নিউ টাউনে আদানি গোষ্ঠীর প্রস্তাবিত ২,০০০ শয্যার হাসপাতালকে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ‘বড় সাফল্য’ বলে অভিহিত করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, হাসপাতালটির অর্ধেক শয্যা আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য সংরক্ষিত থাকবে। বাকি ১,০০০ শয্যায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হবে।

সোমবার রাজ্য সচিবালয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আদানি গোষ্ঠীর কর্ণ আদানি তাঁর সঙ্গে দেখা করে প্রস্তাবিত হাসপাতালটি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। প্রকল্পটিতে রাজ্য সরকারের সম্মতির কথা লিখিতভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানিও দ্রুত কাজ শুরু করার ইচ্ছা প্রকাশ করে রাজ্য সরকারকে প্রতিশ্রুতিপত্র পাঠিয়েছেন বলে শুভেন্দু জানিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আদানি গোষ্ঠী নিউ টাউনে একটি হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। কর্ণ আদানি আমার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। আমি লিখিত সম্মতি দিয়েছি। গৌতম আদানি দ্রুত কাজ শুরু করার ইচ্ছা জানিয়ে প্রতিশ্রুতিপত্র পাঠিয়েছেন। এটি পশ্চিমবঙ্গের বড় সাফল্য।”

প্রস্তাবিত হাসপাতালটি নিউ টাউনের দ্বিতীয় কর্মাঞ্চলে গড়ে ওঠার কথা। হাসপাতালকে কেন্দ্র করে সেখানে একটি বৃহৎ স্বাস্থ্যনগরী গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্পটিতে প্রাথমিকভাবে অন্তত ২,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হতে পারে বলে এর আগে বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছিল। তবে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী প্রকল্পের মোট ব্যয়, জমির পরিমাণ কিংবা নির্মাণ শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময়সীমা সম্পর্কে নতুন কোনও তথ্য দেননি।

রাজ্য সরকারের মতে, ২,০০০ শয্যার এই চিকিৎসাকেন্দ্র চালু হলে কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী জেলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উপর চাপ অনেকটাই কমবে। বিশেষত জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য রাজ্যের বাইরে যাওয়ার প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রযুক্তিবিদ এবং সহায়ক পরিষেবার ক্ষেত্রে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রস্তাবিত হাসপাতালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল দরিদ্র রোগীদের জন্য ১,০০০টি শয্যা বিনামূল্যে রাখার অঙ্গীকার। তবে কারা এই সুবিধা পাবেন, রোগী নির্বাচনের মাপকাঠি কী হবে এবং ওষুধ, পরীক্ষা ও অস্ত্রোপচারের সম্পূর্ণ খরচ বিনামূল্যে দেওয়া হবে কি না—সেই বিষয়ে বিস্তারিত নীতি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

আদানিদের এই প্রকল্প রাজ্যে বৃহৎ বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও সরকারের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী একে প্রশাসনের বিনিয়োগমুখী নীতির সাফল্য হিসেবেই তুলে ধরেছেন। তবে বিরোধীদের বক্তব্য, কেবল প্রতিশ্রুতিপত্র নয়, জমি হস্তান্তর, অর্থের সংস্থান এবং নির্মাণের নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশের পরেই প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি বিচার করা সম্ভব হবে।

এখন নজর থাকবে চূড়ান্ত চুক্তি, নির্মাণের সূচি এবং বিনামূল্যের চিকিৎসার শর্তাবলি ঘোষণার দিকে। হাসপাতালটি পরিকল্পনামাফিক বাস্তবায়িত হলে এটি পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ চিকিৎসাকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।