৯৩-এও ফিট!

যা জানা জরুরি
- ৯৩ বছর বয়সেও দিব্যি শক্ত-সমর্থ, সক্রিয় অভিনেত্রী সমীরা রেড্ডির বাবা চিন্তা পোলি রেড্ডি।
- তাঁর জীবনযাপন সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠছে—নব্বই পেরিয়েও কী ভাবে শরীর-মন চাঙ্গা রাখা যায়?
- বংশগতির পাশাপাশি দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত শরীরচর্চা, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক সুস্থতা এবং সময়মতো স্বাস্থ্যপরীক্ষার সম্মিলিত ফলেই সম্ভব ‘হেলদি এজিং’।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
৯৩ বছর বয়সেও দিব্যি শক্ত-সমর্থ, সক্রিয় অভিনেত্রী সমীরা রেড্ডির বাবা চিন্তা পোলি রেড্ডি। তাঁর জীবনযাপন সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠছে—নব্বই পেরিয়েও কী ভাবে শরীর-মন চাঙ্গা রাখা যায়? চিকিৎসকদের মতে, এর কোনও একক মন্ত্র নেই। বংশগতির পাশাপাশি দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত শরীরচর্চা, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক সুস্থতা এবং সময়মতো স্বাস্থ্যপরীক্ষার সম্মিলিত ফলেই সম্ভব ‘হেলদি এজিং’।
মুম্বইয়ের গ্লেনইগলস হাসপাতালের শল্য ও পরিপাকতন্ত্র এবং স্বল্প ক্ষতযুক্ত অস্ত্রোপচার বিভাগের অধিকর্তা চিকিৎসক প্রশান্ত রাওয়ের মতে, সুস্থ অবস্থায় নব্বইয়ের কোঠায় পৌঁছনো সাধারণত কোনও একটি বিশেষ কারণের ফল নয়। দীর্ঘায়ুতে জিনগত প্রভাব থাকলেও জীবনযাপন, শারীরিক সক্রিয়তা, পুষ্টি, ঘুম, মানসিক সুস্থতা এবং নিয়মিত চিকিৎসার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁর মতে, নব্বই পেরোনো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসার লক্ষ্য শুধু রোগ নিয়ন্ত্রণ করা নয়। বরং যত দিন সম্ভব তাঁদের নিজের দৈনন্দিন কাজ নিজেরাই করার ক্ষমতা ও স্বনির্ভরতা ধরে রাখাই হওয়া উচিত।
কারণ সুস্থ বার্ধক্য মানে শুধু বয়সের তুলনায় কমবয়সি দেখানো নয়। আসল বিষয় হল—বয়স বাড়লেও কতটা শক্তি, চলাফেরার ক্ষমতা এবং স্বাধীন জীবনযাপন ধরে রাখা যাচ্ছে।
পেশি হারাবেন না
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের পেশির পরিমাণ ও শক্তি কমতে থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় সারকোপেনিয়া। প্রবীণদের শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়ার অন্যতম বড় কারণ এটি।
পরামর্শদাতা পুষ্টিবিদ গরিমা গোয়েলের মতে, নিয়মিত হাঁটা এবং পেশির শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম এই সমস্যা মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে। এতে শুধু পেশি সচল থাকে না, শরীরের ভারসাম্যও ভালো থাকে। ফলে হাঁটা, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা, চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ানো কিংবা কোনও জিনিস বহনের মতো দৈনন্দিন কাজও সহজ হয়।
তবে ব্যায়াম মানেই কঠিন শরীরচর্চা নয়। বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী সহজ ব্যায়াম বেছে নিয়ে নিয়মিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অল্প ব্যায়ামও যদি নিয়ম করে করা যায়, তার সুফল অনেক।
পাতে থাকুক প্রোটিন
শরীরচর্চার পাশাপাশি খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। প্রবীণদের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, আঁশ এবং জল থাকা প্রয়োজন।
বয়স বাড়লে পেশি তৈরির কাজে শরীরের প্রোটিন ব্যবহারের ক্ষমতা কিছুটা কমে যেতে পারে। তাই এই সময়ে পর্যাপ্ত প্রোটিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডাল, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ডিম, সয়াবিন, মাছ কিংবা মুরগির মাংস খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। এগুলি পেশির গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
শুধু শরীর নয়, মনও
সুস্থ বার্ধক্যের জন্য শুধু ব্যায়াম আর পুষ্টিকর খাবার যথেষ্ট নয়। নিয়মিত চলাফেরা, পর্যাপ্ত ঘুম, সামাজিক যোগাযোগ, মানসিক ভাবে সক্রিয় থাকা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক চিকিৎসাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তবে প্রবীণদের শরীরচর্চা অবশ্যই ব্যক্তিভেদে ঠিক করা উচিত। যাঁদের ভারসাম্যের সমস্যা, গাঁটের অসুখ, হৃদ্রোগ বা অন্য কোনও শারীরিক জটিলতা রয়েছে, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই ব্যায়াম করবেন।
চিকিৎসক রাওয়ের মতে, প্রবীণদের ক্ষেত্রে দুর্বলতা, পেশিক্ষয়, বার বার পড়ে যাওয়া, দৃষ্টি বা শ্রবণশক্তির সমস্যা, রক্তচাপের ওঠানামা, ডায়াবিটিস, হৃদ্রোগ, স্মৃতিশক্তির পরিবর্তন কিংবা সংক্রমণের লক্ষণ সম্পর্কে পরিবারের সদস্যদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষার পাশাপাশি সময়মতো টিকাকরণ, ওষুধের প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা এবং দাঁত, চোখ ও কানের যত্নও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বয়স্কদের একাকীত্ব থেকে দূরে রাখতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পছন্দের কাজে যুক্ত রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
অর্থাৎ, ৯৩-এও শক্ত-সমর্থ থাকার রহস্য কোনও ম্যাজিক ফর্মুলা নয়। ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নিয়ম করে বছরের পর বছর ধরে রাখাই হতে পারে সুস্থ বার্ধক্যের আসল চাবিকাঠি।
গরিমার কথায়, সুস্থ বার্ধক্যের প্রস্তুতি বৃদ্ধ বয়সে গিয়ে শুরু করার প্রয়োজন নেই। আজ যে পেশিশক্তি, চলাফেরার অভ্যাস এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন তৈরি করা হচ্ছে, কয়েক দশক পরে তার উপরই নির্ভর করবে শরীর কতটা শক্তিশালী ও স্বনির্ভর থাকবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।
স্বাস্থ্য সতর্কতা: এটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। পরীক্ষা বা চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিবন্ধিত চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নিন।



