গ্রাম নেই, আছে হোটেল–জাহাজ–কাঠের ঘর

যা জানা জরুরি
- এশিয়ান গেমসের জন্য স্থায়ী ক্রীড়াবিদ-গ্রাম তৈরি হয়নি।
- আইচি–নাগোয়ার ১৭ হাজার খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা ছড়িয়ে আছেন হোটেল, কাঠের মডিউলার ঘর এবং ভাড়া করা প্রমোদতরীতে।
- ২৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় বাসিন্দারাও ছোট ঘর ও বিছানা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন; রয়টার্স সেদিন মাঠপ্রতিবেদন প্রকাশ করে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
এশিয়ান গেমসের জন্য স্থায়ী ক্রীড়াবিদ-গ্রাম তৈরি হয়নি। আইচি–নাগোয়ার ১৭ হাজার খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা ছড়িয়ে আছেন হোটেল, কাঠের মডিউলার ঘর এবং ভাড়া করা প্রমোদতরীতে। ২৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় বাসিন্দারাও ছোট ঘর ও বিছানা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন; রয়টার্স সেদিন মাঠপ্রতিবেদন প্রকাশ করে। আয়োজকদের যুক্তি, ব্যয় ও পরিত্যক্ত অবকাঠামো কমানো হয়েছে। বিতর্কটি তাই আরাম বনাম অপচয়ের সরল দ্বন্দ্ব নয়।
মূল ক্রীড়াবিদ-গ্রামের পরিকল্পনা খরচ নিয়ন্ত্রণে বাদ দেওয়া হয়। অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার কর্মকর্তারা বলেছেন, গেমসের পরে ব্যবহারহীন ‘সাদা হাতি’ রেখে যেতে চাননি। বিকল্প ব্যবস্থার মধ্যে ইতালীয় প্রমোদতরী কস্তা সেরেনাও আছে; অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হিসাবে সেটিতে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ থাকতে পারেন। সব অংশগ্রহণকারী একই ধরনের ঘরে নেই—একজনের অভিজ্ঞতা দিয়ে পুরো ব্যবস্থার রায় দেওয়া তাই ভুল।
অভিযোগের কেন্দ্র মডিউলার ঘরের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ, বিশেষত লম্বা খেলোয়াড়দের বিছানা। নাগোয়া টিভি টাওয়ারের কাছে রাখা নমুনা ঘর ঘুরে ৪৯ বছরের নার্স ওয়াদা রয়টার্সকে বলেছেন, পাশাপাশি দু’টি বিছানা রাখলে জায়গাটি চাপা লাগতে পারে। আইচির বাসিন্দা আতসুকো সাসা প্রস্তুতি আরও ভালো হতে পারত বলে মনে করেছেন। তাঁরা সেখানে প্রতিযোগী হিসেবে থাকেননি; নমুনা দেখে নাগরিক মত দিয়েছেন।
আয়োজক কমিটির আবাসন বিভাগের উপপরিচালক ইউতা মাৎসুও বলেছেন, বিভিন্ন উচ্চতা ও শরীরের খেলোয়াড়ের কথা শুরু থেকেই জানা ছিল। প্রতিটি বিছানার দৈর্ঘ্য বাড়াতে পায়ের দিকে আলাদা আসনজাত অংশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর ব্যাখ্যায়, ট্রাকে বহনযোগ্য সবচেয়ে বড় ইউনিটই ব্যবহার করা হয়েছে; আরও বড় হলে কারখানায় বানিয়ে সরানোর বদলে ঘটনাস্থলে স্থায়ী নির্মাণ করতে হত। এটি প্রযুক্তিগত সীমার সরকারি ব্যাখ্যা, আরামের স্বাধীন মূল্যায়ন নয়।
এর আগে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সভাপতি কার্স্টি কভেন্ট্রি আবাসন ঘুরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ, নীরবতা ও সামগ্রিক ব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ জানিয়েছিলেন। কয়েকজন খেলোয়াড় কিন্তু ছোট কক্ষ ও বিছানার অভিযোগ করেছেন। দুই ধরনের সাক্ষ্য একসঙ্গে সত্য হতে পারে, কারণ স্থান ও দেহের প্রয়োজন আলাদা। ন্যূনতম মান পূরণ করলেই প্রত্যেক ক্রীড়াবিদের ঘুম ও পুনরুদ্ধার সমান হচ্ছে না।
উচ্চমানের প্রতিযোগিতায় আবাসন ফলের প্রান্তিক কিন্তু বাস্তব অংশ। ঘুম, যাতায়াত, খাবার, ব্যক্তিগত সামগ্রী রাখার জায়গা এবং শারীরিক চিকিৎসায় পৌঁছনো—সবই প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলে। অভিযোগকে ‘খেলোয়াড়ের খুঁতখুঁতে স্বভাব’ বলা যেমন ঠিক নয়, তেমন একটি অস্বস্তিকর ঘর থেকে গোটা গেমস ব্যর্থ ঘোষণা করাও নয়। নিয়মিত সমীক্ষা ও দ্রুত ঘর বদলের ব্যবস্থা প্রয়োজন।
বিকল্প আবাসনের আরেকটি জটিলতা হল দল ছড়িয়ে থাকা। একই দেশের খেলোয়াড় হোটেল, জাহাজ ও মডিউলার ঘরে ভাগ হলে চিকিৎসক, সরঞ্জাম এবং দলের সভা সমন্বয় কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে এক কেন্দ্রে হাজার হাজার মানুষ রাখার সংক্রমণ ও নিরাপত্তা-ঝুঁকিও আছে। কোন ব্যবস্থায় কী লাভ হয়েছে, শুধু বিছানার মাপ নয়—যাত্রার সময়, অভিযোগের সংখ্যা ও চিকিৎসাসেবার প্রতিক্রিয়াও প্রকাশ করা দরকার।
প্রমোদতরী নিজে থেকে বিলাসিতার নিশ্চয়তা নয়। জানালাবিহীন কেবিন, ওঠানামার সময় এবং স্থলভাগের অনুশীলনস্থলে পৌঁছনো ক্রীড়াবিদের অভিজ্ঞতা বদলায়। আবার জাহাজে খাবার ও পরিষেবা কেন্দ্রীভূত হওয়ার সুবিধাও থাকতে পারে। একই শব্দে থাকা এই বিপরীত বাস্তবতা মাঠতথ্য ছাড়া মাপা যায় না।
বিশ্লেষণ
স্থায়ী গ্রাম না-বানানো পরিবেশ ও সরকারি ব্যয়ের পক্ষে যুক্তিসঙ্গত হতে পারে। কিন্তু স্থায়িত্বের বোঝা যেন খেলোয়াড়ের ঘুম ও মর্যাদার উপর না-পড়ে। পুনর্ব্যবহারযোগ্য ঘর কত কার্বন ও অর্থ বাঁচিয়েছে, আর অভিযোগ মেটাতে কত অতিরিক্ত পরিবহণ বা সংস্কার লেগেছে—পূর্ণ হিসাব ছাড়া ‘সবুজ’ সাফল্য মাপা যায় না।
এই গেমস ভবিষ্যৎ আয়োজকদের জন্য পরীক্ষা। বিকল্প আবাসন চলতে পারে, যদি নকশায় শরীরের বৈচিত্র্য, প্রতিবন্ধী প্রবেশ, গোপনীয়তা ও অভিযোগের প্রতিকার থাকে। সাদা হাতি না-বানানো অর্জন; ছোট বিছানাকে তার অ
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।


