সুমন চট্টোপাধ‍্যায়: দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে রাঁচির রাজপথ, সেখান থেকে পটনা—গত কয়েক মাসে ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে বারবার ভেসে উঠেছে একটি মুখ। বয়স কম, চোখে ক্ষোভ, হাতে দাবি সনদ, সামনে পুলিশের ব্যারিকেড। কখনও সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদ, কখনও প্রশ্নপত্র ফাঁস, কখনও নিয়োগে দীর্ঘসূত্রিতা,কখনও বেকারত্ব। জলকামান, কাঁদানে গ্যাস কিংবা লাঠির সামনে দাঁড়িয়ে এই তরুণদের কণ্ঠে একটি বাক্যই উচ্চারিত হচ্ছে: আমাদের কথা শুনতে হবে।

তাদের কথা রাজনৈতিক দলগুলি শুনেছে। অন্তত শোনার অভিনয় করেছে। কেউ নতুন কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কেউ পরীক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের কথা বলেছে, কেউ তরুণদের জন্য পৃথক ইস্তাহার প্রকাশের প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে বিরোধী নেতা প্রায় সকলের বক্তৃতায় জায়গা করে নিয়েছে ‘যুবশক্তি’। সমাজমাধ্যমে তরুণদের মন জয়ের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। নেতাদের ভাষা বদলেছে, প্রচারের ভঙ্গি বদলেছে, পোশাক থেকে পডকাস্ট,সবই হয়ে উঠেছে আরও ‘তরুণমুখী’।

কিন্তু রাস্তা থেকে আইনসভার দিকে তাকালেই ছবিটি আমূল বদলে যায়।

ভারতের জনসংখ্যার বিরাট অংশের বয়স চল্লিশের নীচে। অথচ লোকসভা ও দেশের ৩১টি বিধানসভা মিলিয়ে চল্লিশ বা তার কম বয়সী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সংখ্যা মাত্র ৩৮৪। আর এই সামান্য জায়গাটুকুতেও নতুন প্রজন্মের জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে পুরনো রাজনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী প্রহরী—বংশপরিচয়।

এই ৩৮৪ জন তরুণ সাংসদ ও বিধায়কের মধ্যে ১৪৫ জনই রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান, নাতি-নাতনি, ভাইপো-ভাইঝি, জামাই অথবা অন্য কোনও ঘনিষ্ঠ উত্তরসূরি। অর্থাৎ, তরুণ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রায় ৩৮ শতাংশের পিছনে রয়েছে পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য। তাঁরা বয়সে নতুন, কিন্তু তাঁদের অনেকের রাজনৈতিক পরিচয় নতুন নয়। সেই পরিচয় বহু আগেই তৈরি হয়ে গিয়েছে বাবা, মা, কাকা, পিসি, দাদু কিংবা পরিবারের অন্য কোনও ক্ষমতাবান সদস্যের নামে।

ভারতের তরুণ রাজনীতির এই বাস্তবতাকে এক কথায় বলা যেতে পারে—‘জেন জ়ি’-র সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে ‘জেন ডি’। এখানে ‘ডি’ হল ‘ডাইনাস্টি’ বা রাজনৈতিক রাজবংশ।

অর্থাৎ, খুব অল্প বয়সে জাতীয় বা রাজ্য রাজনীতির সর্বোচ্চ নির্বাচিত মঞ্চে পৌঁছতে চাইলে শুধু প্রতিভা, জনপ্রিয়তা কিংবা সাংগঠনিক পরিশ্রম যথেষ্ট নয়। চাই একটি পরিচিত পদবি, তৈরি সংগঠন, পারিবারিক নির্বাচনী কেন্দ্র এবং উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া রাজনৈতিক যোগাযোগ।

