চূড়ান্ত লড়াইয়ের ডাক রাহুলের, বিরোধী ঐক্যের পরিধি বাড়াতে চান মমতা

যা জানা জরুরি
- বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইকে নির্ণায়ক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ডাক দিলেন রাহুল গান্ধী।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোর দিলেন বিরোধী ঐক্যের পরিধি বাড়ানোর উপর।
- বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে আন্দোলনের রূপরেখা আলোচিত…
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইকে নির্ণায়ক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ডাক দিলেন রাহুল গান্ধী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোর দিলেন বিরোধী ঐক্যের পরিধি বাড়ানোর উপর। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে আন্দোলনের রূপরেখা আলোচিত হয়। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠকে নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে যৌথ আন্দোলনের বিষয়ে বিরোধী নেতারা একমত হন। বৈঠকে সোনিয়া গান্ধী, তেজস্বী যাদব ও সুপ্রিয়া সুলে উপস্থিত ছিলেন; উদ্ধব ঠাকরে এবং হেমন্ত সোরেন অনলাইনে যোগ দেন বলে খাড়গে জানান।
বৈঠকের আলোচনা সম্পর্কে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, রাহুল বলেন, এই সংঘাতকে সাধারণ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে দেখলে চলবে না; গণতন্ত্রের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্নে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তবে রাজ্যস্তরে শরিকদের পারস্পরিক প্রতিযোগিতার বাস্তবতাও মেনে নেন তিনি। কেরলের মতো রাজ্যে একই মঞ্চে আন্দোলন সম্ভব না হলে অভিন্ন দাবি ও স্লোগান নিয়ে পৃথক কর্মসূচি করা যেতে পারে—এমন প্রস্তাব দেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা।
মমতার বক্তব্যের মূল কথা ছিল, বিজেপির বিরোধিতা করে এমন সব দল এখনও ‘ইন্ডিয়া’র অন্তর্ভুক্ত নয়। তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। বৈঠক সূত্রের খবর, বিজু জনতা দলের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলে জানান তিনি। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির উপস্থিতির উল্লেখ করে মমতা বোঝান, পুরনো রাজনৈতিক বিরোধ যেন বর্তমানের যৌথ আন্দোলনের পথে বাধা না হয়।
মমতার এই অবস্থানের ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল। ২৬ সেপ্টেম্বর শ্রীরামপুরের সভায় পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, জাতীয় রাজনীতিতে সিপিএমের সঙ্গে একসঙ্গে লড়তে তাঁর আপত্তি নেই। রাহুল ও বেবির সঙ্গে পৃথকভাবে ফোনে কথাও বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ছিল, কে কোন রাজনৈতিক রঙের প্রতিনিধি, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা। বুধবারের বৈঠকে সেই অবস্থানই বৃহত্তর বিরোধী যোগাযোগের প্রস্তাবে প্রতিফলিত হয়।
বৈঠকে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাও নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন তোলেন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বৈঠক সূত্রের বিবরণ অনুযায়ী, তিনি স্মরণ করান, তাঁর বাবা বরাবর মানুষকে ভোট বয়কট না করে নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহ দিয়েছেন। সেই অংশগ্রহণের ভিত্তি যে আস্থা, বর্তমান বিতর্কে তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে উদ্বেগ জানান ওমর।
বৈঠক শেষে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, ২ থেকে ৮ অক্টোবর ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ মিছিল এবং জেলাশাসকদের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ হবে। যুবসমাজ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিকেও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ৬ অক্টোবর বিরোধী সাংসদেরা নির্বাচন কমিশনের দপ্তর অভিমুখে মিছিল করবেন। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাষ্ট্রপতির কাছে বক্তব্য পেশের জন্য সময় চাওয়া হবে। দিল্লিতে ১ নভেম্বর বড় সমাবেশেরও ঘোষণা করা হয়েছে। ইভিএমের পরিবর্তে ব্যালটে ভোটের দাবিতে সবাই একমত হয়েছেন বলে দাবি করেন খাড়গে ।
এই আন্দোলনের পটভূমিতে রয়েছে কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতভেদের খবর। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু ও বিবেক জোশী গত দশ মাসে এসআইআর-সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। বিরোধীরা সেই ঘটনাকে নিজেদের অভিযোগের সমর্থন হিসেবে তুলে ধরছেন। কমিশনের বক্তব্য, প্রতিষ্ঠানের আলোচনায় ভিন্নমত স্বাভাবিক; তাদের নির্দেশগুলি আইনসম্মত এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনেই জারি হয়েছে।
সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকায় দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো আক্রান্ত। মমতা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অবিলম্বে অপসারণের দাবি তোলেন। অন্যদিকে বিজেপি বিরোধীদের এই উদ্যোগকে নির্বাচনে পরাজয়ের অজুহাত তৈরির চেষ্টা বলে কটাক্ষ করেছে। ফলে কমিশনকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের যৌথ কর্মসূচি ঘোষিত হলেও রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট। ঘোষিত কর্মসূচিগুলিতে বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণই এখন এই ঐক্যের বাস্তব পরীক্ষা হয়ে উঠবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



