তেল-চাপে মোদী-ট্রাম্প

যা জানা জরুরি
- রুশ তেল কেনা নিয়ে ভারতের উপর মার্কিন শুল্কের হুমকির আবহেই বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি-সহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একাধিক বিষয় নিয়ে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী…
- প্রধানমন্ত্রীর দফতরের (PMO) বিবৃতি অনুযায়ী, ভারত–আমেরিকা সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেছেন দুই নেতা।
- মোদী পরে জানান, “বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চলমান প্রচেষ্টা-সহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলি নিয়েও আমরা মতবিনিময় করেছি।” PMO-র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত–আমেরিকার…
বিস্তারিত প্রতিবেদন
রুশ তেল কেনা নিয়ে ভারতের উপর মার্কিন শুল্কের হুমকির আবহেই বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি-সহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একাধিক বিষয় নিয়ে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের (PMO) বিবৃতি অনুযায়ী, ভারত–আমেরিকা সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেছেন দুই নেতা।
মোদী পরে জানান, “বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চলমান প্রচেষ্টা-সহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলি নিয়েও আমরা মতবিনিময় করেছি।”
PMO-র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত–আমেরিকার “সার্বিক বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারি” আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন মোদী ও ট্রাম্প। দুই দেশের মানুষের স্বার্থে সহযোগিতা আরও গভীর করতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার ব্যাপারেও তাঁরা সম্মত হয়েছেন।
বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যেই এই ফোনালাপ তাৎপর্যপূর্ণ। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনার জটিলতার কথা তুলে ধরে বলেছিলেন, দুই পক্ষ এখন এমন একটি জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে “বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে মোটামুটি একটি বোঝাপড়া হয়েছে”। তাঁর এই মন্তব্যের পরদিনই মোদী ও ট্রাম্পের মধ্যে কথা হয়।
বাণিজ্য আলোচনার জটিলতার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ভারতের অর্থনৈতিক কাঠামো আমেরিকার থেকে অনেকটাই আলাদা। তাঁর কথায়, “মনে রাখতে হবে, ভারত ক্ষুদ্র উৎপাদকদের সমাজ—ছোট কৃষি উৎপাদক, ছোট কারখানা। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে মাথাপিছু আয়ের ব্যবধান ছাড়াও উৎপাদনের ধরন এবং সমাজের চরিত্র সম্পূর্ণ আলাদা।”
তাই বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করতে সময় ও খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন বলেই মনে করেন তিনি। জয়শঙ্করের কথায়, দ্রুত চুক্তি হয়ে যাবে বলে যে প্রত্যাশা ছিল, তা “অনেক বেশি জটিল বাস্তব পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে”। তবে তাঁর দাবি, “আজ আমরা এমন একটি জায়গায় পৌঁছেছি, যেখানে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে মোটামুটি একটি বোঝাপড়া হয়েছে।”
বাণিজ্যের পাশাপাশি ভারত–আমেরিকা সম্পর্কে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্বস্তির জায়গা তুলে ধরেছেন জয়শঙ্কর—পাকিস্তান থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদ। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে নিউ ইয়র্কে এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জয়শঙ্করের বক্তব্য, প্রতিবেশী একটি দেশ “বহু দশক ধরে ইচ্ছাকৃত ও সচেতন নীতির অঙ্গ হিসেবে” ভারতের বিরুদ্ধে যে ধরনের সন্ত্রাসবাদ চালিয়েছে, তার শিকার খুব কম দেশই হয়েছে।
এই জায়গাতেই ভারত–আমেরিকা সম্পর্কে বোঝাপড়ার ঘাটতি তৈরি হলে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিদেশমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “আমাদের কাছে এত গভীর গুরুত্বের একটি বিষয় নিয়ে যদি যথেষ্ট বোঝাপড়া, উপলব্ধি বা সহমর্মিতা না থাকে, তা হলে সেটিও সমস্যা তৈরি করে। আমার অন্যতম প্রধান উদ্বেগ যদি আমার সহযোগী পুরোপুরি উপলব্ধি না করে, তা হলে স্পষ্টতই সম্পর্কে তার প্রভাব পড়ে।”
এ দিকে, আগামী দিনে দুই দেশের শীর্ষস্তরে যোগাযোগ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে মোদীর আমেরিকা সফরের কথা রয়েছে। তার আগে অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর ভারত সফরের সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