সাধারণ পরিবারের এক তরুণকে প্রথমে কোনও ছাত্র বা যুব সংগঠনে জায়গা করে নিতে হয়। পোস্টার মারতে হয়, সভার ভিড় সামলাতে হয়, নেতার সফর আয়োজন করতে হয়, দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে টিকে থাকতে হয়। তারপর পুরসভা, পঞ্চায়েত কিংবা জেলা সংগঠনের কোনও পদ পাওয়ার আশায় বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। নির্বাচনের টিকিট তখনও বহু দূরের স্বপ্ন।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক পরিবারের তরুণ সদস্যের জন্য পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। তাঁর পদবি আগে থেকেই পরিচিত। সংবাদমাধ্যম তাঁকে চেনে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর পরিবারের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। নির্বাচনী কেন্দ্রের কর্মীরাও তাঁকে প্রায়শই রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী হিসাবেই দেখতে অভ্যস্ত। ফলে দল যখন ‘তরুণ মুখ’ খোঁজে, তখন সবচেয়ে সহজ এবং কম ঝুঁকির প্রার্থী হয়ে ওঠেন পারিবারিক উত্তরসূরিই।

এই কারণেই ভারতীয় রাজনীতিতে বয়সের বদল সব সময় ক্ষমতার সামাজিক ভিত্তির বদল ঘটায় না। মুখ তরুণ হয়, কিন্তু ক্ষমতার বৃত্তটি পুরনোই থেকে যায়।

দেশের বর্তমান লোকসভায় চল্লিশ বা তার কম বয়সি সাংসদের সংখ্যা মাত্র ৪০। এর মধ্যে ছ’জন জেন জ়ি প্রজন্মের। বাকি ৩৪ জনের বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। এই ৩৪ জনের মধ্যে ১৯ জন রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। সব মিলিয়ে তরুণ সাংসদদের অর্ধেকেরও বেশি কোনও না কোনও ভাবে রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের সুবিধা পেয়েছেন।

তালিকাটি দেখলে বোঝা যায়, ভারতের প্রায় সমস্ত বড় রাজনৈতিক দলই একই প্রবণতার অংশিদার।

লোকসভায় বিজেপির ২৪০ জন সাংসদের মধ্যে চল্লিশ বা তার কম বয়সি মাত্র ন’জন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। কংগ্রেসের ৯৮ জন সাংসদের মধ্যে এই বয়সসীমায় রয়েছেন সাতজন; তাঁদের চারজন বংশানুক্রমিক রাজনৈতিক পরিচয়ের অধিকারী। সমাজবাদী পার্টির ৩৭ জন সাংসদের মধ্যে সাতজন চল্লিশের নীচে, কিন্তু তাঁদের ছ’জনই রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি। তেলুগু দেশম পার্টির ১৬ জন সাংসদের মধ্যে চারজন চল্লিশের নীচে।এবং চারজনই রাজনৈতিক বংশের সদস্য।

দলগুলির আদর্শ আলাদা। কেউ হিন্দুত্বের কথা বলে, কেউ ধর্মনিরপেক্ষতার; কেউ সমাজবাদী রাজনীতির উত্তরাধিকার দাবি করে, কেউ আঞ্চলিক আত্মমর্যাদার। কিন্তু তরুণ প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রায় সকলের অঙ্ক আশ্চর্য রকম একই।

দলের যুক্তিও অনুমান করা কঠিন নয়। নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বড় মাপকাঠি। রাজনৈতিক পরিবারের প্রার্থীর হাতে থাকে পরিচিত নাম, পুরনো কর্মীবাহিনী, অর্থ সংগ্রহের ব্যবস্থা এবং এলাকার সঙ্গে বহু বছরের পারিবারিক যোগাযোগ। একজন সম্পূর্ণ নতুন কর্মীর তুলনায় তাঁকে প্রার্থী করা তুলনামূলক ভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু প্রতিটি দল যদি একই যুক্তি অনুসরণ করে, তবে নতুন নেতৃত্ব উঠে আসবে কোথা থেকে?

৩৮ বছর বয়সি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো। কর্নাটকের মাইসুরের বিজেপি সাংসদ যদুবীর ওয়াদিয়ার বয়স ৩৪। তিনি মাইসুরের প্রাক্তন রাজপরিবারের সদস্য এবং প্রাক্তন সাংসদ শ্রীকান্তদত্ত নরসিংহরাজ ওয়াদিয়ারের দত্তকপুত্র। ৩৯ বছর বয়সি রক্ষা খড়সে মহারাষ্ট্রের প্রবীণ রাজনীতিক এবং প্রাক্তন মন্ত্রী একনাথ খড়সের পুত্রবধূ। ৩৫ বছর বয়সি করণ ভূষণ সিংহ হলেন বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ এবং ভারতের কুস্তি সংস্থার প্রাক্তন প্রধান ব্রিজভূষণ শরণ সিংহের পুত্র। কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা জারকিহোলির বয়স ২৯। তাঁর বাবা সতীশ জারকিহোলি কর্নাটকের মন্ত্রী, গোটা জারকিহোলি পরিবারই রাজ্যের রাজনীতিতে প্রভাবশালী। রাষ্ট্রীয় লোকদলের ৩৭ বছর বয়সি সাংসদ চন্দন চৌহান উত্তরপ্রদেশের প্রথম উপমুখ্যমন্ত্রী নারায়ণ সিংহের নাতি। সমাজবাদী পার্টির আদিত্য যাদব এবং অক্ষয় যাদব—দু’জনেই উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুলায়ম সিংহ যাদবের ভাইপো এবং অখিলেশ যাদবের তুতো ভাই। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডের পুত্র শ্রীকান্ত শিণ্ডে লোকসভার সাংসদ। তেলুগু দেশম পার্টির ৩৫ বছর বয়সি জি এম হরিশ বালাযোগী প্রাক্তন লোকসভা অধ্যক্ষ জি এম সি বালাযোগীর পুত্র।৩৭ বছর বয়সি ভরত মাথুকুমিল্লির পারিবারিক যোগাযোগ আরও বিস্তৃত। তিনি প্রাক্তন সাংসদদের নাতি এবং অন্ধ্রপ্রদেশের প্রভাবশালী নন্দমুরি-নারা চলচ্চিত্র ও রাজনৈতিক পরিবারের জামাই।

এই নামগুলির প্রত্যেকের নিজস্ব রাজনৈতিক দক্ষতা থাকতে পারে। বংশপরিচয় থাকলেই কেউ অযোগ্য এমন সিদ্ধান্ত ন্যায্য নয়। ভোটারদের সমর্থন ছাড়া তাঁদের কেউই সংসদে পৌঁছতে পারতেন না। কিন্তু প্রশ্নটি ব্যক্তিগত যোগ্যতার নয়,প্রশ্ন হল সুযোগের অসম বণ্টন। একই বয়সি লক্ষ লক্ষ রাজনৈতিক কর্মীর মধ্যে কেন বারবার পরিচিত পরিবারের সদস্যরাই দলের টিকিট এবং প্রচারের আলো পান?

লোকসভার চল্লিশ বা তার কম বয়সি ৪০ জন সাংসদের মধ্যে ১১ জন মহিলা। অর্থাৎ তরুণ সাংসদদের মধ্যে মহিলাদের অংশ ২৭.৫ শতাংশ। সামগ্রিক লোকসভায় মহিলা সাংসদের হার যেখানে প্রায় ১৪ শতাংশ, সেখানে এই সংখ্যা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। কিন্তু এখানেও গল্পটা এক। এই ১১ জন তরুণী সাংসদের মধ্যে আটজনই রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য।

ফলে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়লেও সাধারণ পরিবারের মহিলাদের জন্য রাজনীতির দরজা কতটা খুলছে, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া একজন তরুণীকেও পুরুষতান্ত্রিক বাধা মোকাবিলা করতে হতে পারে। কিন্তু তাঁর হাতে অন্তত রাজনৈতিক যোগাযোগ, পরিচিতি এবং সংগঠনের একটি প্রস্তুত ভিত্তি থাকে। সাধারণ পরিবারের কোনও তরুণীর ক্ষেত্রে অর্থ, নিরাপত্তা, সামাজিক বাধা ও দলীয় স্বীকৃতি, সবক’টি প্রতিবন্ধকতাই একসঙ্গে কাজ করে। এখানে বংশপরম্পরা কখনও কখনও নারীকে রাজনীতিতে প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছে, আবার একই সঙ্গে রাজনৈতিক সুযোগকে কয়েকটি পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখছে। এই দ্বৈত বাস্তবতাকে উপেক্ষা করা যায় না।

লোকসভার তুলনায় রাজ্যের বিধানসভাগুলি তৃণমূল স্তরের কাছাকাছি। ফলে সেখানে তরুণদের উপস্থিতি বেশি হবে এমন প্রত্যাশা স্বাভাবিক। কিন্তু দেশের ৩১টি বিধানসভায় মোট ৪,১৩১ জন বিধায়কের মধ্যে চল্লিশ বা তার কম বয়সি মাত্র ৩৪৪ জন। হার মাত্র ৮.৩ শতাংশ।এই ৩৪৪ জনের মধ্যে ১২১ জন, অর্থাৎ ৩৫.২ শতাংশ রাজনৈতিক পরিবার থেকে এসেছেন।

বিজেপি সরাসরি অথবা জোটের অংশ হিসেবে ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ক্ষমতায় রয়েছে। দলটির মোট বিধায়ক ১,৮১১ জন। তাঁদের মধ্যে চল্লিশ বা তার কম বয়সি ১২১ জন; রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য ৪১ জন।

কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা ৬৬২। তাঁদের মধ্যে ৫২ জন চল্লিশ বা তার কম বয়সি এবং তাঁদের ২৩ জন রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি।

এখানেও স্পষ্ট, কোনও একটি দলকে দায়ী করে সমস্যাটির ব্যাখ্যা করা যাবে না। বংশবাদ নিয়ে জনসভায় দলগুলি যতই পরস্পরকে আক্রমণ করুক, প্রার্থী নির্বাচনের সময় প্রায় সকলেই পরিচিত পরিবারের নির্বাচনী সুবিধা ব্যবহার করে।

সাতটি রাজ্যে চল্লিশ বা তার কম বয়সি বিধায়কদের মধ্যে রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের সংখ্যাই বেশি। ২১টি রাজ্যে অবশ্য সাধারণ রাজনৈতিক পটভূমি থেকে উঠে আসা তরুণ বিধায়ক সংখ্যাগরিষ্ঠ। আবার তিনটি রাজ্যে চল্লিশ বা তার কম বয়সি একজন বিধায়কও নেই। আরও দু’টি রাজ্যে তরুণ বিধায়ক থাকলেও তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক পরিবারের কেউ নেই।

এই বৈচিত্র্য প্রমাণ করে, বংশবাদ সর্বত্র সমান শক্তিশালী নয়। দলের সংগঠন, রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, স্থানীয় আন্দোলন এবং প্রার্থী নির্বাচনের পদ্ধতি,সবই তরুণদের সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

চল্লিশ বা তার কম বয়সি বিধায়কদের মধ্যে রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যের অনুপাত সবচেয়ে বেশি ওড়িশায়। রাজ্যে এই বয়সসীমার ১৬ জন বিধায়কের মধ্যে ১৪ জনেরই প্রত্যক্ষ পারিবারিক রাজনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে। অর্থাৎ, ওড়িশায় তরুণ বিধায়ক হিসেবে উঠে আসার পথটি প্রায় সম্পূর্ণ ভাবে কয়েকটি রাজনৈতিক পরিবারের ভিতর দিয়ে গিয়েছে।

মহারাষ্ট্রে ১৬ জন তরুণ বিধায়কের মধ্যে ১২ জন রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। উত্তরপ্রদেশে ৩২ জনের মধ্যে ২৩ জন। কর্নাটক ও হরিয়ানায় নয়জন করে তরুণ বিধায়কের মধ্যে পাঁচজন রাজনৈতিক পরিবারের প্রতিনিধি।

এর বিপরীতে তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ, কেরল ও পঞ্জাব অন্য ছবি দেখিয়েছে।তামিলনাড়ুতে চল্লিশ বা তার কম বয়সি বিধায়ক ৪৭ জন। তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য মাত্র তিনজন। পশ্চিমবঙ্গে এই বয়সের বিধায়ক ৪৫ জন, বংশানুক্রমিক রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে পাঁচজনের। কেরলে ১৬ জনের মধ্যে মাত্র একজন রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। পঞ্জাবে ১২ জন তরুণ বিধায়কের মধ্যেও রাজনৈতিক পরিবারের প্রতিনিধি মাত্র একজন।

বিধানসভার মোট সদস্যসংখ্যার অনুপাতে চল্লিশ বা তার কম বয়সি বিধায়ক সবচেয়ে বেশি তামিলনাড়ুতে, ২০.১ শতাংশ। তার পর মেঘালয়ে ১৮.৩ শতাংশ, পশ্চিমবঙ্গে ১৫.৩ শতাংশ, বিহারে ১৩.২ শতাংশ এবং কেরলে ১১.৪ শতাংশ। অন্যদিকে ১৬টি রাজ্যে তরুণ বিধায়কের অংশ ১০ শতাংশেরও কম।

এই পরিসংখ্যান একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য সামনে আনে। তরুণ প্রতিনিধিত্ব এবং বংশবাদ এক জিনিস নয়। তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ কিংবা কেরলের মতো রাজ্যে তুলনামূলক ভাবে বেশি তরুণকে রাজনৈতিক পরিবার ছাড়াই বিধানসভায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ দলগুলি চাইলে সাংগঠনিক স্তর থেকে নতুন মুখ তুলে আনতে পারে। রাজনৈতিক বংশই তরুণ নেতৃত্বের একমাত্র উৎস

রাজ্যগুলির তরুণ বিধায়কদের তালিকাতেও ভারতের বহু পুরনো রাজনৈতিক পরিবারের নতুন প্রজন্ম ছড়িয়ে রয়েছে।

বিহারে ৩৬ বছর বয়সি তেজস্বী যাদব রাষ্ট্রীয় জনতা দলের কার্যত প্রধান নেতা। দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তাঁর বাবা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদব। হরিয়ানায় কংগ্রেস নেতা রণদীপ সুরজেওয়ালার ২৭ বছর বয়সি পুত্র আদিত্য রাজ্যের একমাত্র জেন জ়ি বিধায়ক। একই রাজ্যে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল লোকদলের ৩৪ বছর বয়সি বিধায়ক অর্জুন চৌতালা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমপ্রকাশ চৌতালার নাতি। হিমাচল প্রদেশের মন্ত্রী বিক্রমাদিত্য সিংহের বয়স ৩৬। তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বীরভদ্র সিংহ এবং প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি প্রতিভা সিংহের পুত্র। জম্মু ও কাশ্মীরে বিজেপি বিধায়ক ৩১ বছর বয়সি দেবযানী রানা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহের ভাইঝি এবং প্রাক্তন বিধায়ক দেবেন্দ্র রানার কন্যা। যে নাগরোটা কেন্দ্র থেকে তাঁর বাবা প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন, এখন সেই আসনেরই বিধায়ক দেবযানী।

মধ্যপ্রদেশে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিংহের পুত্র জয়বর্ধন সিংহ ৪০ বছর বয়সেই এক দশকের বেশি সময় ধরে বিধায়ক এবং কমল নাথ সরকারের মন্ত্রীও ছিলেন। কংগ্রেসের ৩৪ বছর বয়সি বিধায়ক অভিজিৎ শাহ প্রাক্তন মাকরাই রাজপরিবারের সদস্য, তাঁর পরিবারের সঙ্গে বিজেপি ও কংগ্রেস, দুই শিবিরেরই সম্পর্ক রয়েছে।

মহারাষ্ট্রে দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সন্তান এখন বিধায়ক। অশোক চহ্বাণের ৩৪ বছর বয়সি কন্যা  বিজেপির বিধায়ক। উদ্ধব ঠাকরের ৩৬ বছর বয়সি পুত্র আদিত্য ঠাকরে শিবসেনা উদ্ধব গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান মুখ। প্রয়াত উপমুখ্যমন্ত্রী আর আর পাটিলের ২৭ বছর বয়সি পুত্র রোহিত পাটিল রাজ্যের একমাত্র জেন জ়ি বিধায়ক।

উত্তর-পূর্ব ভারতেও একই ধারার বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। মণিপুরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওকরাম ইবোবি সিংহের ৩৮ বছর বয়সি পুত্র সুরজকুমার ওকরাম কংগ্রেস বিধায়ক। মেঘালয়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডনকুপার রায়ের পুত্র বালাজিয়েড কুপার সিনরেম ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বিধায়ক। আর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমার কন্যা ৩৬ বছর বয়সি মিয়ানি শিরা তৃণমূলের বিধায়ক। সিকিমে ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিংহ তামাংয়ের ৩৬ বছর বয়সি পুত্র আদিত্য গোলে শাসক দলের বিধায়ক।

ওড়িশায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ভক্তচরণ দাসের ৩৪ বছর বয়সি পুত্র সাগরচরণ দাস বিধায়ক।

উত্তরপ্রদেশে ব্রিজভূষণ শরণ সিংহের এক পুত্র করণ ভূষণ লোকসভার সাংসদ, অন্য পুত্র ৩৮ বছর বয়সি প্রতীক ভূষণ সিংহ বিজেপির বিধায়ক। সমাজবাদী পার্টির প্রথম পরিবারের একাধিক সদস্যের মধ্যে ৩৮ বছর বয়সি তেজপ্রতাপ সিংহ বিধায়ক। নিষাদ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সঞ্জয় নিষাদের ৩৬ বছর বয়সি পুত্র শ্রবণ নিষাদও বিধায়ক। ৩৪ বছর বয়সি আব্বাস আনসারি হলেন প্রয়াত মুখতার আনসারির পুত্র।

এই তালিকা শুধু কিছু ব্যক্তির নাম নয়। এটি দেখায়, ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিতে একটি আসন কী ভাবে কখনও কখনও পারিবারিক সম্পদের মতো এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে চলে যায়। ভোট অবশ্যই হয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতাও থাকে; কিন্তু প্রার্থী হওয়ার সুযোগটি প্রথম থেকেই সমান থাকেনা।

এখানেই ভারতের সাম্প্রতিক যুব আন্দোলনের সঙ্গে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের গভীর বৈপরীত্য।

রাজপথে যে তরুণ লাঠি খাচ্ছেন, তাঁর কাছে রাজনৈতিক পরিবার নেই। পরীক্ষার ফর্ম পূরণের টাকা জোগাড় করতে তাঁকে পরিবারের সঙ্গে লড়তে হয়। বছরের পর বছর প্রস্তুতি নিয়েও পরীক্ষা বাতিল হলে তাঁর সামনে অপেক্ষা করে অনিশ্চয়তা। তাঁর দাবি নিয়ে রাজনৈতিক নেতারা মঞ্চে ওঠেন, তাঁর ক্ষোভকে নির্বাচনী ভাষায় অনুবাদ করেন, তাঁর ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। কিন্তু প্রার্থী নির্বাচনের সময় সেই তরুণের জায়গায় দলের নজর গিয়ে পড়ে কোনও প্রাক্তন সাংসদের পুত্র, মন্ত্রীর কন্যা বা মুখ্যমন্ত্রীর আত্মীয়ের উপর। ফলে তরুণরা রাজনীতির চালিকাশক্তি হলেও ক্ষমতার অংশীদার হতে পারেন না। তাঁরা মিছিলের সংখ্যা, সভার ভিড়, সমাজমাধ্যমের প্রচারক এবং ভোটার।কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে তাঁদের উপস্থিতি সামান্য।

ভারতের জনসংখ্যার আনুমানিক ৬৫ শতাংশেরও বেশি চল্লিশ বা তার কম বয়সি। অথচ বিধানসভায় এই বয়সের প্রতিনিধিত্ব মাত্র ৮.৩ শতাংশ। লোকসভায় সংখ্যাটি আরও সংকুচিত,৫৪৩ সদস্যের সভায় মাত্র ৪০ জন।

অর্থাৎ, ভারতের জনগোষ্ঠীর বয়স এবং তার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বয়সের মধ্যে বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে। যে দেশের প্রধান সমস্যা চাকরি, শিক্ষা, পরীক্ষা, দক্ষতা, প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভবিষ্যতের সামাজিক নিরাপত্তা, সেই দেশের আইন প্রণয়নের কেন্দ্রে সংশ্লিষ্ট প্রজন্মের কণ্ঠই সবচেয়ে দুর্বল।

অবশ্য বয়স কম হলেই কেউ তরুণদের স্বার্থের প্রতিনিধি হবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। একই ভাবে প্রবীণ নেতা তরুণদের সমস্যা বুঝবেন না এ কথাও সত্য নয়। কিন্তু প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নটি শুধু নীতিগত অবস্থানের নয়; জীবনের অভিজ্ঞতারও। বেকারত্ব, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, অনিশ্চিত কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির অভিঘাত যে প্রজন্ম প্রত্যক্ষ ভাবে বহন করছে, আইনসভায় তাদের উপস্থিতি এত কম হলে নীতি ও বাস্তবতার ব্যবধান বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

রাজনৈতিক পরিবারগুলি শুধু ক্ষমতার লোভে বংশবাদ তৈরি করে এমন সরল ব্যাখ্যা যথেষ্ট নয়। এর পিছনে ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার বাস্তব কাঠামোর অবদান অতি গুরুত্বপূর্ণ।

একটি লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচন লড়তে বিপুল অর্থ, সংগঠন, পরিচিতি এবং সামাজিক যোগাযোগ প্রয়োজন। সাধারণ তরুণের পক্ষে এই চারটি সম্পদ একসঙ্গে অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন। রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি এগুলির অনেকটাই তৈরি অবস্থায় পান। দলের কাছেও তিনি সুবিধাজনক প্রার্থী। দলের কর্মীরা তাঁর নাম জানেন, ভোটাররা তাঁর পরিবারকে চেনেন, অর্থ সংগ্রহ সহজ হয়, সংবাদমাধ্যমের আগ্রহ থাকে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তিনি কতটা ভোট টানতে পারবেন, তার কিছু পূর্বাভাস পাওয়া যায়।

ভারতের রাজনৈতিক দলগুলির অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রও দুর্বল। নিয়মিত ও স্বচ্ছ দলীয় নির্বাচন, প্রার্থী বাছাইয়ে স্থানীয় সদস্যদের মতামত কিংবা দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্ব তৈরির পরিকল্পনা অধিকাংশ দলেই অনুপস্থিত। ফলে টিকিট বণ্টনের সিদ্ধান্ত কয়েকজন শীর্ষনেতার হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে। সেই ব্যবস্থায় পরিবারের পরিচিত সদস্যকে বেছে নেওয়া সহজ।

ভোটারদের ভূমিকাও উপেক্ষা করা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে ভোটাররা নিজেরাই কোনও প্রয়াত বা অবসর নেওয়া নেতার সন্তানকে তাঁর ‘স্বাভাবিক উত্তরসূরি’ মনে করেন। পরিবারের নাম হয়ে ওঠে এক ধরনের রাজনৈতিক চিহ্ন। সহানুভূতি, আনুগত্য এবং স্থানীয় সম্পর্ক,সব মিলিয়ে বংশের প্রার্থী বাড়তি নির্বাচনী সুবিধা পান।

কিন্তু এই যুক্তিগুলি বংশবাদের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারে, তাকে ন্যায্যতা দিতে পারে না। কারণ, এর ফলে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার শুরুর রেখাটিই অসম হয়ে যায়।

তরুণ উত্তরাধিকারীরা রাজনীতিতে আসবেন না—এমন দাবি গণতান্ত্রিক নয়। কোনও নেতার সন্তানও অন্য নাগরিকের মতো নির্বাচন লড়ার অধিকার রাখেন। তাঁদের অনেকেই শিক্ষিত, পরিশ্রমী এবং দক্ষ হতে পারেন। কেউ কেউ পরিবারের প্রতিষ্ঠিত রাজনীতির বিরুদ্ধেও নতুন অবস্থান নিতে পারেন।

সমস্যা শুরু হয় তখনই যখন রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া কার্যত যোগ্যতার বিকল্প হয়ে ওঠে,যখন দলের সাধারণ তরুণ কর্মীর তুলনায় উত্তরাধিকারীর জন্য টিকিট প্রায় নিশ্চিত থাকে; যখন একটি আসনকে জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্র না ভেবে পারিবারিক রাজনৈতিক সম্পত্তি হিসেবে দেখা হয়।

রাজনীতিতে প্রকৃত প্রজন্ম পরিবর্তন শুধু নেতার বয়স কমে যাওয়ার নাম নয়। পরিবর্তন তখনই ঘটবে, যখন ক্ষমতায় পৌঁছনোর সামাজিক পথও প্রসারিত হবে, যখন শিক্ষক, ছাত্রনেতা, শ্রমিক সংগঠক, স্বেচ্ছাসেবী, পেশাজীবী, ছোট শহরের কর্মী কিংবা আন্দোলন থেকে উঠে আসা তরুণরা পারিবারিক পরিচয় ছাড়াই নির্বাচনের টিকিট পাবেন।

তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ, কেরল ও পঞ্জাবের পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, এই কাজ অসম্ভব নয়। সেখানে তরুণ বিধায়কের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, অথচ তাঁদের অধিকাংশই রাজনৈতিক পরিবারের নন। অর্থাৎ, দলীয় সংগঠন এবং প্রার্থী বাছাইয়ের ইচ্ছা থাকলে বংশবাদের বাইরে থেকেও নতুন নেতৃত্ব তৈরি করা যায়।

রাঁচির রাস্তায় যখন জলকামানের ধাক্কায় কোনও চাকরিপ্রার্থী মাটিতে পড়ে যান, তখন তাঁর বয়স হয়তো ২৬। পটনায় পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে দাঁড়ানো ছাত্রটির বয়স ২৪। দিল্লির যন্তর মন্তরে স্লোগান দেওয়া তরুণীটির বয়স ২৮। তাঁরা সকলেই সেই প্রজন্মের সদস্য, যাদের কাছে রাজনৈতিক দলগুলি ভোট চাইছে, ধৈর্য চাইছে, দেশ গড়ার দায়িত্ব নিতে বলছে।

কিন্তু তাঁদের কেউ যদি প্রশ্ন করেন—দেশ গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় আমাদের কতজন আছেন,  তার উত্তর অস্বস্তিকর।

এ যেন এমন এক প্রাসাদ, যার সামনে লেখা রয়েছে—তরুণদের স্বাগত। কিন্তু মূল দরজার চাবিটি সযত্নে রেখে হয়েছে কয়েকটি পরিচিত পরিবারের হাতে।

রাজপথে তরুণরা নিজেদের কণ্ঠ খুঁজে পেয়েছে। তারা সরকারকে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য করছে, মন্ত্রীদের জবাবদিহির মুখে ফেলছে, রাজনৈতিক দলগুলিকে কর্মসংস্থান ও শিক্ষার প্রশ্নে অবস্থান জানাতে বাধ্য করছে। কিন্তু আন্দোলনের শক্তিকে প্রতিনিধিত্বের শক্তিতে রূপান্তরিত করতে না পারলে সেই কণ্ঠ শেষ পর্যন্ত অন্য কারও নির্বাচনী সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।

ভারতের রাজনীতি তাই এখন এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। বাইরে জেন জ়ি—অস্থির, ক্ষুব্ধ, প্রশ্নমুখর। ভিতরে জেন ডি। পরিচিত পদবি, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া আসন এবং পরিবারের হাতে তৈরি ক্ষমতার সিঁড়ি।

ব্যারিকেডের এ পাশে দাঁড়ানো লক্ষ লক্ষ তরুণের সামনে প্রশ্নটি শুধু চাকরি পাওয়ার নয়। প্রশ্নটি আরও গভীর—তারা কি কেবল রাজনীতির বিষয়বস্তু হয়ে থাকবে, না কি রাজনীতির নির্মাতাও হতে পারবে?

সেই প্রশ্নের উত্তর নির্ধারণ করবে ভারতের গণতন্ত্রে সত্যিই প্রজন্ম পরিবর্তন ঘটছে, নাকি শুধু পুরনো বংশের পারিবারিক ছবিতে নতুন কয়েকটি তরুণ মুখ যোগ হচ্ছে।