

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • তার আগেই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কণ্ঠে কড়া বার্তা—‘ব্রাজিল কারও উঠোন নয়।’ ৪ অক্টোবরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে শুল্ক, নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক…
  • দেশের গোয়েন্দা সংস্থা আবিনও নির্বাচনে বিদেশি, বিশেষত আমেরিকার প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকিকে গুরুতর বলে চিহ্নিত করেছে।
  • নজরে আমেরিকা ২৩ সেপ্টেম্বর লুলার নির্বাচনী শিবির সম্ভাব্য বিদেশি হস্তক্ষেপের তদন্ত চেয়ে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

ভোটের আর মাত্র কয়েক দিন। তার আগেই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কণ্ঠে কড়া বার্তা—‘ব্রাজিল কারও উঠোন নয়।’ ৪ অক্টোবরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে শুল্ক, নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপকে ঘিরে আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশের গোয়েন্দা সংস্থা আবিনও নির্বাচনে বিদেশি, বিশেষত আমেরিকার প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকিকে গুরুতর বলে চিহ্নিত করেছে।

নজরে আমেরিকা

২৩ সেপ্টেম্বর লুলার নির্বাচনী শিবির সম্ভাব্য বিদেশি হস্তক্ষেপের তদন্ত চেয়ে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ নির্বাচনী আদালতেও অভিযোগ জানায় তাঁর ওয়ার্কার্স পার্টি।

তাদের অভিযোগ, লুলার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সেনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো এবং তাঁর ভাই এদুয়ার্দো আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের পাশাপাশি প্রচারমাধ্যম ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছে লুলার দল। তবে এগুলি রাজনৈতিক অভিযোগ, আদালতের প্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্ত নয়।

লড়াই হাড্ডাহাড্ডি

ফ্লাভিও প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে। ভোটের আগে তাঁর সঙ্গে লুলার ব্যবধানও খুব কম।

২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত AtlasIntel/Bloomberg সমীক্ষায় প্রথম দফায় লুলার সমর্থন ৪৫.৩ শতাংশ, ফ্লাভিওর ৪২.২ শতাংশ। তবে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফায় দু’জন কার্যত সমানে—ফ্লাভিও ৪৭.৭ শতাংশ, লুলা ৪৭.৬ শতাংশ। সমীক্ষাটির ত্রুটিসীমা এক শতাংশ। ২৩ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ৫,০০৫ জনের মতামত নিয়ে সমীক্ষাটি করা হয়।

প্রথম দফায় কেউ বৈধ ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি না পেলে ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফার ভোট হবে। ফলে ভোট যত এগোচ্ছে, বিদেশি চাপের অভিযোগও প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠছে।

গোয়েন্দাদের সতর্কতা

আবিনের তৈরি একটি গোপন প্রতিবেদন অগস্টের শেষে প্রেসিডেন্টের দফতর, বিচার মন্ত্রক এবং সর্বোচ্চ নির্বাচনী আদালতে পাঠানো হয়েছিল। প্রকাশ্যে আসা তথ্য অনুযায়ী, সেখানে আমেরিকার তরফে ব্রাজিলের নির্বাচনে প্রভাব বা হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাকে গুরুতর ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ওয়াশিংটনের চাপ বাড়ার কথাও বলা হয়েছে।

ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দাদের মূল্যায়নে লাতিন আমেরিকায় আমেরিকার প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং চিনের প্রভাব কমানোর বৃহত্তর ভূকৌশলগত স্বার্থের কথাও উঠে এসেছে। প্রাকৃতিক সম্পদ, গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ও কৌশলগত সম্পদ নিয়েও দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রসঙ্গ রয়েছে।

শুল্ক থেকে নিষেধাজ্ঞা

দুই দেশের টানাপড়েন শুধু নির্বাচনে আটকে নেই। ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা শুল্কের পাশাপাশি ব্রাজিলের বিচারব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরায়েস ও তাঁর স্ত্রীও ম্যাগনিটস্কি আইনের আওতায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিলেন। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানচেষ্টার মামলাকে ঘিরে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়াও দুই দেশের সম্পর্কে চাপ বাড়িয়েছে।

ফলে বাণিজ্যিক বিরোধ ধীরে ধীরে বিচারব্যবস্থা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং নির্বাচনী সার্বভৌমত্বের প্রশ্নের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।

লুলার প্রচারে ট্রাম্প

লুলার প্রচারশিবিরও বিষয়টিকে ভোটারদের সামনে জোর দিয়ে তুলছে। একটি নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে অভিযোগ করা হয়েছে, ফ্লাভিওকে জেতাতে পারলে ব্রাজিলের সম্পদের উপর ট্রাম্পের প্রভাব বাড়বে। দেশকে ফের পরাধীনতার দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে।

তবে এগুলি লুলার শিবিরের রাজনৈতিক বক্তব্য। আবিনের ঝুঁকি মূল্যায়নও নির্বাচনের ফল বদলে দেওয়ার কোনও প্রমাণ নয়।

ট্রাম্পের বার্তা

আমেরিকার প্রশাসন অবশ্য ব্রাজিলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে লুলা জানিয়েছেন, ট্রাম্প তাঁকে বলেছেন যে তিনি অন্যদের ব্রাজিলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ না করার কথা জানিয়েছেন।

লুলার বক্তব্য, তিনি ট্রাম্পকে সরাসরি বলেছেন—ব্রাজিলের নির্বাচন ব্রাজিলের নিজস্ব বিষয়। ফলে প্রকাশ্য সংঘাতের মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে আলোচনার রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

আমেরিকাতেও প্রশ্ন

ব্রাজিলের নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ শুধু ব্রাজিলেই সীমাবদ্ধ নেই। আমেরিকার ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারাও বিদেশসচিব মার্কো রুবিওকে চিঠি দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ২৪ সেপ্টেম্বর পাঠানো চিঠিতে ৩১ জন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ব্রাজিলের নির্বাচনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানান।

তাঁদের আশঙ্কা, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ ব্রাজিলের নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানের উপর আস্থা নষ্ট করতে পারে।

ভোটে কী প্রভাব?

লুলার কাছে এবারের নির্বাচন তাই শুধু ক্ষমতায় ফেরার লড়াই নয়—জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নও। তবে দেশের ভিতরের ছবিও সহজ নয়। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ, দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং ভোটারদের অর্থনৈতিক উদ্বেগ তাঁকে চাপে রাখছে। বেকারত্ব ও বৈষম্য কমার মতো সাফল্যের দাবি থাকলেও ফ্লাভিওর সঙ্গে লড়াই যে কঠিন, সাম্প্রতিক সমীক্ষাগুলিও তা দেখাচ্ছে।

এখন প্রশ্ন, ‘ব্রাজিল কারও উঠোন নয়’—লুলার এই সার্বভৌমত্বের বার্তা শেষ মুহূর্তে কতটা ভোটারের মন ছুঁতে পারে। তার উত্তর মিলবে ৪ অক্টোবরের ভোটে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles