ঐশ্বর্যাকে ফিরিয়েছিলেন সুভাষ, ‘ইরুভার’-এ বদলাল মত

যা জানা জরুরি
- ঐশ্বর্যা রাই বচ্চনের অভিনয়জীবনের অন্যতম স্মরণীয় চরিত্র ‘তাল’-এর মানসী।
- অথচ ১৯৯৯ সালের সেই ছবির জন্য প্রথমে তাঁকে একেবারেই উপযুক্ত মনে হয়নি পরিচালক সুভাষ ঘাইয়ের।
- বিশ্বসুন্দরীর মুকুটজয়ী ঐশ্বর্যাকে তখন তাঁর চোখে অভিনয়ের চেয়ে সৌন্দর্য, বিজ্ঞাপন এবং মডেলিংয়ের জগতের মুখ হিসেবেই বেশি মনে হয়েছিল।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ঐশ্বর্যা রাই বচ্চনের অভিনয়জীবনের অন্যতম স্মরণীয় চরিত্র ‘তাল’-এর মানসী। অথচ ১৯৯৯ সালের সেই ছবির জন্য প্রথমে তাঁকে একেবারেই উপযুক্ত মনে হয়নি পরিচালক সুভাষ ঘাইয়ের। বিশ্বসুন্দরীর মুকুটজয়ী ঐশ্বর্যাকে তখন তাঁর চোখে অভিনয়ের চেয়ে সৌন্দর্য, বিজ্ঞাপন এবং মডেলিংয়ের জগতের মুখ হিসেবেই বেশি মনে হয়েছিল। মণি রত্নমের তামিল ছবি ‘ইরুভার’-এ তাঁর অভিনয় দেখার পরই অবশ্য বদলে যায় পরিচালকের সেই ধারণা।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে সুভাষ জানান, ‘তাল’-এর নায়িকা বাছাইয়ের সময় তাঁর সামনে ছিল কঠিন একটি শর্ত—অভিনয়ের পাশাপাশি নাচেও দক্ষ হতে হবে অভিনেত্রীকে। তাই নৃত্যপরিচালক সরোজ খানের কাছে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, মাধুরী দীক্ষিতকে বাদ দিলে সেই সময়ের নায়িকাদের মধ্যে কে সবচেয়ে ভাল নাচতে পারেন।
উত্তর পেতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি সরোজ। তাঁর পছন্দ ছিল ঐশ্বর্যাই।
কিন্তু সেই নাম শুনে অবাক হয়েছিলেন সুভাষ। তাঁর কথায়, “আমি সরোজকে বলেছিলাম, ঐশ্বর্যা তো প্রসাধনের জগতের মানুষ।”
১৯৯৪ সালে বিশ্বসুন্দরীর খেতাব জেতার পর ঐশ্বর্যার পরিচিতি তখন মূলত সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞাপন এবং মডেলিংকে ঘিরেই। তাঁর কয়েকটি ছবি দেখেও সুভাষের মনে হয়েছিল, ক্যামেরার সামনে মডেল হিসেবেই তিনি বেশি স্বচ্ছন্দ। ফলে পাহাড়ি এলাকার সহজ-সরল, মাটির কাছাকাছি থাকা তরুণী মানসীর চরিত্রে ঐশ্বর্যাকে কেমন লাগবে, তা নিয়ে তাঁর যথেষ্ট সংশয় ছিল।
সেই সংশয় কাটল ‘ইরুভার’ দেখার পর।
এক বন্ধুর পরামর্শে মণি রত্নমের ছবিটি দেখেন সুভাষ। মণি তাঁর জন্য ছবিটির একটি বিশেষ প্রদর্শনেরও ব্যবস্থা করেছিলেন। পর্দায় ঐশ্বর্যার অভিনয় দেখেই পরিচালকের চোখ খুলে যায়। তিনি বুঝতে পারেন, শুধু সৌন্দর্য নয়, অভিনয়ের গভীরতাও রয়েছে এই অভিনেত্রীর মধ্যে। মানসীর চরিত্রের জন্য শেষ পর্যন্ত ঐশ্বর্যাই হয়ে ওঠেন তাঁর প্রথম পছন্দ।
তবে সুভাষের পরিকল্পনা ছিল বেশ স্পষ্ট। ছবির শুরুতে ঐশ্বর্যার মুখে থাকবে না প্রায় কোনও প্রসাধনই। সাধারণ গ্রামের মেয়ে মানসী যখন ধীরে ধীরে সঙ্গীতজগতের তারকা হয়ে উঠবে, তার সঙ্গে বদলাবে পোশাক, সাজসজ্জা এবং ব্যক্তিত্বও। গল্পের শেষে সেই সাধারণ মেয়েকেই দেখা যাবে এক ঝলমলে তারকার রূপে।
ঐশ্বর্যা এই পরিকল্পনায় আপত্তি করেননি। বরং পরিচালকের ভাবনাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করে নিজেকে চরিত্রের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। তাঁর এই পেশাদারিত্বের প্রশংসা করতে গিয়ে সুভাষ অমিতাভ বচ্চনের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এত বড় তারকা হয়েও অমিতাভ পরিচালকের নির্দেশের প্রতি যে আস্থা রাখেন, ঐশ্বর্যার মধ্যেও সেই একই সমর্পণ তিনি দেখেছিলেন।
সুভাষ ঘাই পরিচালিত ও প্রযোজিত ‘তাল’-এ ঐশ্বর্যার সঙ্গে প্রধান চরিত্রে ছিলেন অনিল কাপুর ও অক্ষয় খান্না। অভিনয়ে ছিলেন অমরীশ পুরী, অলোক নাথ-সহ আরও অনেকে। এ আর রহমানের সঙ্গীত, চোখধাঁধানো নাচ এবং প্রেমের গল্প—সব মিলিয়ে ছবিটি দেশ-বিদেশে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়।
মজার বিষয়, যে অভিনেত্রীকে একসময় সুভাষ ঘাই শুধু ‘প্রসাধনের জগতের মানুষ’ বলে মনে করেছিলেন, সেই ঐশ্বর্যার মানসীই শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে তাঁর ছবির অন্যতম স্মরণীয় চরিত্র।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



