বাবার অনুপ্রেরণা, শ্বশুরের পরামর্শ: এশিয়াডে সোনার লক্ষ্যে কাইনান চেনাই

যা জানা জরুরি
- কাইনান চেনাইয়ের বাবা দারিয়াসের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন ১৯৭৮ সালের এশিয়ান গেমসে ট্র্যাপে সোনাজয়ী রণধীর সিংহ।
- দারিয়াস নিজেও প্রাক্তন জাতীয় ট্র্যাপ চ্যাম্পিয়ন।
- ২০০৩ সালে শটগান শুটিং শুরু করা কাইনান বিয়ে করেছেন রণধীরের মেয়ে রিয়া রাজেশ্বরী কুমারীকে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
কাইনান চেনাইয়ের বাবা দারিয়াসের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন ১৯৭৮ সালের এশিয়ান গেমসে ট্র্যাপে সোনাজয়ী রণধীর সিংহ। তাঁদের আড্ডার অন্যতম প্রিয় বিষয় ছিল বন্দুক। দারিয়াস নিজেও প্রাক্তন জাতীয় ট্র্যাপ চ্যাম্পিয়ন। সম্প্রতি সেই বন্ধুত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে। ২০০৩ সালে শটগান শুটিং শুরু করা কাইনান বিয়ে করেছেন রণধীরের মেয়ে রিয়া রাজেশ্বরী কুমারীকে। তিনিও শুটিং করেন।
দারিয়াস ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে বলেন, “শুটিং জগতের অভিন্ন বন্ধুদের সূত্রে রণধীর সিংহজিকে দু’দশক বা তারও বেশি সময় ধরে চিনি। কাইনানকে তিনি একটাই পরামর্শ দিতেন—বিষয়টাকে সহজ রাখো, আর কিছু ঠিকঠাক না চললে ফিরে যাও একেবারে মৌলিক কৌশলগুলিতে। আজ কাইনান সেটাই করেছে।”
নীরুর এটি প্রথম এশিয়ান গেমস। অন্যদিকে, কাইনান ২০২৩ সালে হাংঝৌয়েই সাফল্যের স্বাদ পেয়েছিলেন। সেখানে দলগত সোনার পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন তিনি।
হায়দরাবাদে বাবাকে দেখেই কাইনানের শুটিংয়ে হাতেখড়ি। ২০০৭ সালে জয়পুরে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে বাবার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলেন। রিও অলিম্পিক্সে ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন তিনি; শেষ করেছিলেন উনিশতম স্থানে।
বাবা বলেন, “বন্ধু মানবজিৎ সিংহ সান্ধু এবং মনশের সিংহের জোরাজুরিতেই তিরিশের কোঠায় বয়সে আমি প্রতিযোগিতামূলক শুটিং শুরু করি। কাইনান তখন বোর্ডিং স্কুলে পড়ত। বিদেশে ছুটি কাটাতে গেলে ও আমার সঙ্গে শুটিং রেঞ্জে যেত। শুটিংয়ে আগ্রহ দেখানোর পর ওকে মনশেরের কাছে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দিই।”
বুধবার ভারতীয় জুটি মোট ১৩৬ স্কোর করে চতুর্থ স্থানে থেকে চার দলের ফাইনালে ওঠে। ফাইনালে প্রথম ১০টি শটের পর ছয় পয়েন্ট নিয়ে তারা চতুর্থ স্থানেই ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৩৪ স্কোর করে এশিয়ান গেমসের রেকর্ড গড়ে চিনকে অল্প ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জেতে ভারত।
নিজের ২০টি শটের মধ্যে কাইনান শুধু প্রথমটিতেই লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। নীরু প্রথম পাঁচটি শটের তিনটিতে লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। তবে ঘুরে দাঁড়িয়ে পরপর দু’টি সিরিজে নিখুঁত শুটিং করেন তিনি। শেষ সিরিজে আরও দু’টি শটে লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও ততক্ষণে সোনা জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ সেরে ফেলেছিল ভারতীয় জুটি।
দারিয়াস বলেন, “ব্যক্তিগত বিভাগের ফাইনালে উঠতে না পেরে কাইনান কিছুটা হতাশ ছিল। আর নীরু শুরুতে সমস্যায় পড়ায় দলকে লড়াইয়ে ফেরানোর দায়িত্ব ও নিজের কাঁধে তুলে নেয়। নীরুও যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তাতেই বুঝিয়েছে কেন ও সেরা শুটারদের একজন। চেক প্রজাতন্ত্রের ২০০৮ সালের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ডেভিড কোস্তেলেৎস্কির কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে কাইনান আরও ভাল শুটার হয়েছে। ভারতের বিদেশি কোচ পিটার উইলসনও কাইনানের শুটিং কৌশল এবং বন্দুকের বাঁটের প্রয়োজনীয় সমন্বয় নিয়ে কাজ করছেন।”
২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে ট্র্যাপ মিক্সড টিম ইভেন্ট থাকায় এই সোনার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
বর্তমানে ভারতের শটগান শুটিংয়ের হাই পারফরম্যান্স ম্যানেজার মনশের বলেন, “পরের লক্ষ্য অলিম্পিক্সের কোটা অর্জন। তবে এ ধরনের পারফরম্যান্স অবশ্যই সাহায্য করে।”
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



