সংস্কৃতি ও বিনোদন

উপন্যাসে এআই-ছায়া?

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • প্রথম বইয়েই খ্যাতি, এ বার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় লেখার অভিযোগে বিতর্কে থেলিসন ওরেলিয়াঁ কথা।
  • অভিবাসীদের যাত্রাপথ আর মানবিকতার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অনুভূতি।
  • সদ্য প্রকাশিত প্রথম উপন্যাসের প্রধান চরিত্র জোনাসের কাহিনি শোনাতে মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, এই সব কিছুকেই বেছে নিয়েছিলেন থেলিসন ওরেলিয়াঁ।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

প্রথম বইয়েই খ্যাতি, এ বার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় লেখার অভিযোগে বিতর্কে থেলিসন ওরেলিয়াঁ

কথা। গান। পাঠ। একটি গিটার। হাসি। আবেগে বুজে আসা কণ্ঠস্বর। অভিবাসীদের যাত্রাপথ আর মানবিকতার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অনুভূতি। সদ্য প্রকাশিত প্রথম উপন্যাসের প্রধান চরিত্র জোনাসের কাহিনি শোনাতে মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, এই সব কিছুকেই বেছে নিয়েছিলেন থেলিসন ওরেলিয়াঁ। হাইতি থেকে আসা এই লেখক এখন কানাডার কুইবেকের বাসিন্দা। তাঁর উপন্যাসের নাম C’était Ça ou Mourir—বাংলায় বলা যায়, ‘হয় এই পথ, নয় মৃত্যু’।

প্যারিসের মেজোঁ দ্য লা পোয়েজিতে সঙ্গীত ও বইপাঠের সেই সাহিত্যসন্ধ্যায় আমন্ত্রিত ছিলেন ৩৮ বছরের লেখক। সেখানে অনুপস্থিত ছিল শুধু একটি বিষয়—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। প্রায় চল্লিশ মিনিট তাঁর সাক্ষাৎকার নেওয়ার পরে সাংবাদিক মারি-মাদলেন রিগোপুলোসের সরল উপসংহার ছিল, “এই বইয়ের একটি আত্মা আছে। আর আত্মা আছে বলেই আমরা মানুষ।” হাততালিতে ভরে উঠেছিল সভাঘর।

প্রকাশ্য সেই আলাপচারিতায় অস্বস্তিকর প্রশ্নটি এক বারও ওঠেনি: বই লেখার সময়ে ওরেলিয়াঁ কি নতুন লেখা তৈরি করতে সক্ষম কোনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সফটওয়্যার ব্যবহার করেছিলেন?

অথচ তখনই সমাজমাধ্যম, সংবাদমাধ্যমের দফতর এবং তাঁর প্রকাশন সংস্থায় এই অভিযোগ ঘিরে ঝড় উঠেছে। সভাঘরে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্স আঁতের, এএফপি এবং আরটিএলের সাংবাদিকেরাও। তাঁদের অপেক্ষা ছিল—বিতর্ক নিয়ে লেখক নিজে কী বলেন।

ঘটনার শুরুটা একটু পিছিয়ে দেখা যাক।

ফ্রান্সে বইটি ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছে। মাত্র পাঁচ সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৩৫ হাজার কপি। গঁকুর, রেনোদো ও ফেমিনার মতো একাধিক সাহিত্য পুরস্কারের দৌড়েও রয়েছে উপন্যাসটি। সোমবার বইটি জেতে ফনাক উপন্যাস পুরস্কার। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক্সে ‘বালঁস তঁ ক্লোদ’ নামে একটি অজ্ঞাতপরিচয় অ্যাকাউন্ট বিস্ফোরক অভিযোগ তোলে: বইটি নাকি “প্রায় সম্পূর্ণটাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে লেখা”।

অভিযোগের ভিত্তি? অ্যাকাউন্টটির দাবি, বইয়ের কয়েকটি অংশ ‘প্যানগ্রাম’ দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি গদ্য শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয় এই ব্যবস্থা।

পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে সেটি এক হাজারেরও বেশি বার ভাগ করে নেওয়া হয় এবং দেখা হয় প্রায় ৪০ লক্ষ বার। বহু ব্যবহারকারী সাহিত্যসমালোচকদের বিদ্রুপ করে মন্তব্য করেন—তাঁরা নাকি সবাই বোকা বনেছেন।

