খবর অপছন্দ হলেই এফআইআর: গণতন্ত্রের নতুন সংবাদ-সম্পাদকের নাম পুলিশ

যা জানা জরুরি
- সুমন চট্টোপাধ্যায়: ভারতীয় সাংবাদিকতার পাঠ্যক্রমে নতুন একটি বিষয় যোগ করার সময় এসেছে—সংবাদ লেখা নয়, আগাম জামিনের আবেদন লেখা।
- অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের আগে জানতে হবে, ঘটনাটি কোন থানার এলাকায় পড়ে; প্রতিবেদন প্রকাশের পরে জানতে হবে, নিজের বাড়ির কাছের থানায় মামলা হয়েছে, না কি দেশের…
- সাংবাদিকতার শিক্ষানবিশদের আর শুধু ‘কে, কী, কোথায়, কখন, কেন’ শিখলে চলবে না।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
সুমন চট্টোপাধ্যায়: ভারতীয় সাংবাদিকতার পাঠ্যক্রমে নতুন একটি বিষয় যোগ করার সময় এসেছে—সংবাদ লেখা নয়, আগাম জামিনের আবেদন লেখা। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের আগে জানতে হবে, ঘটনাটি কোন থানার এলাকায় পড়ে; প্রতিবেদন প্রকাশের পরে জানতে হবে, নিজের বাড়ির কাছের থানায় মামলা হয়েছে, না কি দেশের অন্য প্রান্তের কোনও থানায়। সাংবাদিকতার শিক্ষানবিশদের আর শুধু ‘কে, কী, কোথায়, কখন, কেন’ শিখলে চলবে না। তাঁদের শেখাতে হবে—কোন ধারায় কত বছরের কারাদণ্ড, মাঝরাতে পুলিশ এলে পরিবারের সদস্যরা কী করবেন এবং বৈদ্যুতিন যন্ত্র বাজেয়াপ্ত হলে তথ্যের সুরক্ষা কীভাবে হবে।
এক সময় শাসকেরা সংবাদপত্রের প্রতিবাদে পাল্টা বিবৃতি দিতেন। পরে মানহানির নোটিস পাঠানো শুরু হল। এখন আরও দ্রুত, সস্তা ও কার্যকর ব্যবস্থা আবিষ্কৃত হয়েছে—এফআইআর। সংবাদ ভুল হলে সংশোধন চাইতে হবে কেন? সাংবাদিককে ফোন করে তাঁর বক্তব্য জানতে হবে কেন? সংবাদ পরিষদে অভিযোগ জানানো, দেওয়ানি মানহানির মামলা করা কিংবা জনসমক্ষে প্রমাণ দিয়ে প্রতিবেদন খণ্ডন করার মতো ক্লান্তিকর পথে যাওয়ারই বা প্রয়োজন কী? থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করুন। সঙ্গে ধর্মীয় বিদ্বেষ, জাতিগত অপমান, রাষ্ট্রের অখণ্ডতা বিপন্ন করা, জনশৃঙ্খলা নষ্ট করা এবং ষড়যন্ত্র—যতগুলি সম্ভব কঠোর ধারা জুড়ে দিন। সত্য-মিথ্যা বিচার হবে দশ বছর পরে। আপাতত সাংবাদিক বুঝে যাবেন, রাষ্ট্রের অনুভূতি কত কোমল।
অভিষেক উপাধ্যায়ের ‘অপরাধ’
সর্বশেষ দৃষ্টান্ত স্বাধীন সাংবাদিক অভিষেক উপাধ্যায়। তাঁর পরিচালিত ‘টপ সিক্রেট’ সংবাদমঞ্চে অযোধ্যার রামমন্দিরের অনুদান পরিচালনায় কথিত চুরি ও অনিয়ম নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। প্রাক্তন কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তিনি অনুদানের অর্থ ও গয়না সরানো, জাল রসিদ, নির্মাণসামগ্রী কেনায় অস্বাভাবিক ব্যয় এবং জমির লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই অভিযোগগুলি দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে, বিশেষ তদন্তকারী দল গঠিত হয়, গ্রেফতারও হয়।
এখন গাজিয়াবাদের একটি কথিত পথ-বিবাদের মামলায় তাঁর নাম জড়িয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, একটি ব্যালেনো গাড়ির চালক মোটরসাইকেল আরোহীকে ধাক্কা দেওয়ার পরে গালিগালাজ ও হুমকি দিয়েছেন। উপাধ্যায়ের দাবি সম্পূর্ণ বিপরীত—কোনও সংঘর্ষ বা মারামারি হয়নি; মোটরসাইকেলে আসা এক ব্যক্তি তাঁর গাড়ির কাছে গোলমাল করলে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে তিনি চলে যান। অভিযোগে উল্লিখিত মোটরসাইকেলের নম্বরেও অসঙ্গতি রয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, পুলিশ নজরদারি ক্যামেরার দৃশ্য সংরক্ষণের বদলে তা আটকে রাখা বা মুছে ফেলার জন্য স্থানীয় দোকানদারদের চাপ দিয়েছে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ অবশ্য তাঁর অভিযোগ স্বীকার করেনি।
সত্য কোন দিকে, তা তদন্ত ও আদালত স্থির করবে। কিন্তু প্রশ্নটি অন্যত্র। একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হলেই রাতের অন্ধকারে প্রায় এক ডজন পুলিশ তাঁর বাড়িতে পৌঁছবে কেন? স্ত্রী ও দুই মেয়ের সামনে সেই শক্তি প্রদর্শনের প্রয়োজন কী? সম্পূর্ণ এফআইআরের প্রতিলিপি তাঁকে দেওয়া হবে না কেন? যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে কাজ করেন, আদালতে যেতে প্রস্তুত এবং তদন্তে সহযোগিতার কথা বলেন, তাঁকে ধরতে এমন আয়োজন দেখে মনে হয় তিনি সংবাদ প্রকাশ করেননি—রাষ্ট্রের অস্ত্রাগার লুট করেছেন।
এটাই এই সময়ের কৌশল। সাংবাদিকের প্রতিবেদন খণ্ডন নয়; তাঁর জীবনটাই ওলটপালট করে দাও। তাঁকে আইনজীবী খুঁজতে দাও, শহর থেকে শহরে আদালত করতে দাও, পরিবারের ঘুম কেড়ে নাও, যন্ত্রপাতি বাজেয়াপ্ত করো, সূত্রগুলিকে আতঙ্কিত করো। শেষে মামলা না টিকলেও ক্ষতি নেই। কারণ উদ্দেশ্য সাজা দেওয়া নয়; আইনি প্রক্রিয়াটিকেই সাজায় পরিণত করা।
রুটি-নুনের ছবিতেও ষড়যন্ত্র
উত্তরপ্রদেশের সাংবাদিক পবন জয়সওয়ালের ঘটনাটি এই রাষ্ট্রীয় যুক্তির এক নিখুঁত রূপক। ২০১৯ সালে মির্জাপুরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মধ্যাহ্নভোজ হিসেবে শিশুদের রুটি ও নুন খাওয়ার দৃশ্য তিনি ধারণ করেছিলেন। প্রশাসনের সামনে দুটি পথ ছিল। এক, শিশুদের পাতে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া। দুই, যে সাংবাদিক সেই পাতাটি দেখিয়েছেন তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মামলা করা।
আমলাতান্ত্রিক প্রতিভা স্বাভাবিক ভাবেই দ্বিতীয় পথটি বেছে নিয়েছিল।
জয়সওয়ালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হল, তিনি সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করেছেন। অর্থাৎ শিশুর পাতে ডাল না থাকাটা সমস্যা নয়; ক্যামেরায় সেই অনুপস্থিত ডাল ধরা পড়াই সমস্যা। পরে তদন্তে জয়সওয়াল নির্দোষ প্রমাণিত হন। কিন্তু তত দিনে রাষ্ট্র তার বার্তা পৌঁছে দিয়েছে—ক্ষুধা দেখতে পারো, লিখতে পারবে না। লিখলে ক্ষুধার দায় রান্নাঘরের নয়, সংবাদদাতার।
এই হল এফআইআর-শাসনের সৌন্দর্য। সংবাদটি সত্য প্রমাণিত হলেও সাংবাদিককে প্রথমে অপরাধী বানানো যায়। সরকারি ব্যবস্থার ব্যর্থতা প্রকাশ করাকে সরকারি ভাবমূর্তি নষ্ট করা বলা হয়। যেন সরকারের ভাবমূর্তি একটি দামি কাচের বাসন—দুর্নীতি, অনাহার বা অব্যবস্থা তাকে ভাঙে না; কেবল সাংবাদিকের ক্যামেরাই ভাঙে। পবন জয়সওয়ালের মামলার বিবরণ
হাথরসে যাওয়ার পথই কারাগারে পৌঁছল
২০২০ সালের অক্টোবরে কেরলের সাংবাদিক সিদ্দিক কাপ্পান হাথরসে দলিত তরুণীর গণধর্ষণ ও মৃত্যুর খবর করতে যাচ্ছিলেন। তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারেননি; উত্তরপ্রদেশ পুলিশ তাঁকে পথেই গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন, রাষ্ট্রদ্রোহ, ষড়যন্ত্র-সহ কঠোর অভিযোগ আনা হয়। প্রায় দুই বছর কারাবন্দি থাকার পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে সংবাদস্থলে যাওয়ার ইচ্ছাটিও সম্ভবত এক ধরনের অপরাধমূলক প্রস্তুতি। সাংবাদিকের ব্যাগে কলম, নোটবই ও পরিচয়পত্র পাওয়া গেলে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়—লোকটি নিশ্চয়ই প্রশ্ন করার পরিকল্পনা করছিলেন। প্রশ্ন তো বারুদের চেয়েও বিপজ্জনক। বারুদ একটি ঘর ওড়ায়, প্রশ্ন একটি সরকারি বিবরণকে।
কাপ্পানের ঘটনা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ বার্তা বহন করেছিল। বড় সংবাদমাধ্যমের প্রতিষ্ঠিত মুখ হলে হয়তো দ্রুত আইনজীবী, প্রচার ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা মেলে। কিন্তু ছোট শহরের সংবাদদাতা, স্বাধীন সাংবাদিক কিংবা আঞ্চলিক ভাষার প্রতিবেদকের জন্য একটি এফআইআরই অর্থনৈতিক ও সামাজিক মৃত্যুদণ্ডের কাছাকাছি। তাঁর মাসিক আয় হয়তো দিল্লির একজন প্রবীণ আইনজীবীর এক দিনের পারিশ্রমিকের চেয়েও কম। ফলে আইন সকলের জন্য সমান—শুধু সেই সমতার খরচ সকলের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।
কৃষক আন্দোলন: একটি মৃত্যু, ছয় সাংবাদিক, বহু রাজ্যে মামলা
২০২১ সালের ২৬ জানুয়ারি কৃষকদের ট্র্যাক্টর মিছিলের সময় এক আন্দোলনকারীর মৃত্যু নিয়ে প্রাথমিক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের বক্তব্য উদ্ধৃত করে সংবাদ ও সমাজমাধ্যমে নানা দাবি প্রকাশিত হয়। এরপর রাজদীপ সরদেশাই, মৃণাল পাণ্ডে, জাফর আগা, বিনোদ কে জোস, পরেশ নাথ এবং অনন্ত নাথের বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশে রাষ্ট্রদ্রোহ, ষড়যন্ত্র ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের মতো অভিযোগে মামলা হয়। সিদ্ধার্থ বরদারাজনের বিরুদ্ধেও উত্তরপ্রদেশে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
সংবাদপ্রবাহের মধ্যে প্রাথমিক তথ্য ভুল হতে পারে। ভুল হলে সংশোধন দরকার, পেশাগত জবাবদিহিও দরকার। কিন্তু ভুল প্রতিবেদন আর রাষ্ট্রদ্রোহ এক বস্তু নয়। সাংবাদিক যদি ভুল তথ্য সংশোধন না করেন, তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হবে। কিন্তু ভুল তথ্যের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য ধারা প্রয়োগের অর্থ হল, সরকার নিজেকে দেশ বলে ঘোষণা করছে। সরকারের বিবরণ প্রশ্নবিদ্ধ করা মানেই দেশ বিপন্ন—এমন ধারণা গণতন্ত্রে নয়, রাজদরবারে মানায়।
একই আন্দোলন কভার করতে গিয়ে স্বাধীন সাংবাদিক মনদীপ পুনিয়াকে সিংঘু সীমান্তে আটক করে জেলে পাঠানো হয়েছিল। পুলিশের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। সাংবাদিকতার নতুন সংজ্ঞা তখন পরিষ্কার হয়ে গেল—পুলিশ যে জায়গায় সংবাদ চায় না, সেখানে দাঁড়িয়ে থাকাই সরকারি কাজে বাধা। কৃষক আন্দোলনের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার তালিকা
রাষ্ট্রদ্রোহের পুরনো বোতলে নতুন ছিপি
প্রবীণ সাংবাদিক বিনোদ দুয়ার বিরুদ্ধে হিমাচল প্রদেশে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়েছিল। অভিযোগের উৎস ছিল করোনা অতিমারি মোকাবিলা ও প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনামূলক একটি অনুষ্ঠান। ২০২১ সালে সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি বাতিল করে বলে, সরকারের নীতির কঠোর সমালোচনা রাষ্ট্রদ্রোহ নয়; সহিংসতায় প্রত্যক্ষ উস্কানি বা জনশৃঙ্খলা ভাঙার প্রবণতা না থাকলে এই অভিযোগ টেকে না।
ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রদ্রোহের ধারা আপাতত ইতিহাসে গেলেও তার আত্মা অবসর নেয়নি। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৫২ ধারায় দেশের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতা বিপন্ন করার অপরাধ এসেছে। ২০২৫ সালে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এই ধারা প্রয়োগের প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টকে আবার বলতে হয়েছে—সাংবাদিকের নিবন্ধ বা দৃশ্যপ্রতিবেদন দেখামাত্র তাকে দেশের ঐক্য বিপন্ন করার কাজ বলে ধরে নেওয়া যায় না; একটি ভাল আইনও অপব্যবহৃত হতে পারে।
আদালত বারবার বোঝাচ্ছে, সমালোচনা অপরাধ নয়। পুলিশ বারবার মামলা করছে, যেন প্রতিটি রায় তার কাছে নতুন সংবাদ। রাষ্ট্রের স্মৃতিশক্তি আশ্চর্য—নাগরিকের দশ বছর আগের সমাজমাধ্যমের মন্তব্য খুঁজে পায়, কিন্তু গত বছরের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশটি মনে রাখতে পারে না। বিনোদ দুয়া মামলা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আদালতের অবস্থান
মণিপুরে সত্য অনুসন্ধানও অভিযুক্ত
২০২৩ সালে মণিপুরের জাতিগত সংঘর্ষের সংবাদ পরিবেশন খতিয়ে দেখতে সম্পাদকদের সংগঠনের একটি অনুসন্ধানী দল রাজ্যে যায়। তাদের প্রতিবেদনে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের একাংশের একপেশে ভূমিকা, দীর্ঘকালীন ইন্টারনেট বন্ধ এবং রাজ্য প্রশাসনের কথিত পক্ষপাত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। প্রতিবেদনটি পছন্দ হয়নি রাজ্য সরকারের। উত্তর এল যুক্তি দিয়ে নয়—সংগঠনের সভাপতি ও তিন সদস্যের বিরুদ্ধে দুটি এফআইআর দিয়ে।
সুপ্রিম কোর্টকে তাঁদের গ্রেফতার থেকে সুরক্ষা দিতে হয়। শুনানিতে আদালত প্রশ্ন তোলে, একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের মামলা করা যায় কীভাবে। অভিযোগপত্রের বড় অংশকে আদালত রাজ্য সরকারের ‘পাল্টা ভাষ্য’ বলেও মন্তব্য করেছিল।
এখানেই গণতান্ত্রিক বিতর্কের অদ্ভুত বিবর্তন। আগে একটি প্রতিবেদনের পাল্টা প্রতিবেদন লেখা হত। এখন পাল্টা প্রতিবেদনের জায়গায় এফআইআর। কারণ যুক্তির অসুবিধা আছে—তার সামনে প্রমাণ রাখতে হয়। এফআইআরের সুবিধা হল, প্রমাণ পরে দেখা যাবে; আগে পুলিশ যাবে। মণিপুর মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
কাশ্মীরে মামলার সঙ্গে মামলার অনন্ত শৃঙ্খল
কাশ্মীরি সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতা আরও ভয়াবহ। ‘কাশ্মীর ওয়ালা’র সম্পাদক ফাহাদ শাহ ২০২২ সালে গ্রেফতার হন। একটি মামলায় জামিন মিললেই অন্য মামলায় গ্রেফতার—এই পরিচিত প্রশাসনিক কৌশলের মধ্যে তিনি ৬০০ দিনেরও বেশি বন্দি ছিলেন। একই সংবাদমাধ্যমের সাজাদ গুলের বিরুদ্ধেও কঠোর আইন প্রয়োগ করা হয়। সাংবাদিক আসিফ সুলতান দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইরফান মেহরাজ ২০২৩ সালের মার্চ থেকে আটক; ২০২৬ সালের মার্চে তাঁর বিচার-পূর্ব বন্দিত্ব তিন বছর পূর্ণ হওয়ার সময় আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় নাগরিক সংগঠনগুলি মুক্তির দাবি জানায়।
জাতীয় নিরাপত্তার প্রকৃত উদ্বেগ অবশ্যই রয়েছে; কাশ্মীরের জটিলতা অস্বীকার করা যায় না। সাংবাদিক পরিচয় কোনও ব্যক্তিকে আইনভঙ্গের অধিকারও দেয় না। কিন্তু নিরাপত্তার যুক্তি যদি এমন হয় যে অভিযোগের বিচার শুরু হওয়ার আগেই একজন মানুষ বছরের পর বছর কারাগারে থাকবেন, তবে প্রশ্ন উঠবেই—রাষ্ট্র অপরাধের প্রমাণ চাইছে, না কি স্বাধীন সংবাদ সংগ্রহের মূল্য আদায় করছে?
নিরাপত্তা আইনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সুবিধা হল, অভিযোগকারীকে প্রমাণের আগেই দেশপ্রেমিক এবং অভিযুক্তকে প্রমাণের আগেই দেশদ্রোহী বানিয়ে দেওয়া যায়। তখন জামিন পাওয়া মানে নির্দোষ হওয়া নয়, আর অভিযোগের দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলাও সন্দেহজনক কাজ। আইনের আদালতের আগে সমাজমাধ্যমের আদালতে দণ্ড ঘোষণা হয়ে যায়। কাশ্মীরি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনের প্রয়োগ নিয়ে সম্পাদকদের সংগঠনের বিবৃতি
তথ্য যাচাইকারীর বিরুদ্ধেই ‘তথ্য’
তথ্য যাচাইকারী সাংবাদিক মহম্মদ জুবেরের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা এবং ২০২২ সালের গ্রেফতার দেখিয়েছে, একটি পুরনো সমাজমাধ্যমের পোস্টও কীভাবে বর্তমানের হাতকড়া হতে পারে। তিনি একটি মামলায় জামিন পাওয়ার মুখে অন্য রাজ্যের অন্য মামলা সামনে এসেছে। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে মুক্তি দিয়ে বলেছিল, ধারাবাহিক মামলার মাধ্যমে তাঁকে অন্তহীন হেফাজতে রাখা যায় না।
কিন্তু ২০২৪ সালেও গাজিয়াবাদে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা বিপন্ন করার অভিযোগ-সহ মামলা হয়। ধর্মীয় নেতার বক্তব্য নিয়ে তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সেই অভিযোগ। একাধিক আন্তর্জাতিক অধিকার সংগঠন মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল। অর্থাৎ তথ্য যাচাই করতে করতে জুবের নিজেই রাষ্ট্রীয় তথ্য-উৎপাদন ব্যবস্থার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছেন—প্রতিটি থানার কাছে তাঁর জন্য যেন আলাদা সত্য প্রস্তুত।
শুধু এক দল নয়, রোগটি সর্বদলীয়
এই প্রবণতাকে কেবল বিজেপি-শাসিত রাজ্যের অসুখ বললে সত্যের অর্ধেক বলা হবে। পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে সমালোচক ও সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশি মামলা, আটক এবং জিজ্ঞাসাবাদের অভিযোগ বহুবার উঠেছে। ২০১৯ সালে ইউটিউব চ্যানেলে সরকারের সমালোচনা করা সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুরুলিয়ার মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময়ে অর্ণব গোস্বামীর বিরুদ্ধে পুরনো আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা পুনরুজ্জীবিত করে গ্রেফতার করা হয়; তাঁর একটি অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিভিন্ন রাজ্যে অজস্র এফআইআর হয়েছিল। কংগ্রেস-শাসিত রাজ্যগুলিও সমালোচনামূলক সংবাদ বা সমাজমাধ্যমের বক্তব্যে পুলিশ ব্যবহারের প্রলোভন সব সময় প্রতিরোধ করতে পারেনি।
অতএব দল বদলালেই চরিত্রটি বদলায় না। বিরোধী অবস্থায় যে নেতা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য গলা ফাটান, ক্ষমতায় এসে তাঁর শ্রবণশক্তি দুর্বল হয়ে যায়। বিরোধী দলের নেতার কাছে সাংবাদিক হলেন ‘গণতন্ত্রের প্রহরী’; মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে একই সাংবাদিক হয়ে ওঠেন ‘ষড়যন্ত্রকারী’। দলীয় পতাকার রং বদলায়, থানার নীল কালি একই থাকে।
অর্ণব গোস্বামীর সাংবাদিকতার ধরন নিয়ে প্রবল আপত্তি থাকতেই পারে; তাঁর সম্প্রচার অনেক সময় বিভাজনমূলক ও অভিযুক্তকে আগাম দোষী সাব্যস্ত করার মতো হয়েছে বলেও সমালোচনা রয়েছে। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিজের পছন্দের সাংবাদিকের জন্য সংরক্ষিত কোনও বিশেষ সুবিধা নয়। যে নীতিতে জুবের বা কাপ্পানের সুরক্ষা চাই, সেই নীতিতেই অর্ণবের ন্যায্য আইনি সুরক্ষাও চাইতে হবে। স্বাধীনতার পরীক্ষা বন্ধুর ক্ষেত্রে নয়; অপছন্দের মানুষের ক্ষেত্রেই হয়।
থানাকে সংবাদ-সম্পাদক বানানোর পরিণাম
এফআইআর দায়ের হওয়া মানেই কেউ দোষী নন—এই কথাটি আইনের বইয়ে আছে। বাস্তব জীবনে তার অর্থ সম্পূর্ণ আলাদা। এফআইআরের পরে পুলিশ বাড়িতে আসতে পারে, মুঠোফোন ও কম্পিউটার নিয়ে যেতে পারে, ব্যাংক হিসাব পরীক্ষা করতে পারে, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে, অন্য শহরে হাজিরা দিতে বাধ্য করতে পারে। সংবাদদাতার সূত্রের পরিচয়, অপ্রকাশিত নথি এবং ব্যক্তিগত কথোপকথন রাষ্ট্রের হাতে চলে যেতে পারে।
এতে শুধু একজন সাংবাদিক ভয় পান না। তাঁর দশটি সূত্রও বুঝে যায়—কথা বললে তাদের পরিচয় ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা আছে। সম্পাদক হিসাব করেন, একটি প্রতিবেদন থেকে যত আয় হবে, তার চেয়ে মামলার খরচ বেশি। মালিক বলেন, খবরটি ঠিক হলেও ‘এই মুহূর্তে’ প্রকাশ না করাই ভাল। কোনও লিখিত নিষেধাজ্ঞা আসে না, সেন্সর কর্মকর্তা বসেন না; তবু সংবাদটি ছাপা হয় না। এটাই আধুনিক সেন্সরশিপের শ্রেষ্ঠ প্রযুক্তি—কাঁচি রাষ্ট্রের হাতে নয়, ভয়ে সম্পাদক নিজেই চালান।
এই কারণে প্রতিটি মামলাকে আলাদা ঘটনা বলে দেখলে মূল ছবিটি ধরা পড়ে না। কোথাও ধর্মীয় ভাবাবেগ, কোথাও জাতিগত অপমান, কোথাও রাষ্ট্রের অখণ্ডতা, কোথাও সরকারি কাজে বাধা, কোথাও বিদেশি অর্থ, কোথাও পথ-বিবাদ। অভিযোগগুলি বিচিত্র, ফল এক—সাংবাদিককে তাঁর সংবাদ থেকে সরিয়ে আত্মরক্ষায় ব্যস্ত রাখা।
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স বলেছে, ভারতে সরকার-সমালোচক সাংবাদিকেরা নিয়মিত অনলাইন হেনস্থা, ভয় দেখানো, শারীরিক আক্রমণ, ফৌজদারি মামলা ও নির্বিচার গ্রেফতারের মুখে পড়েন। সংস্থাটির ২০২৬ সালের মূল্যায়ন আরও বৃহত্তর বিপদের কথা বলছে—আইনকে অস্ত্র বানিয়ে সাংবাদিকতাকেই অপরাধে পরিণত করা এখন বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান হুমকি। ভারত সম্পর্কে সংস্থাটির মূল্যায়ন
আদালত মুক্তি দেয়, কিন্তু হারানো সময় কে ফেরায়?
সুপ্রিম কোর্ট বহুবার প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশান্ত কানোজিয়ার মুক্তি, বিনোদ দুয়ার মামলা বাতিল, মহম্মদ জুবেরের জামিন, সম্পাদকদের সংগঠনের সদস্যদের গ্রেফতার থেকে সুরক্ষা, অভিষেক উপাধ্যায়ের আগের মামলায় দমনমূলক ব্যবস্থা বন্ধ—উদাহরণ কম নয়। আদালত বারবার বলেছে, সরকারের সমালোচনা অপরাধ নয়।
কিন্তু প্রশ্ন হল, প্রতিটি সাংবাদিককে স্বাধীনতার প্রাথমিক পাঠ নিতে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত ছুটতে হবে কেন? সংবিধানের ১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদ কি কেবল সেই নাগরিকের জন্য, যাঁর দিল্লিতে দক্ষ আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্য আছে? থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক, জেলা পুলিশপ্রধান এবং রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর কি জানে না যে কঠোর সমালোচনা ও সহিংসতায় উস্কানি এক নয়?
আদালত দু’বছর পরে মুক্তি দিলে দু’বছরের কারাবাস মুছে যায় না। মামলা দশ বছর পরে বাতিল হলে দশ বছরের উৎকণ্ঠা ফেরত পাওয়া যায় না। বাজেয়াপ্ত কম্পিউটার ফেরত এলেও সূত্রের ভরসা ফেরে না। রাষ্ট্র শেষে হেরে গেলেও তার উদ্দেশ্য অনেক সময় পূর্ণ হয়—অন্য সাংবাদিকেরা দেখে শিখে নেন, কোন প্রশ্নটি না করাই নিরাপদ।
এফআইআরকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে
সাংবাদিকদের জন্য পৃথক অপরাধমুক্ত অঞ্চল তৈরি করার প্রয়োজন নেই। সাংবাদিক অপরাধ করলে সাধারণ আইনেই তদন্ত হবে। কিন্তু প্রকাশিত সংবাদ, মতামত বা সমাজমাধ্যমের বক্তব্যের জন্য গ্রেফতারযোগ্য কঠোর ধারা প্রয়োগের আগে উচ্চপদস্থ স্বাধীন আইনি পরীক্ষার ব্যবস্থা দরকার। এক অভিযোগে বিভিন্ন রাজ্যে একাধিক মামলা দায়ের বন্ধ করতে হবে। সংবাদকর্মীর বৈদ্যুতিন যন্ত্র বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে বিচারবিভাগীয় অনুমতি এবং সূত্রের গোপনীয়তা রক্ষার বিধান চাই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারী এবং অনুমোদনকারী আধিকারিকের জবাবদিহিও প্রয়োজন।
সবচেয়ে জরুরি, আদালতকে শুধু শেষ মুহূর্তের অগ্নিনির্বাপক না হয়ে ক্ষতিপূরণ ও ব্যক্তিগত দায় নির্ধারণ করতে হবে। মিথ্যা বা স্পষ্টতই অসংগত মামলায় রাষ্ট্রকে মোটা ক্ষতিপূরণ দিতে হলে থানার কলম কিছুটা সতর্ক হবে। এখন রাষ্ট্র জানে, মামলা না টিকলেও তার কোনও মূল্য দিতে হবে না; খরচ বহন করবেন সাংবাদিক, অর্থ দেবে জনগণ, আর পদোন্নতি পেতে পারেন সেই আধিকারিকই যিনি রাজনৈতিক প্রভুর অসন্তোষ সবচেয়ে দ্রুত বুঝেছেন।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি সাংবাদিকের নয়
সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এফআইআরকে অনেকেই পেশাগত সমস্যা মনে করেন। তা নয়। সাংবাদিক কার জন্য প্রশ্ন করেন? রামমন্দিরে দানের টাকা কোথায় গেল—এই প্রশ্ন দাতার। স্কুলে শিশুর পাতে ডাল নেই কেন—এই প্রশ্ন অভিভাবকের। হাথরসে কী ঘটেছিল—এই প্রশ্ন নাগরিকের। মণিপুরে প্রশাসন নিরপেক্ষ ছিল কি না—এই প্রশ্ন দেশের। সাংবাদিক কেবল প্রশ্নটিকে উচ্চারণ করেন।
তাঁকে চুপ করানোর অর্থ নাগরিকের জানার অধিকার কেড়ে নেওয়া। সংবাদদাতার দরজায় মাঝরাতে পুলিশের কড়া নাড়ার শব্দ আসলে প্রত্যেক নাগরিকের দরজাতেই পৌঁছয়, শুধু আমরা অনেক সময় ঘুমের ভান করি।
ভারতের শাসকেরা সম্ভবত একটি নতুন গণতান্ত্রিক সূত্র আবিষ্কার করেছেন: ভাল খবর সরকারের কৃতিত্ব, খারাপ খবর সাংবাদিকের অপরাধ। সেতু ভেঙে পড়লে প্রকৌশলীর আগে সংবাদদাতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করো; হাসপাতালে ওষুধ না থাকলে রোগীর আত্মীয়ের সাক্ষাৎকার নেওয়া প্রতিবেদকের ফোন বাজেয়াপ্ত করো; অনুদানের টাকা হারালে হিসাবরক্ষককে নয়, হিসাব চাওয়া মানুষটিকে ধরো। এতে সমস্যার সমাধান না হলেও সমস্যা দৃশ্যমান হওয়া বন্ধ হয়। চোখ বন্ধ করলে অন্ধকার নামে—আর অন্ধকারে সরকারি ভাবমূর্তি সত্যিই বেশ উজ্জ্বল দেখায়।
কিন্তু ইতিহাসের একটি বদভ্যাস আছে। এফআইআর দিয়ে সাময়িক নীরবতা কেনা যায়, সত্যকে স্থায়ী ভাবে গ্রেফতার করা যায় না। ক্ষমতার পালাবদল হয়, পুলিশ-ফাইলের ধুলো ঝরে, আদালতের দরজা একদিন খুলে যায়। তখন দেখা যায়, যে সাংবাদিককে রাষ্ট্রবিরোধী বলা হয়েছিল, তিনি আসলে রাষ্ট্রকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন। আর যারা দেশপ্রেমের নামে তাঁর মুখ বন্ধ করেছিল, তারা দেশকে সরকারের সমার্থক ভেবে বসেছিল।
সরকার দেশ নয়। শাসকের অস্বস্তি জাতীয় বিপর্যয় নয়। আর সাংবাদিকের প্রশ্ন—যতই তীক্ষ্ণ, বিরক্তিকর বা অপছন্দের হোক—এফআইআর লেখার আমন্ত্রণপত্র নয়। গণতন্ত্রে তার উত্তর দিতে হয়। থানায় পাঠাতে হয় না।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



