বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বিজ্ঞানের নতুন ‘হাইব্রিড’ ইঁদুর: ইঁদুরের মস্তিষ্কে মানব কর্টেক্স

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: মানুষের ত্বক বা রক্তের কোষ থেকে পরীক্ষাগারে তৈরি মস্তিষ্কসদৃশ ক্ষুদ্র টিস্যু বিশেষভাবে জিন-পরিবর্তিত ইঁদুরের মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপন করে কার্যকর স্নায়ু-সংযোগ তৈরি করেছেন স্ট্যানফোর্ড মেডিসিনের…
  • ১৬ সেপ্টেম্বর নেচার-এ প্রকাশিত কাজটি গর্ভাবস্থায় শুরু হওয়া সেরিব্রাল পালসি, মৃগী, সিজোফ্রেনিয়া এবং অটিজমের কয়েকটি গুরুতর রূপ নিয়ে গবেষণার নতুন প্রাণী-মডেল দিয়েছে।
  • এটি চিকিৎসা নয় এবং মানুষের মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপনের পরীক্ষাও নয়।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: মানুষের ত্বক বা রক্তের কোষ থেকে পরীক্ষাগারে তৈরি মস্তিষ্কসদৃশ ক্ষুদ্র টিস্যু বিশেষভাবে জিন-পরিবর্তিত ইঁদুরের মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপন করে কার্যকর স্নায়ু-সংযোগ তৈরি করেছেন স্ট্যানফোর্ড মেডিসিনের গবেষকেরা। ১৬ সেপ্টেম্বর নেচার-এ প্রকাশিত কাজটি গর্ভাবস্থায় শুরু হওয়া সেরিব্রাল পালসি, মৃগী, সিজোফ্রেনিয়া এবং অটিজমের কয়েকটি গুরুতর রূপ নিয়ে গবেষণার নতুন প্রাণী-মডেল দিয়েছে। এটি চিকিৎসা নয় এবং মানুষের মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপনের পরীক্ষাও নয়।

গবেষকেরা প্রথমে দাতার কোষকে বহু ধরনের কোষ তৈরিতে সক্ষম স্টেম কোষে ফিরিয়ে নিয়ে সেরিব্রাল কর্টেক্সের ‘অর্গানয়েড’ বানান। প্রচলিত পাত্রে এসব ত্রিমাত্রিক টিস্যু তৈরি হলেও রক্তনালি, সংবেদনশীল উদ্দীপনা, প্রতিরোধকোষ ও শরীরের অন্য অংশের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকায় স্নায়ুকোষের পরিণতি অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
নতুন পদ্ধতিতে এমন ইঁদুর তৈরি করা হয়েছে, যাদের ভ্রূণাবস্থায় কর্টেক্স ও স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত হিপোক্যাম্পাসের অধিকাংশ গড়ে ওঠে না। পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় তাদের স্বাভাবিক ইঁদুরের কর্টেক্সের সমতুল্য টিস্যু ছিল মাত্র দুই শতাংশ। এই বড় শূন্যস্থানে দুই দিন বয়সী শাবকের মস্তিষ্কে প্রায় এক লক্ষ কোষের একাধিক মানব-অর্গানয়েড বসানো হয়।
তিন মাস পরে ইঁদুরের কর্টেক্স-অঞ্চলের আয়তনের ৯০ শতাংশের বেশি মানবকোষজাত টিস্যু দখল করেছিল। স্নায়ুতন্তু ইঁদুরের মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে। তিন থেকে ছয় মাস পরে এসব ‘জেনোকর্টিক্যাল’ ইঁদুরের সাধারণ আচরণ সমবয়সী স্বাভাবিক ইঁদুরের কাছাকাছি ছিল। তবে মূল জিন-পরিবর্তিত ইঁদুরগুলির হাঁটা সামান্য বেশি সতর্ক এবং নতুন পরিবেশ মনে রাখার ক্ষমতা কিছুটা কম ছিল।
পাঁচ ঘণ্টা কম অক্সিজেনে রাখার পরীক্ষায় মানবকোষজাত কর্টেক্সে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয় এবং ইঁদুরগুলির হাঁটা ও ভারসাম্যে সমস্যা দেখা যায়। একই পরিবেশে সাধারণ ও মানবটিস্যুহীন জিন-পরিবর্তিত ইঁদুর প্রায় অক্ষত ছিল। এটি মানুষের বিকাশমান স্নায়ুকোষ অক্সিজেনের অভাবে কেন বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা পরীক্ষার সুযোগ দেয়। ফলটি অবশ্য একটি নিয়ন্ত্রিত প্রাণী-পরীক্ষা; মানবশিশুর চিকিৎসায় সরাসরি প্রয়োগযোগ্য নয়।
আরও বিস্ময়কর, প্রতিস্থাপিত টিস্যুতে ভন ইকোনোমো নিউরন পাওয়া গেছে। প্রায় প্রতি ৯০ হাজার কর্টিক্যাল স্নায়ুকোষে একটি করে থাকা এই বড়, চুরুট-আকৃতির কোষ আগে মূলত মৃত মানুষের মস্তিষ্কে দেখা গিয়েছিল। মানুষ ছাড়াও বৃহৎ মস্তিষ্ক ও জটিল সামাজিক আচরণের কয়েকটি প্রাণীতে এটি থাকে। ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়ায় কোষটি বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিশ্লেষণ: ‘মানব-মস্তিষ্কযুক্ত ইঁদুর’ বলা বিভ্রান্তিকর। প্রাণীগুলির নিজস্ব স্নায়ুতন্ত্র অক্ষত; প্রতিস্থাপিত অংশটি পূর্ণ মানব-মস্তিষ্ক নয়, কর্টেক্সের নির্বাচিত কোষের মডেল। তবু মানবটিস্যুর আয়তন, সংযোগ ও আচরণগত প্রভাব বাড়লে প্রাণীর সম্ভাব্য যন্ত্রণা এবং নতুন জ্ঞানগত ক্ষমতা নিয়মিত পরীক্ষা প্রয়োজন। গবেষণাটির অর্গানয়েড ও প্রতিস্থাপন প্রযুক্তিতে স্ট্যানফোর্ডের পেটেন্টও রয়েছে; চিকিৎসাগত সম্ভাবনার পাশাপাশি বাণিজ্যিক স্বার্থ তাই প্রকাশ্য রাখা জরুরি।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles