সিনসিনাটির গরমে কোর্টে লুটিয়ে বমি জোকোভিচের, রহস্যময় স্বাস্থ্যসমস্যার কথা জানালেন নিজেই

যা জানা জরুরি
- সিনসিনাটি ওপেনে অপ্রত্যাশিতভাবে দ্বিতীয় রাউন্ডেই বিদায় নিলেন নোভাক জোকোভিচ।
- তবে তাঁর পরাজয়ের চেয়েও বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে ম্যাচ চলাকালীন শারীরিক অসুস্থতা।
- প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতার মধ্যে একসময় হাঁটু গেড়ে কোর্টে বসে পড়েন সার্বিয়ার কিংবদন্তি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
সিনসিনাটি ওপেনে অপ্রত্যাশিতভাবে দ্বিতীয় রাউন্ডেই বিদায় নিলেন নোভাক জোকোভিচ। তবে তাঁর পরাজয়ের চেয়েও বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে ম্যাচ চলাকালীন শারীরিক অসুস্থতা। প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতার মধ্যে একসময় হাঁটু গেড়ে কোর্টে বসে পড়েন সার্বিয়ার কিংবদন্তি। পরে বিরতির সময় তোয়ালেতে তাঁকে বমি করতে দেখা যায়। চিকিৎসার জন্য সাময়িক বিরতি নেওয়ার পরেও আর স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারেননি তিনি।
বিশ্বের ৫০ নম্বর খেলোয়াড় আর্জেন্টিনার থিয়াগো আগুস্তিন তিরান্তের কাছে ২-৬, ৪-৬, ৪-৬ ফলে হেরে যান জোকোভিচ। গোটা ম্যাচেই তাঁকে অস্বস্তিতে ভুগতে দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে দ্বিতীয় সেটে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। কোর্টে পড়ে যাওয়ার পরে চিকিৎসক তাঁর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন। কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ ছেড়ে দেননি জোকোভিচ। কিন্তু প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার মতো শক্তি বা স্বাভাবিক ক্ষিপ্রতা তাঁর খেলায় আর দেখা যায়নি।
ম্যাচের পরে তিরান্তেকে অভিনন্দন জানিয়ে জোকোভিচ বলেন, “এই ম্যাচ আমার কাছে একেবারেই উপভোগ্য ছিল না। যে ভাবে শরীর সাড়া দিচ্ছিল, তাতে খেলা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এমন অভিজ্ঞতা এটাই প্রথম নয়, সম্ভবত শেষও নয়। বাস্তবতা মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।”
এর পরেই নিজের দীর্ঘদিনের একটি স্বাস্থ্যসমস্যার কথা প্রকাশ করেন ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক। রোগটির নাম অবশ্য তিনি জানাননি। জোকোভিচ বলেন, “আমার একটি শারীরিক সমস্যা রয়েছে, যা গত কয়েক বছর ধরে আমাকে ভোগাচ্ছে। গরম ও আর্দ্র পরিবেশে সেটি একাধিক জটিলতা তৈরি করে।”
সিনসিনাটিতে আবহাওয়া আর্দ্র হতে পারে, তা আগে থেকেই অনুমান করেছিলেন জোকোভিচ। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর ব্যাখ্যা, শুধু আবহাওয়া নয়—ম্যাচের উত্তেজনা, স্নায়ুর চাপ এবং আরও কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে স্বাস্থ্যসমস্যাকে গুরুতর করে তোলে। এ দিনও ঠিক সেটিই ঘটেছে।
এই পরাজয় জোকোভিচের সিনসিনাটি অভিযানের ইতিহাসে একটি বিরল ব্যর্থতা। ২০০৫ সালে প্রথম বার এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পর কখনও শেষ ৩২-এর আগে বিদায় নেননি তিনি। দীর্ঘ দুই দশকের সেই ধারাবাহিকতা এ বার থেমে গেল দ্বিতীয় রাউন্ডেই।
পরাজয়ের পরে আগামী বছর সিনসিনাটিতে তাঁর খেলা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। ফিরবেন কি না জানতে চাওয়া হলে জোকোভিচ বলেন, “আমি অবশ্যই আশা করি ফিরতে পারব। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে এখন মনে হচ্ছে, না ফেরার সম্ভাবনাই বেশি। ভবিষ্যৎ কী নিয়ে আসে, দেখা যাক।”
কয়েক মাস আগেই তিনি পেশাদার টেনিসে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা বলেছিলেন। সিনসিনাটির ঘটনা সেই উদ্বেগ আরও বাড়াল। বয়স, দীর্ঘদিনের শারীরিক ধকল এবং অজ্ঞাত স্বাস্থ্যসমস্যা—সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ স্তরের প্রতিযোগিতায় জোকোভিচ আর কত দিন খেলতে পারবেন, প্রশ্নটি এখন আরও জোরালো। তবে ম্যাচ সম্পূর্ণ করার চেষ্টা বুঝিয়ে দিয়েছে, শরীর বাধা দিলেও তাঁর প্রতিযোগিতার মানসিকতা এখনও অটুট।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



