চার কোটি ভোটারের দরজায় সরকারের ১০০ দিনের ‘হিসাব’, জনমতও নেবে বিজেপি

যা জানা জরুরি
- পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর প্রথম ১০০ দিনে কী কী কাজ করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার, সেই ‘হিসাব’ নিয়ে এ বার সরাসরি ভোটারদের দরজায় পৌঁছবে বিজেপি।
- আগামী সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে রাজ্যের অন্তত চার কোটি মানুষের কাছে পৌঁছনোর লক্ষ্য নিয়েছে দল।
- সরকারের কাজের প্রচারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মতামত, অভিযোগ ও প্রত্যাশাও সংগ্রহ করবেন বিজেপির কর্মীরা।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর প্রথম ১০০ দিনে কী কী কাজ করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার, সেই ‘হিসাব’ নিয়ে এ বার সরাসরি ভোটারদের দরজায় পৌঁছবে বিজেপি। আগামী সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে রাজ্যের অন্তত চার কোটি মানুষের কাছে পৌঁছনোর লক্ষ্য নিয়েছে দল। সরকারের কাজের প্রচারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মতামত, অভিযোগ ও প্রত্যাশাও সংগ্রহ করবেন বিজেপির কর্মীরা।
এই জনসংযোগ অভিযানের জন্য ৪১ পাতার একটি পুস্তিকা তৈরি করা হয়েছে। তার নাম দেওয়া হয়েছে, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংকল্প এবং ১০০ দিনের সাফল্য’। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির ইস্তাহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সরকার গঠনের পর গৃহীত সিদ্ধান্তের তুলনামূলক বিবরণ রয়েছে ওই পুস্তিকায়। সোমবার নিউ টাউনে দলের প্রশিক্ষণ শিবিরে কর্মসূচির রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়। মঙ্গলবার থেকেই পাড়ায় পাড়ায় প্রচার শুরু করেছেন দলীয় কর্মীরা।
বিজেপির বক্তব্য, নির্বাচনের আগে মানুষের কাছে গিয়ে সমর্থন চাওয়া হয়েছিল। ফলে ক্ষমতায় আসার পরে সরকার কী করেছে, তার জবাবদিহিও ভোটারদের কাছেই করতে হবে। এই কারণেই ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে বড় ধরনের উৎসবের পরিবর্তে সরাসরি জনসংযোগের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। দলীয় মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “মানুষের সমর্থন চেয়ে আমরা তাঁদের কাছে গিয়েছিলাম। তাই তাঁদের কাছে আমরা দায়বদ্ধ।”
সরকারের প্রথম দফার সাফল্য হিসেবে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করার কথা বিশেষ ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তও প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই অনুমোদিত হয়েছিল। সরকারি চাকরিতে আবেদনের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানো, অন্নপূর্ণা যোজনা চালু এবং মহিলাদের আর্থিক সহায়তার বিষয়গুলিও প্রচারপুস্তিকায় স্থান পেয়েছে। সরকারের দাবি, অন্নপূর্ণা প্রকল্পে এক কোটির বেশি মহিলা মাসে তিন হাজার টাকা করে পাচ্ছেন।
কন্যাশ্রী প্রকল্পের নাম বদলে ‘কন্যারত্ন’ করার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার জন্য অতিরিক্ত সাহায্য এবং রাজ্যে ‘বেটি বচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচি চালু করার কথাও তুলে ধরছে বিজেপি। আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে গুন্ডাবিরোধী বিল, তোলাবাজি, বেআইনি কর আদায়, সিন্ডিকেট-অপরাধ এবং চোলাই মদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর চারটি পৃথক সহায়তা নম্বর চালু করার সিদ্ধান্তকে সরকারের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতর প্রথম ১০০ দিনে ২৩টি উদ্যোগ সম্পূর্ণ করেছে বলে সরকারের দাবি। তার মধ্যে রয়েছে এইচপিভি টিকাকরণ, স্বাস্থ্য ভবনে সংযুক্ত নিয়ন্ত্রণকক্ষ, সুন্দরবনের জন্য ২১০টি ভ্রাম্যমাণ ও জলপথের চিকিৎসা ইউনিট এবং দরিদ্র রোগীদের জন্য বেসরকারি হাসপাতালে আড়াই হাজার বিনামূল্যের শয্যার ব্যবস্থা।
তবে বিজেপি নেতৃত্ব স্বীকার করছে, ঘোষণা বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়—শেষ পর্যন্ত সেগুলির বাস্তবায়ন দিয়েই সরকারের মূল্যায়ন হবে। সেই কারণে জনতার প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করে কোথায় অসন্তোষ রয়েছে, তা প্রথম বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই চিহ্নিত করতে চাইছে দল। সরকারের ‘১০০ দিনের সাফল্য’ এবং মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা কতটা মেলে, এই অভিযান তারও প্রথম রাজনৈতিক পরীক্ষা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