ওরেলিয়াঁর ফরাসি প্রকাশক গ্রাসে মঙ্গলবার এএফপিকে জানায়, “বইটি লেখার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নেওয়া হয়েছে, অথবা সেটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়েই লেখা—এমন যে কোনও বিদ্বেষপ্রসূত দাবির আমরা তীব্র বিরোধিতা করছি। এই ধরনের অভিযোগ ব্যতিক্রমী জীবনপথ পেরিয়ে আসা লেখককে ভয়ানক ভাবে আঘাত করছে।”

অন্য দিকে, কানাডার প্রকাশনা সংস্থা বোরেয়াল জানায়, তারা “অভিযোগগুলি সম্পর্কে অবহিত” এবং বিষয়টি “হালকা ভাবে দেখছে না”। তবে একই সঙ্গে তারা “থেলিসন ওরেলিয়াঁর কাজের প্রতি আস্থা” প্রকাশ করে। গত মার্চে এই সংস্থাই প্রথম উপন্যাসটি প্রকাশ করেছিল।

লেখক নিজে মঙ্গলবার লিবেরাসিয়ঁ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি “ক্ষুব্ধ”। তাঁর কথায়, “সৃষ্টি করতে আর লিখতে আমি বরাবরই ভালবাসি। একটা যন্ত্রের দ্বারস্থ হতে যাব কেন, বুঝি না।”

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি ফ্রান্সে আসার পর থেকে একাধিক বর্ণবিদ্বেষী আক্রমণের শিকার হয়েছেন। কিন্তু এই ধরনের অভিযোগ তিনি আশা করেননি। নিজের বক্তব্যের পক্ষে প্রমাণ জোগাড় করতে ফ্রান্স ও কুইবেকের প্রকাশকদের সঙ্গে মিলে একটি নথিও তৈরি করছেন বলে জানান তিনি।

তবে অভিযোগটি যেখান থেকে শুরু হয়েছে, সেই সূত্র নিয়েই উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

হইচইয়ের কেন্দ্রে থাকা এক্স অ্যাকাউন্টটি তৈরি হয়েছিল জুনে। কিন্তু ‘বালঁস তঁ ক্লোদ’ নামে তার সক্রিয়তা শুরু হয় ঘটনার মাত্র কয়েক দিন আগে। ওরেলিয়াঁকে নিশানা করার আগে অ্যাকাউন্টটির কাজ সীমাবদ্ধ ছিল সমাজমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তোলা—তাঁরা নিজেদের পোস্ট লেখার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়েছেন। প্রমাণ হিসেবে দেখানো হত প্যানগ্রামের ফলাফলের পর্দাছবি।

হঠাৎ একটি গোটা বই ‘বিশ্লেষণ’ করতে গেলেন কেন ওই ব্যবহারকারী? কেন এই বইটিই? এবং কেন নির্দিষ্ট করে বলা হল, পরীক্ষা করা হয়েছে ওরেলিয়াঁর বইয়ের ‘পাণ্ডুলিপি’?

অ্যাকাউন্টটির নেপথ্যে কে রয়েছেন, ল্য মঁদ তা জানতে পারেনি। তবে একটি বিষয় লক্ষণীয়। ওরেলিয়াঁর বিরুদ্ধে প্রথম পোস্টটি করার সময়ে অ্যাকাউন্টটির অনুসারীর সংখ্যা ছিল একশোরও কম। কয়েক জন রক্ষণশীল ব্যক্তিত্ব পোস্টটি ছড়িয়ে না দিলে এত দ্রুত এতটা প্রচার পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল না। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ল্য ফিগারো-র স্তম্ভলেখক সামুয়েল ফিতুসি এবং অতি দক্ষিণপন্থী পত্রিকা ভাল্যুর আক্তুয়েল-এর উপপ্রধান সম্পাদক শার্ল সাপ্যাঁ।

এই বিতর্কের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও তাই আলোচনায় এসেছে। ‘হয় এই পথ, নয় মৃত্যু’-তে এক অভিবাসীর যাত্রাপথ ও মানবিক অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে। লেখক নিজেও কৃষ্ণাঙ্গ এবং অভিবাসী। দক্ষিণপন্থী মহলের একাংশের আপত্তির প্রেক্ষাপটে এই পরিচয়গুলিও আলোচনায় এসেছে।

তার সঙ্গে রয়েছে প্রকাশনা জগতের আর একটি বিতর্ক। গ্রাসের প্রাক্তন প্রধান অলিভিয়ে নোরার বেছে নেওয়া এবং তাঁর তত্ত্বাবধানে প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করা শেষ কয়েকটি বইয়ের মধ্যে ওরেলিয়াঁর উপন্যাসটিও ছিল। প্রকাশন সংস্থার মালিক, রক্ষণশীল ধনকুবের ভাঁসাঁ বলোরে এপ্রিলের মাঝামাঝি নোরাকে সরিয়ে দেন। অপসারিত প্রকাশকের প্রতি প্রকাশ্যেই সমর্থন জানিয়েছিলেন ওরেলিয়াঁ।

কিন্তু এসব প্রেক্ষাপট সরিয়ে রাখলে অভিযোগের প্রযুক্তিগত ভিত্তি কতটা শক্ত?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি লেখা শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত অল্প কয়েকটি ব্যবস্থার মধ্যে প্যানগ্রামকে সাধারণত গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় ও মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’টি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মানুষের লেখা ভুল করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লেখা হিসেবে চিহ্নিত করার হার এই ব্যবস্থায় তুলনামূলক ভাবে কম। প্রথম গবেষণায় এই ভুলের হার এক শতাংশের কম; দ্বিতীয়টিতে প্রায় দুই শতাংশ। গবেষকেরা আরও জানিয়েছেন, তাঁরা পরীক্ষা করা অন্য শনাক্তকরণ ব্যবস্থাগুলির তুলনায় প্যানগ্রামে ভুলের হার কম ছিল।

তবে এখানেই প্রশ্ন শেষ হচ্ছে না।

ওরেলিয়াঁর বইয়ের অর্ধেকেরও বেশি অংশ প্যানগ্রাম দিয়ে পরীক্ষা করেছে ল্য মঁদ। ওই ব্যবস্থার দাবি, পরীক্ষার জন্য দেওয়া লেখার ৯৫ শতাংশেরও বেশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় রচিত। এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাদের আস্থার মাত্রাও ‘উচ্চ’ বলে দেখানো হয়েছে।

তুলনার জন্য ল্য মঁদ চলতি সাহিত্য মরসুমের কয়েকটি উপন্যাস-সহ প্রায় ১৫টি উপন্যাসের শুরুর কয়েক পাতা পরীক্ষা করে। সেগুলিকে প্যানগ্রাম ‘শতভাগ মানুষের লেখা’ বলে চিহ্নিত করে।

তা সত্ত্বেও সংশয়ের জায়গা রয়ে যায়।

প্রথমত, প্যানগ্রামের কাজের পদ্ধতি অস্বচ্ছ। এটিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর। কী ভাবে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছয়, তা বাইরে থেকে বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়।

তুলুজের কম্পিউটারবিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক ওফেলি ফ্রেজিয়ে-ভানিয়ে এই ব্যবস্থায় পক্ষপাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তাঁর কথায়, “কোনও মানুষ এমন বাক্যভঙ্গি ব্যবহার করতেই পারেন, যা একটি নির্দিষ্ট বৃহৎ ভাষা-প্রতিমানও ব্যবহার করে। বিশেষ করে সেই অঞ্চলের মানুষজন যদি প্রতিমানটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজে সাহায্য করে থাকেন।”

বৃহৎ ভাষা-প্রতিমান বলতে এক ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা বোঝানো হয়।

ফ্রেজিয়ে-ভানিয়ে আরও বলেন, “‘চিরাচরিত’ গদ্যের তুলনায় কোনও লেখার গঠন অস্বাভাবিক হলে পরীক্ষার ফল বিকৃত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।”

ল্য মঁদ এই সম্ভাবনাটি যাচাই করার চেষ্টা করেছিল। তবে তার সমর্থনে কিছু মেলেনি। পত্রিকাটি পুরনো পাঁচটি উপন্যাস পরীক্ষা করে—প্রত্যেকটিই রীতিভাঙা আঙ্গিকে লেখা। প্যানগ্রাম পাঁচটিকেই ‘শতভাগ মানুষের লেখা’ বলে চিহ্নিত করে।

এই ব্যবস্থার পিছনে থাকা মার্কিন সংস্থা ল্য মঁদ-এর প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করেছে।

ফ্রেজিয়ে-ভানিয়ে আরও একটি সমস্যার কথা মনে করিয়ে দেন। ইংরেজি ছাড়া অন্য ভাষায় ব্যবহার করা হলে এই ধরনের ব্যবস্থার নির্ভুলতা সাধারণত কমে যায়। অনলাইনে প্রকাশিত প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যায় প্যানগ্রামও বিষয়টি স্বীকার করেছে, যদিও সমস্যাটির ব্যাপ্তিকে তারা তুলনামূলক ভাবে ছোট করে দেখিয়েছে।

মঙ্গলবার মেজোঁ দ্য লা পোয়েজির শ্রোতাদের ওরেলিয়াঁ নিজেই মনে করিয়ে দেন, তাঁর বই “ফরাসিতে লেখা। কিন্তু অভিবাসীরা নিজেদের মধ্যে যখন কথা বলেন, তখন তাঁরা তাঁদের মাতৃভাষায় কথা বলেন”—পাশাপাশি ফরাসিতেও।

আর এখানেই বিতর্কটি আরও জটিল।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে প্রকাশনা জগতে, বিশেষ করে ইংরেজি ভাষার বইয়ের ক্ষেত্রে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে আরও কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।

মার্চে হ্যাশেট একটি ভৌতিক উপন্যাসের মার্কিন প্রকাশনা বাতিল করে। বইটি তত দিনে ব্রিটেনে প্রকাশিত হয়ে গিয়েছিল। কিছু তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রকাশকের সন্দেহ হয়, বইটি লেখার কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হয়েছে।

লেখিকা মিয়া ব্যালার্ড দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-কে পাঠানো ইমেলে অভিযোগ দৃঢ় ভাবে অস্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য, পরিচিত এক ব্যক্তি বইটির একটি সংস্করণ সম্পাদনা করতে গিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, “যা আমি নিজে করিইনি, তার জন্য আমার সুনাম ধ্বংস হয়ে গেল।”

জুলাইয়ে একই ধরনের অভিযোগের পরে আরও একটি প্রকাশনা চুক্তি বাতিল হয়। সেটি ছিল অপরাধকাহিনি। সেই বইয়ের লেখক জেরি ফালাডেও অভিযোগ মানেননি। দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া বক্তব্যে অভিযোগগুলিকে ‘গুজব’ বলেন তিনি। তাঁর যুক্তি, উপন্যাসটির একাধিক দফায় সম্পাদনা হয়েছে। “পাণ্ডুলিপিতে যদি সত্যিই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় লেখার লক্ষণ থাকত, তা হলে এত জন অভিজ্ঞ পেশাদারের প্রত্যেকের চোখ এড়িয়ে গেল—এ কথা বিশ্বাস করা কঠিন।”

ওরেলিয়াঁর উপন্যাস-সহ এই ঘটনাগুলিতে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠছে—সাহিত্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ যত বাড়ছে, ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে তা শনাক্ত করার প্রযুক্তি। কিন্তু কোনও শনাক্তকরণ ব্যবস্থার ফলাফলই একা লেখকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। বিশেষ করে যখন ব্যবস্থাটির কার্যপদ্ধতি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ নয় এবং ভাষা ও লেখনশৈলীর মতো বিষয় ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

সমস্যাটা আরও বড় হয় যখন সন্দেহের ফল কয়েক সেকেন্ডেই ছড়িয়ে পড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে। তখন অভিযোগটি প্রমাণিত কি না, তার চেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে অভিযোগের ছাপ। নিজের লেখা যে নিজেরই, সেটি প্রমাণের দায়ও তখন লেখকের উপর এসে পড়ে।

গ্রাসের এক ব্যক্তি ল্য মঁদ-কে জানিয়েছেন, ওরেলিয়াঁ এই উপন্যাস লেখা শুরু করেছিলেন ২০১৭ সালে। এত দীর্ঘ সময় ধরে লেখার কাজ চলায় নিজের লেখকত্বের পক্ষে প্রয়োজনীয় খসড়া, নোট বা অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ একত্র করা তাঁর পক্ষে আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

শেষ পর্যন্ত তাই প্রশ্নটি শুধু থেলিসন ওরেলিয়াঁর নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে কোনও লেখা মানুষ লিখেছেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমরা কতটা নিশ্চিত হতে পারি—সাহিত্যজগতে সেই প্রশ্নটিও ক্রমশ বড় হয়ে উঠছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles