সংস্কৃতি ও বিনোদন

ঘরেই ব্যাকরুমস

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • ইন্টারনেটের ‘ব্যাকরুমস’-এর সেই অস্বস্তিকর জগৎ এবার আরও একবার ঢুকে পড়ছে দর্শকের ঘরে।
  • কিশোর বয়সে অনলাইনে ছোট ছবি বানিয়ে ‘ব্যাকরুমস’কে জনপ্রিয় করে তোলা কেইন পারসন্সের পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবিটি ২৫ সেপ্টেম্বর এইচবিও ম্যাক্সে আসছে।
  • ছবিতে চিওয়েটেল এজিওফর এক আসবাবের দোকানের মালিকের চরিত্রে, যিনি হঠাৎ ওই অস্বাভাবিক গোলকধাঁধায় হারিয়ে যান।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

প্রতিবেদন

হলুদ দেয়াল। গুনগুনে ফ্লুরোসেন্ট আলো। ফাঁকা করিডর। দরজা নেই, জানালা নেই, অথচ বেরোনোর পথও নেই। ইন্টারনেটের ‘ব্যাকরুমস’-এর সেই অস্বস্তিকর জগৎ এবার আরও একবার ঢুকে পড়ছে দর্শকের ঘরে।

কিশোর বয়সে অনলাইনে ছোট ছবি বানিয়ে ‘ব্যাকরুমস’কে জনপ্রিয় করে তোলা কেইন পারসন্সের পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবিটি ২৫ সেপ্টেম্বর এইচবিও ম্যাক্সে আসছে। পরদিন এইচবিও চ্যানেলে রাত আটটায় দেখানো হবে। ছবিতে চিওয়েটেল এজিওফর এক আসবাবের দোকানের মালিকের চরিত্রে, যিনি হঠাৎ ওই অস্বাভাবিক গোলকধাঁধায় হারিয়ে যান। তাঁকে অনুসরণ করতে গিয়ে একই জায়গায় ঢুকে পড়েন তাঁর থেরাপিস্টের চরিত্রে রেনাতে রেইনসভে।

‘ব্যাকরুমস’-এর গল্প অবশ্য পারসন্সের একার নয়। ২০১৯ সালে একটি অনলাইন বার্তাবোর্ডে ফাঁকা ঘরের একটি ছবি এবং অল্প কয়েক লাইনের ভয়াল বর্ণনা থেকেই শুরু। তার পর ইন্টারনেটের অসংখ্য ব্যবহারকারী তাতে যোগ করেছেন নতুন চরিত্র, প্রাণী, নিয়ম এবং গল্প। পারসন্সের ইউটিউব শর্টস ও ধারাবাহিক সেই ছড়িয়ে থাকা লোককথাকে একটি নির্দিষ্ট দৃশ্যভাষা দেয়। পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবির চিত্রনাট্যে যুক্ত হয়েছেন উইল সোদিক, প্রযোজনায় এ২৪।

তাই ‘ইন্টারনেটের বানানো’ এবং ‘পারসন্সের ছবি’—দুই কথাই একসঙ্গে সত্যি, তবে পুরোপুরি নয়। মূল ধারণার ইতিহাস যৌথ ও বিকেন্দ্রীভূত; আর চলচ্চিত্রের নির্দিষ্ট চরিত্র, চিত্রনাট্য ও নির্মাণের স্বত্ব আলাদা বিষয়।

বাণিজ্যিক প্রতিবেদনে ছবিটির বিশ্বব্যাপী টিকিট-আয় ৩৬৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেটি প্রেক্ষাগৃহের মোট বক্স অফিস। পুরো অর্থ প্রযোজকের পকেটে যায়নি—হলের ভাগ, পরিবেশনের খরচ, বিপণন ও কর বাদ দিলে হিসাব অনেকটাই বদলে যায়। আবার অনলাইনে ‘ব্যাকরুমস’ নিয়ে বিপুল আগ্রহ ছিল বলেই ছবির প্রত্যেক দর্শক আগের ওয়েবকাহিনি জানতেন, এমনটাও ধরে নেওয়া যায় না। হলুদ দেওয়াল আর শেষ না-হওয়া করিডরের অস্বস্তি একাই নতুন দর্শক টানার মতো যথেষ্ট হতে পারে।

ছবির নির্মাণেও রয়েছে পুরনো এক কৌশলের নতুন ব্যবহার। নির্মাতারা কম্পিউটার-নির্ভর জগতের বদলে বড় ব্যবহারিক সেট তৈরি করেছেন বলে মুক্তির পরের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বাস্তব করিডর, ক্যামেরার কোণ এবং ডিজিটাল সম্প্রসারণ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে অসীম জায়গার ভ্রম। তাই ‘সিজিআই নেই’ বলা ঠিক হবে না; বরং বাস্তব সেটই ছিল সেই ভয়ের ভিত্তি। ফলে ছবির প্রযুক্তিগত সৌন্দর্যের আড়ালে সেট নির্মাতা, ক্যামেরাকর্মী এবং ভিএফএক্স শিল্পীদের যৌথ শ্রমও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষণ

এইচবিও ম্যাক্সে ‘ব্যাকরুমস’-এর ফেরা যেন গল্পটির নিজস্ব যাত্রাকেই অনুসরণ করে। যে দুঃস্বপ্ন একসময় কম্পিউটার স্ক্রিনে জন্মেছিল, সেটিই প্রথমে বড় পর্দায় পৌঁছেছে, এবার ফিরছে ঘরের পর্দায়। সিনেমা হলে বিশাল করিডরের মাপ, শব্দ আর অন্ধকার ভয় তৈরি করে এক ভাবে। টেলিভিশন বা ফোনে সেই একই হলুদ ঘর আবার অস্বস্তি তৈরি করতে পারে অন্যভাবে—কারণ সেটি দর্শকের নিজের ঘরের পরিচিত পর্দার মধ্যে ঢুকে পড়ে।

এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও বড় একটি প্রশ্ন: যৌথ অনলাইন সংস্কৃতিকে যখন স্টুডিয়ো সিনেমায় পরিণত করা হয়, তখন সেই গল্পের মালিক কে?

অসংখ্য অজ্ঞাত ব্যবহারকারীর যোগ করা ধারণা থেকে তৈরি কোনও ছবি বিপুল ব্যবসা করলে সাংস্কৃতিক ঋণের হিসাব কোথায়? আইনি মালিকানা আর সাংস্কৃতিক অবদান এক জিনিস নয়। পারসন্সের নির্মাণশক্তি ও নিজস্ব অবদানকে অস্বীকার না করেও ‘ব্যাকরুমস’-এর বহু মানুষের তৈরি হওয়ার ইতিহাস মনে রাখা জরুরি।

২৫ সেপ্টেম্বরের স্ট্রিমিং তাই শুধু আরেকটি মুক্তির ধাপ নয়। এটি ইন্টারনেট-জন্ম এক লোককথার নতুন পর্ব। তবে সদস্যসংখ্যা বা দেখার মিনিটের হিসাব এখনও প্রকাশিত হয়নি। ফলে এখনই ‘স্ট্রিমিং রেকর্ড’ বলা ঠিক হবে না।

পারসন্সের বয়স নিয়েও প্রচারের সময় একটু সতর্কতা দরকার। তিনি কিশোর বয়সেই ওয়েব-ধারাটি শুরু করেছিলেন এবং পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবির সময় তাঁর বয়স প্রায় ২০–২১ বছর বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে; হিসাবের তারিখভেদে সংখ্যায় সামান্য পার্থক্য রয়েছে। ‘বিশ বছর বয়সি পরিচালক’-এর গল্প নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়। কিন্তু তাতে ছবিটির পেছনে থাকা শত শত নির্মাণকর্মী, অভিনেতা, প্রযুক্তিবিদ এবং অভিজ্ঞ প্রযোজকদের কাজ যেন আড়ালে না যায়। তরুণ পরিচালকের দৃষ্টিই ছবির কেন্দ্র, কিন্তু ৩৬৬ মিলিয়ন ডলারের একটি চলচ্চিত্র কখনও একা একজনের তৈরি নয়।

স্ট্রিমিং সংস্করণে ছবির অনুপাত, শব্দমিশ্রণ বা অতিরিক্ত দৃশ্যে কোনও পরিবর্তন হয়েছে কি না, এইচবিওর ঘোষণায় তা স্পষ্ট নয়। ঘরে অন্ধকার ছবি দেখতে গিয়ে দর্শক যদি পর্দার উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে দেন, বদলে যেতে পারে আলো-নকশার অভিজ্ঞতাও। হেডফোন, টেলিভিশন বা ছোট পর্দার শব্দও সিনেমা হলের সঙ্গে এক নয়। তাই প্রেক্ষাগৃহের অভিজ্ঞতা আর ঘরে দেখার অভিজ্ঞতাকে সরাসরি এক পাল্লায় মাপা কঠিন।

শেষ পর্যন্ত ‘ব্যাকরুমস’-এর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হয়তো এটাই—একটি ফাঁকা ঘর থেকে শুরু হয়েছিল যার গল্প, সেটিই এখন কোটি কোটি ডলারের সিনেমা হয়ে দর্শকের ঘরে ঢুকছে। অথচ দরজা? সেটি এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles