রক্তপরীক্ষা বনাম ইউ-রিদম: কোমরের যন্ত্র দেখল রাতের হরমোন-ঢেউ

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: কোমরে বাঁধা ছোট স্বয়ংক্রিয় নমুনা-সংগ্রাহক ব্যবহার করে উচ্চ রক্তচাপের একটি বহুল অনির্ণীত কারণের রাতের সংকেত পেয়েছেন ইউরোপের গবেষকেরা।
- প্রাথমিক অ্যালডোস্টেরোনিজমে আক্রান্ত মানুষের অ্যালডোস্টেরোন হরমোন সব সময় সমান উঁচু থাকে না; ঘুমের সময়ে ঢেউয়ের মতো নিঃসরণ ঘটতে পারে।
- ফলে দিনের একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে নেওয়া রক্তের নমুনায় রোগটি বাদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: কোমরে বাঁধা ছোট স্বয়ংক্রিয় নমুনা-সংগ্রাহক ব্যবহার করে উচ্চ রক্তচাপের একটি বহুল অনির্ণীত কারণের রাতের সংকেত পেয়েছেন ইউরোপের গবেষকেরা। প্রাথমিক অ্যালডোস্টেরোনিজমে আক্রান্ত মানুষের অ্যালডোস্টেরোন হরমোন সব সময় সমান উঁচু থাকে না; ঘুমের সময়ে ঢেউয়ের মতো নিঃসরণ ঘটতে পারে। ফলে দিনের একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে নেওয়া রক্তের নমুনায় রোগটি বাদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ব্রিস্টল, ম্যানচেস্টার, বার্গেন, স্টকহোম ও এথেন্সের গবেষকদের কাজটি সায়েন্স ট্রান্সলেশনাল মেডিসিন-এ প্রকাশিত হয়েছে। প্রমাণ-ধারণার এই গবেষণায় ৬০ জন রোগীকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করা হয়। কোমরে মোবাইল ফোনের সমান ইউ-রিদম যন্ত্র বেঁধে প্রতি ২০ মিনিটে ত্বকের নিচের তরল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা হাসপাতালে স্থির হয়ে না-থেকে বাড়িতে স্বাভাবিক কাজ ও ঘুম চালিয়ে যেতে পেরেছেন।
অ্যালডোস্টেরোন কিডনিকে সোডিয়াম ও জল ধরে রাখতে এবং পটাশিয়াম বের করতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত নিঃসরণ রক্তচাপ বাড়াতে পারে। প্রাথমিক অ্যালডোস্টেরোনিজমে সমস্যা সরাসরি একটি বা দুইটি অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে আসে। গবেষণা-পরিচিতি অনুযায়ী, উচ্চ রক্তচাপ থাকা মানুষের সর্বোচ্চ প্রতি পাঁচজনে একজনের মধ্যে এই কারণ থাকতে পারে; তবে হারটি পরীক্ষার মানদণ্ড ও রোগীগোষ্ঠীভেদে বদলায়।
যন্ত্রটি অ্যালডোস্টেরোনের পাশাপাশি ১৮-হাইড্রক্সিকর্টিসল ও ১৮-অক্সোকর্টিসল মেপেছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, গুরুতর রোগীরও কোনও কোনও সময়ে অ্যালডোস্টেরোন প্রচলিত নির্ণয়-সীমার নিচে নামছে। কিন্তু রাতের বেলায় বারবার স্পষ্ট নিঃসরণ-ঢেউ হচ্ছে। একটি অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির সমস্যায় আক্রান্তদের মধ্যে এই ঢেউ বিশেষভাবে প্রবল ছিল।
অসুস্থ গ্রন্থি অস্ত্রোপচারে বাদ দেওয়ার পরে অস্বাভাবিক রাতের ধরন মিলিয়ে যায়। রোগটির সঙ্গে ঢেউয়ের সম্পর্ক আছে—এই পর্যবেক্ষণ সেই ব্যাখ্যাকে শক্ত করে। তবে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন কি না নির্ধারণে বর্তমানে ব্যবহৃত হরমোন-পরীক্ষা, স্ক্যান ও অ্যাড্রিনাল শিরা থেকে নমুনার বিকল্প হিসেবে যন্ত্রটি এখনও অনুমোদিত নয়।
ইউ-রিদম প্রযুক্তিটি ২০২৩ সাল থেকে ডায়নামিক থেরাপিউটিকস নামে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে আরও উন্নত করা হচ্ছে। তাই গবেষণার বৈজ্ঞানিক ফল এবং ভবিষ্যৎ পণ্যের দাবি আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।
বিশ্লেষণ: একবারের পরীক্ষার সীমা দেখানো মানে বর্তমান সব পরীক্ষা অকার্যকর—এমন নয়। অ্যালডোস্টেরোন-রেনিন অনুপাত, রোগীর ওষুধ, পটাশিয়াম, শরীরের ভঙ্গি ও দিনের সময় বিবেচনা করেই চিকিৎসকেরা পরীক্ষা ব্যাখ্যা করেন। নতুন যন্ত্র ছোট একটি নির্বাচিত গোষ্ঠীতে পর্যবেক্ষণ করেছে; সাধারণ জনগোষ্ঠীতে ভুল ইতিবাচক ফল ও খরচ জানা নেই।
তবে হরমোনকে স্থির সংখ্যা নয়, সময়ের সঙ্গে ওঠানামা করা সংকেত হিসেবে মাপার মূল্য স্পষ্ট। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ নির্ণয় উন্নত করলে অকার্যকর সাধারণ চিকিৎসার বদলে লক্ষ্যভিত্তিক ওষুধ বা উপযুক্ত ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার সম্ভব হতে পারে। তার আগে বৃহত্তর তুলনামূলক পরীক্ষা ও ব্যবহারযোগ্য নির্ণয়-সীমা প্রয়োজন।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।
স্বাস্থ্য সতর্কতা: এটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। পরীক্ষা বা চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিবন্ধিত চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নিন।



