আদানির মামলায় এক সপ্তাহ জেলে কাটিয়ে জামিন পেলেন সাংবাদিক রবি নায়ার

যা জানা জরুরি
- আদানি এন্টারপ্রাইজেসের দায়ের করা ফৌজদারি মানহানির মামলায় এক সপ্তাহ জেলে কাটানোর পরে জামিন পেলেন সাংবাদিক রবি নায়ার।
- বৃহস্পতিবার গান্ধীনগরের প্রধান জেলা ও দায়রা বিচারক তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছেন বলে জানিয়েছেন নায়ারের আইনজীবী রনিথ জয়।
- বৃহস্পতিবার আদালতে জামিনের আবেদনের পক্ষে সওয়াল করেন জয়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
আদানি এন্টারপ্রাইজেসের দায়ের করা ফৌজদারি মানহানির মামলায় এক সপ্তাহ জেলে কাটানোর পরে জামিন পেলেন সাংবাদিক রবি নায়ার। বৃহস্পতিবার গান্ধীনগরের প্রধান জেলা ও দায়রা বিচারক তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছেন বলে জানিয়েছেন নায়ারের আইনজীবী রনিথ জয়।
বৃহস্পতিবার আদালতে জামিনের আবেদনের পক্ষে সওয়াল করেন জয়। তিনি বলেন, “আদালতের নির্দেশ জেল কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছনোর পরে এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ হলে শুক্রবার তাঁর মুক্তি পাওয়ার কথা।”
এর আগের দিনই গুজরাত হাই কোর্ট নায়ারকে অন্তর্বর্তী স্বস্তি দিতে রাজি হয়নি। যে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানার জেরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, সেটিকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে আবেদন করেছিলেন তিনি। দায়রা আদালতের জারি করা ওই পরোয়ানার বিরুদ্ধে আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি এম কে ঠক্কর রায়দান স্থগিত রাখেন। তিনি জানান, ৩০ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণা করা হবে।
অন্তর্বর্তী মুক্তির জন্য নায়ারের আবেদনও খারিজ করে হাই কোর্ট জানায়, মামলার শুনানি ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং রায় লেখানোর জন্য তা রাখা হয়েছে।
পরোয়ানা ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়ে যাওয়ার পরে তার বিরুদ্ধে নায়ারের চ্যালেঞ্জ নিয়েও প্রশ্ন তোলে হাই কোর্ট। একই সঙ্গে আদালত উল্লেখ করে, নায়ার যে নিয়মিত জামিন চেয়ে গান্ধীনগরের দায়রা আদালতেও আবেদন করেছেন, সে কথা তিনি হাই কোর্টকে জানাননি।
দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায়ের বিরুদ্ধে নায়ারের আপিলের একটি শুনানিতে তিনি সশরীরে হাজির না হওয়ায় জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। সেই পরোয়ানা বাতিলের আবেদন গান্ধীনগরের দায়রা আদালত খারিজ করার পরে, ১৭ সেপ্টেম্বর তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
নায়ারের লেখা বলে উল্লেখ করা কয়েকটি টুইট ও নিবন্ধকে কেন্দ্র করে ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ফৌজদারি মানহানির মামলা দায়ের করে আদানি এন্টারপ্রাইজেস। সেই মামলায় ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি গান্ধীনগরের মানসার একটি আদালত তাঁকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়।
দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায়কে চ্যালেঞ্জ করে গান্ধীনগরের আপিল আদালতে যান নায়ার। ২০২৬ সালের ৯ মার্চ তাঁকে জামিন দেয় সেই আদালত। শর্ত ছিল, আপিলের শুনানিতে তাঁকে উপস্থিত থাকতে হবে।
তবে তাঁর আইনজীবীদের বক্তব্য, অসুস্থতার কারণে ২০২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে তিনি সশরীরে হাজির হতে পারেননি। আদালতে আসতে তাঁকে নিজের রাজ্য কেরল থেকে যাতায়াত করতে হয়।
বুধবার হাই কোর্টে নায়ারের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী অভীক চিমনি বলেন, প্রথমে সমন কিংবা জামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি না করে সরাসরি জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে দায়রা আদালত ভুল করেছে।
চিমনি জানান, আপিলের শুনানির জন্য নির্ধারিত আটটি তারিখের মধ্যে তিন দিন নায়ার হাজির ছিলেন। আরও এক দিন তাঁকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। নায়ার ছ’মাস ধরে অনুপস্থিত ছিলেন বলে দায়রা আদালতের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন তিনি।
আদানি গোষ্ঠীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী মিতেশ আমিন হাই কোর্টে নায়ারের আবেদনের বিরোধিতা করেন। তাঁর যুক্তি, আপিলের কার্যক্রম চলাকালীন নায়ারের আচরণ আদালতের বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
আমিন বলেন, নায়ারের আপিল গৃহীত হওয়া এবং সাজা কার্যকর করা স্থগিত হওয়ার পরে তিনি অতিরিক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ পেশের অনুমতি চেয়েছিলেন। আদানি গোষ্ঠীর অভিযোগ, এর ফলে আপিলের নিষ্পত্তি বিলম্বিত হচ্ছিল।
গান্ধীনগরের আদালতে নিয়মিত জামিনের আবেদন বিবেচনাধীন থাকার মধ্যেই বৃহস্পতিবার হেফাজত থেকে মুক্তি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হন নায়ার।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



