খবর

আত্মসমর্পণ আগে, আপিল পরে

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • ২০১৩ সালের গোয়া ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত তেহেলকার প্রাক্তন সম্পাদক তরুণ তেজপালকে দু’সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।
  • আত্মসমর্পণের প্রমাণপত্র আদালতে জমা দেওয়ার পরেই বম্বে হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে তাঁর আপিলের মূল শুনানি হবে।
  • অর্থাৎ, আপিলের দরজা খুললেও তার আগে পেরোতে হবে আত্মসমর্পণের ধাপ।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

২০১৩ সালের গোয়া ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত তেহেলকার প্রাক্তন সম্পাদক তরুণ তেজপালকে দু’সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। আত্মসমর্পণের প্রমাণপত্র আদালতে জমা দেওয়ার পরেই বম্বে হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে তাঁর আপিলের মূল শুনানি হবে। অর্থাৎ, আপিলের দরজা খুললেও তার আগে পেরোতে হবে আত্মসমর্পণের ধাপ।

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। তেজপালের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল। তাঁর যুক্তি ছিল, আত্মসমর্পণের সময়সীমা এখনও শেষ হয়নি। ৬ আগস্ট বম্বে হাই কোর্টের গোয়া বেঞ্চ রায় ঘোষণার সময় তাঁকে চার সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল। তাই তার আগেই সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আপিলের শুনানি করতে পারে।

তবে সেই যুক্তি মানেনি শীর্ষ আদালত। বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, কোনও দণ্ডিত ব্যক্তি আত্মসমর্পণ না করলে, অথবা আত্মসমর্পণ থেকে অব্যাহতি চেয়ে পৃথক আবেদন না করলে, তাঁর ফৌজদারি আপিলের গুণাগুণ বিচার করা যায় না। ফলে তেজপালকে দু’সপ্তাহের মধ্যে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করে তার প্রমাণপত্র সুপ্রিম কোর্টে জমা দিতে বলা হয়েছে।

গোয়া সরকারের হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাও একই অবস্থান নেন। তাঁর বক্তব্য, আত্মসমর্পণ না করে সরাসরি আপিলের শুনানি চাওয়ার সুযোগ আইনে নেই। দণ্ডিত ব্যক্তিকে হয় আদালতের নির্দেশ মেনে আত্মসমর্পণ করতে হবে, নয়তো বিশেষ কারণ দেখিয়ে আত্মসমর্পণ থেকে অব্যাহতি চাইতে হবে।

এদিকে শুধু তেজপালই নন, গোয়া সরকারও বম্বে হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে। তবে রাজ্য সরকার তাঁর দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেনি। তাদের আপত্তি শাস্তির মেয়াদ নিয়ে। দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বদলে তেজপালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার দাবি জানিয়েছে গোয়া সরকার।

গত ৬ আগস্ট বম্বে হাই কোর্টের গোয়া বেঞ্চের বিচারপতি নীলা গোখলে ও বিচারপতি অমিত জামসানদেকর ২০২১ সালে দেওয়া নিম্ন আদালতের বেকসুর খালাসের রায় বাতিল করেন। তেজপালকে ধর্ষণ, যৌন হয়রানি এবং পোশাক খুলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আক্রমণ-সহ একাধিক ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে তাঁকে দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, নিম্ন আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুতর ভুল করেছিল। অভিযোগকারিণীর বক্তব্য ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণ সামগ্রিক ভাবে বিচার না করে এমন কিছু বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, যেগুলি যৌন অপরাধের মামলায় নির্ণায়ক হতে পারে না।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দাবি অবশ্য হাই কোর্ট খারিজ করে দেয়। আদালত মনে করে, ঘটনাটি প্রায় ১৩ বছর আগের এবং তার পর তেজপালের বিরুদ্ধে আর কোনও অপরাধমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠেনি। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ধর্ষণ ধারায় নির্ধারিত ন্যূনতম সাজা—দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড—দেওয়াই উপযুক্ত।

মামলার সূত্রপাত ২০১৩ সালের নভেম্বরে। গোয়ার একটি বিলাসবহুল হোটেলে তেহলকার অনুষ্ঠানের সময় পত্রিকার এক তরুণী সহকর্মীকে লিফটের ভিতরে তেজপাল যৌন নিগ্রহ করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারিণীর দাবি ছিল, পরপর দু’দিন তাঁর উপর যৌন হামলা হয়েছিল। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়। তেজপাল গ্রেফতার হন এবং দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পর জামিন পান।

২০২১ সালে গোয়ার দায়রা আদালত তাঁকে সমস্ত অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস করেছিল। সেই রায়ে অভিযোগকারিণীর আচরণ, ঘটনার পর তাঁর ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে করা পর্যবেক্ষণও তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়। সেই খালাসের রায়ের বিরুদ্ধেই গোয়া সরকার বম্বে হাই কোর্টে আবেদন করেছিল।

এখন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মামলাটি নতুন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আত্মসমর্পণ ও তার প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার পর তেজপালের আপিলের মূল শুনানি শুরু হবে। একই সঙ্গে গোয়া সরকারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দাবিও আদালতের সামনে থাকবে।

অর্থাৎ, পরবর্তী লড়াই হবে দু’দিকে—তেজপাল চাইবেন তাঁর দোষী সাব্যস্ত হওয়া ও সাজা বাতিল করতে, আর গোয়া সরকার চাইবে দশ বছরের সাজা বাড়িয়ে যাবজ্জীবন করা হোক। তবে সেই আইনি লড়াই শুরু হওয়ার আগে আপাতত আদালতের নির্দেশ মেনে আত্মসমর্পণই তেজপালের প্রথম পদক্ষেপ।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles