খবর

বাল্মীকি থেকে বক্সায় বাঘিনি

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বক্সার জঙ্গলে প্রজননক্ষম বাঘের জনসংখ্যা গড়ে তোলার লক্ষ্যে শুরু হল পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বাঘ স্থানান্তর প্রকল্প।
  • বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, বাল্মীকি ব্যাঘ্র সংরক্ষণকেন্দ্র থেকে তিন বছরের একটি রয়্যাল বেঙ্গল বাঘিনিকে আলিপুরদুয়ারের বক্সা ব্যাঘ্র সংরক্ষণকেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে।
  • প্রায় ১৫০ কিলোগ্রাম ওজনের বাঘিনিটিকে সামরিক পরিবহণ বিমানে গোরক্ষপুর থেকে হাসিমারা বায়ুসেনা ঘাঁটিতে আনা হয়।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বিহারের বাল্মীকি থেকে এবার বাংলার বক্সা। বক্সার জঙ্গলে প্রজননক্ষম বাঘের জনসংখ্যা গড়ে তোলার লক্ষ্যে শুরু হল পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বাঘ স্থানান্তর প্রকল্প। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, বাল্মীকি ব্যাঘ্র সংরক্ষণকেন্দ্র থেকে তিন বছরের একটি রয়্যাল বেঙ্গল বাঘিনিকে আলিপুরদুয়ারের বক্সা ব্যাঘ্র সংরক্ষণকেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে।

প্রায় ১৫০ কিলোগ্রাম ওজনের বাঘিনিটিকে সামরিক পরিবহণ বিমানে গোরক্ষপুর থেকে হাসিমারা বায়ুসেনা ঘাঁটিতে আনা হয়। সেখান থেকে বিশেষ পশু পরিবহণ অ্যাম্বুল্যান্সে পৌঁছে দেওয়া হয় বক্সায়। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর আপাতত তাকে রাখা হয়েছে সংরক্ষিত ঘেরাটোপে। ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ঠিকানায় পৌঁছেই চারপাশ ঘুরে দেখেছে বাঘিনিটি।

তবে এখনই জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়ার তাড়া নেই বন দফতরের। নতুন পরিবেশ, জলবায়ু এবং খাদ্যভাণ্ডারের সঙ্গে তাকে ধীরে ধীরে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি সিসিটিভির মাধ্যমে তার গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে। ঘেরাটোপে শিকারের জন্য রাখা হয়েছে হরিণও।

বাঘিনিটির অতীত আচরণও আশাব্যঞ্জক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’-র খবর অনুযায়ী, বাল্মীকির মঙ্গুরাহা রেঞ্জে মায়ের বিচরণক্ষেত্র ছেড়ে এক বছরেরও কম সময় আগে স্বাধীন ভাবে চলাফেরা শুরু করেছিল সে। গবাদি পশু শিকার বা মানুষের সঙ্গে সংঘাতের কোনও নথিবদ্ধ ইতিহাস নেই। বুনো শুয়োর ছিল তার অন্যতম প্রধান শিকার।

বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হলে বাঘিনিটির গতিবিধি আর শুধু চোখের নজরে থাকবে না। তার গলায় পরানো হবে জিপিএস-যুক্ত রেডিয়ো কলার। রাজাভাতখাওয়ার পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের পাশাপাশি মাঠে থাকা বনকর্মীরাও নিয়মিত নজর রাখবেন। ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার বিজ্ঞানী রমেশ কৃষ্ণমূর্তির বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তির সাহায্যে শুধু বাঘিনিটির অবস্থানই জানা যাবে না, নতুন পরিবেশে তার চলাফেরা এবং অভিযোজনের ধরনও বোঝা যাবে।

বিশেষ নজর থাকবে জনবসতি এবং ভুটানের অরণ্যের দিকে তার গতিবিধির উপর। কারণ নতুন এলাকায় বাঘের চলাচল কতটা নিয়ন্ত্রিত থাকছে, মানুষের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হচ্ছে কি না এবং সে পরিবেশের সঙ্গে কতটা খাপ খাওয়াতে পারছে—এই তথ্যই পরবর্তী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

স্থানান্তরের গোটা প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্ন রাখতে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বক্সায় সমস্ত পর্যটন কার্যকলাপ বন্ধ রেখেছে বন দফতর। বন্ধ থাকবে জিপ সাফারি, দিনের সফর এবং জঙ্গলের ভিতরে রাত্রিবাস। রাজাভাতখাওয়া চেকপোস্টের পরেও ওই সময়ে পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এই প্রকল্পের শেষ লক্ষ্য অবশ্য শুধু একটি বাঘিনিকে নতুন জঙ্গলে পৌঁছে দেওয়া নয়। বক্সায় একটি পুরুষ বাঘ এবং দু’টি বাঘিনিকে নিয়ে প্রজননের উপযোগী একটি দল গড়ে তুলতে চায় বন দফতর। তবে তার আগে সদ্য আসা বাঘিনিটির আচরণ ও অভিযোজন পর্যবেক্ষণ করা হবে।

অর্থাৎ, বাল্মীকি থেকে বক্সায় এই যাত্রা কোনও সমাপ্তি নয়, বরং শুরু। বক্সার অরণ্যে বাঘিনিটি কতটা নিজের করে নিতে পারে নতুন আবাস, তার উপরই নির্ভর করবে এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী সংরক্ষণ প্রকল্পের পরবর্তী অধ্যায়।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles