পা ফুলছে? সাবধান!

যা জানা জরুরি
- গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি ও পুষ্টির চাহিদা মেটাতে শরীরে রক্ত ও তরলের পরিমাণ বাড়ে।
- তারই অন্যতম পরিচিত ফল পায়ের পাতা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া।
- বিশেষ করে গর্ভাবস্থার শেষের দিকে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
গর্ভাবস্থায় শরীরের বদল আসা স্বাভাবিক। গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি ও পুষ্টির চাহিদা মেটাতে শরীরে রক্ত ও তরলের পরিমাণ বাড়ে। তারই অন্যতম পরিচিত ফল পায়ের পাতা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার শেষের দিকে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
আমেরিকার মেরিল্যান্ডের অ্যানেস্থেশিয়া ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কুণাল সুদ সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিয়োতে জানান, গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর প্রয়োজন মেটাতে শরীর স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি রক্ত ও তরল ধরে রাখে। হরমোনের প্রভাবে রক্তনালিগুলিও কিছুটা শিথিল হয়ে যায়। এর সঙ্গে বড় হতে থাকা জরায়ু পা থেকে হৃদ্যন্ত্রের দিকে রক্ত ফেরানোর পথে চাপ তৈরি করে। ফলে পায়ের পাতা ও গোড়ালিতে তরল জমে ফোলা দেখা দিতে পারে।
সাধারণত এই ফোলা সাময়িক এবং দিনের শেষে তা বাড়তে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি গুরুতর কোনও সমস্যার লক্ষণ নয়। তবে হাঁটাচলা বা দৈনন্দিন কাজের ক্ষেত্রে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
ফোলা কমাতে কী করবেন?
রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখা এবং অস্বস্তি কমাতে কয়েকটি সহজ অভ্যাস কাজে আসতে পারে—
- বিশ্রামের সময় পা শরীরের তুলনায় কিছুটা উঁচু করে রাখুন।
- চিকিৎসকের পরামর্শে কম্প্রেশন বা চাপযুক্ত বিশেষ মোজা ব্যবহার করতে পারেন। দিনের শুরুতে পরলে বেশি উপকার মিলতে পারে।
- হালকা হাঁটাচলা করুন এবং মাঝেমধ্যে গোড়ালি ঘোরানোর মতো সহজ ব্যায়াম করুন।
- পর্যাপ্ত জল পান করুন।
- অতিরিক্ত নুন এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে দিন।
- আরামদায়ক ও পায়ে চাপ না দেওয়া জুতো পরুন।
- দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা এড়িয়ে চলুন।
চিকিৎসক সুদের মতে, এগুলি ফোলা পুরোপুরি দূর না করলেও অস্বস্তি অনেকটাই কমাতে পারে।
কেন বাড়ে ফোলা?
বেঙ্গালুরুর প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গানা শ্রীনিবাসের মতে, পায়ের পাতা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘এডিমা’ বলা হয়। গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে এটি অত্যন্ত সাধারণ।
শিশুর বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মায়ের শরীরে রক্ত ও অন্যান্য তরলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যায়। সেই অতিরিক্ত তরলের কিছু অংশ শরীরের কোষকলায় জমে পা ফুলিয়ে দিতে পারে।
এর সঙ্গে যোগ হয় বড় হতে থাকা জরায়ুর চাপ। জরায়ু পেলভিসের শিরা এবং নিম্নাংশ থেকে হৃদ্যন্ত্রে রক্ত ফেরানোর প্রধান শিরার উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে পা থেকে রক্ত উপরের দিকে ফেরার গতি কমে যায় এবং নিম্নাঙ্গে তরল জমতে থাকে। গর্ভকালীন হরমোনের প্রভাবে রক্তনালি শিথিল হওয়ায় আশপাশের কোষকলায় তরল বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতাও বাড়ে।
কখন বিপদের সংকেত?
গর্ভাবস্থার শেষ দিকে, বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা গরমের সময়ে পায়ের পাতা ও গোড়ালিতে হালকা থেকে মাঝারি ফোলা সাধারণত স্বাভাবিক। কিন্তু হঠাৎ ফোলা বেড়ে গেলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়।
মুখ, হাত বা চোখের চারপাশ হঠাৎ ফুলে ওঠার সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, পেটের উপরের অংশে ব্যথা কিংবা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপজনিত গুরুতর জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে। এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।
আবার, শুধু একটি পা হঠাৎ ফুলে গিয়ে ব্যথা, লালচে ভাব বা অস্বাভাবিক গরম অনুভূত হলে রক্ত জমাট বাঁধার সম্ভাবনাও থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রেও দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
গর্ভাবস্থায় অস্বাভাবিক, হঠাৎ বা দ্রুত বাড়তে থাকা কোনও ফোলা দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ বা বিশেষ কোনও চিকিৎসা শুরু না করে প্রসূতি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।
স্বাস্থ্য সতর্কতা: এটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। পরীক্ষা বা চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিবন্ধিত চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নিন।



