পাসপোর্টে ‘না’!

যা জানা জরুরি
- বিমান বাতিল হয়ে বিপাকে পড়েছিলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন জাতীয় পরিষদ অধ্যক্ষ তথা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতা আসাদ কায়সার।
- সেই দুর্ভোগের মধ্যেই নাকি আরও এক অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হয় তাঁকে।
- সংযুক্ত আরব আমিরশাহির একটি হোটেলে জাতীয়তার ভিত্তিতে যাত্রীদের আলাদা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তাঁর।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বিমান বাতিল হয়ে বিপাকে পড়েছিলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন জাতীয় পরিষদ অধ্যক্ষ তথা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতা আসাদ কায়সার। সেই দুর্ভোগের মধ্যেই নাকি আরও এক অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির একটি হোটেলে জাতীয়তার ভিত্তিতে যাত্রীদের আলাদা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তাঁর। কায়সারের দাবি, সেখানে জানানো হয়েছিল—শুধু ভারতীয় ও আমেরিকান পাসপোর্টধারীদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে। পাকিস্তানি যাত্রীদের জন্য সেই সুবিধা মেলেনি।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বিষয়টি তুলে ধরে কায়সার জানান, তিনিও ওই যাত্রায় ছিলেন। বিমান বাতিল হওয়ার পর যাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা প্রয়োজন হয়েছিল। কিন্তু হোটেলে পাকিস্তানি যাত্রীদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়, তা তাঁর কাছে অত্যন্ত অসম্মানজনক বলে মনে হয়েছে।
সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিয়োতেও নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান কায়সার। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট জায়গায় ঘোষণা করা হচ্ছিল, ভারত ও আমেরিকার পাসপোর্ট থাকা যাত্রীদের জন্যই থাকার ব্যবস্থা করা হবে। তাঁর কাছে আরও কয়েক জন পাকিস্তানি যাত্রী একই ধরনের আচরণের অভিযোগ করেছেন বলেও জানান তিনি।
তবে অভিযোগের সঙ্গে বেশ কিছু প্রশ্নও রয়ে যাচ্ছে। কোন বিমানটি বাতিল হয়েছিল, ঘটনাটি আমিরশাহির কোন বিমানবন্দর বা হোটেলে ঘটেছিল—কায়সার তা স্পষ্ট করেননি। হোটেলের কোনও নথি বা বিমান সংস্থার তথ্যও এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। সংশ্লিষ্ট হোটেল কিংবা আমিরশাহি কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়াও মেলেনি। ফলে আপাতত এটি কায়সারের অভিযোগ হিসাবেই সামনে রয়েছে।
কায়সারের দাবি, ইরান-আমেরিকা সংঘাতের মধ্যে হামলার দিন তাঁর বিমান বাতিল হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের বিকল্প আবাসনের প্রয়োজন দেখা দেয়। আর তখনই নাকি পাসপোর্টের ভিত্তিতে যাত্রীদের মধ্যে পার্থক্য করা হয়।
ঘটনাটিকে হালকা ভাবে দেখতে নারাজ কায়সার। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে পাকিস্তানের ‘ভ্রাতৃপ্রতিম ইসলামি দেশ’ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমিরশাহির উন্নয়নে পাকিস্তানি শ্রমিক ও পেশাজীবীদের দীর্ঘদিনের অবদান রয়েছে। দুই দেশের মানুষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তাঁর দাবি, এমন আচরণ কোনও ভাবেই কাম্য নয়।
পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক ও বিদেশমন্ত্রীকে কূটনৈতিক পথে বিষয়টি আমিরশাহি কর্তৃপক্ষের সামনে তোলারও দাবি জানিয়েছেন তিনি। কায়সারের বক্তব্য, একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার জেরে দুই দেশের সম্পর্ক খারাপ হওয়া উচিত নয়। তবে অভিযোগ সত্যি হলে তার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে বিপুল সংখ্যক পাকিস্তানি নাগরিক বসবাস ও কাজ করেন। তাঁদের পাঠানো অর্থও পাকিস্তানের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে কায়সারের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিছক একদল যাত্রীর দুর্ভোগের ঘটনা না থেকে কূটনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে এখনই অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। হোটেল, বিমান সংস্থা এবং আমিরশাহি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সামনে আসার পরই স্পষ্ট হবে, সত্যিই জাতীয়তার ভিত্তিতে বৈষম্য করা হয়েছিল কি না।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



