দেশ

‘বন্দে মাতরম’ ঘিরে দ্বিমুখী আক্রমণের সামনে কংগ্রেস

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • স্বাধীনতা দিবসে কংগ্রেসের অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ পাঠ ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
  • বিজেপির অভিযোগ, গানটি পরিবেশনের সময় আপত্তি জানিয়েছিলেন কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সনিয়া গান্ধী।
  • অন্য দিকে, পূর্ণাঙ্গ গান গাওয়ার সিদ্ধান্তের জন্যই কংগ্রেসের সমালোচনা করেছেন প্রবীণ সিপিএম নেতা পিনারাই বিজয়ন।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

স্বাধীনতা দিবসে কংগ্রেসের অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ পাঠ ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, গানটি পরিবেশনের সময় আপত্তি জানিয়েছিলেন কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সনিয়া গান্ধী। কংগ্রেস সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। অন্য দিকে, পূর্ণাঙ্গ গান গাওয়ার সিদ্ধান্তের জন্যই কংগ্রেসের সমালোচনা করেছেন প্রবীণ সিপিএম নেতা পিনারাই বিজয়ন। অর্থাৎ একই ঘটনায় বিজেপি ও বাম—দুই বিপরীত দিক থেকেই আক্রমণের মুখে পড়েছে প্রধান বিরোধী দল।

কংগ্রেসের অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের একটি দৃশ্য সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিতর্কের সূত্রপাত। সেই দৃশ্যাংশ ভাগ করে বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বি এল সন্তোষ লেখেন, পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন নিয়ে ‘মা, ছেলে এবং দলের সর্বভারতীয় সভাপতি’ বিরক্ত বলে মনে হচ্ছে। তাঁর কটাক্ষ, স্বাধীনতার আগে থেকে স্বাধীনতার পরেও ‘কিছু মানসিকতা’ বদলায়নি। তাঁর ইঙ্গিত ছিল সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের দিকে।

প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুরও অভিযোগ করেন, ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বের অস্বস্তি আবার প্রকাশ্যে এসেছে। তাঁর বক্তব্য, এটি কোনও দলের নিজস্ব নিয়মকানুনের প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে গোটা দেশের সম্মান জড়িত। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘তুচ্ছ রাজনীতি’ এবং ‘তোষণনীতি’র অভিযোগ তুলে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানান তিনি।

বিজেপির মুখপাত্র সি আর কেশবন আরও তীব্র ভাষায় সনিয়া ও রাহুল গান্ধীকে ‘দেশপ্রেমহীন’ বলে আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, স্বাধীনতা সংগ্রামীরা ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি দিতে দিতে জীবন দিয়েছিলেন। সেই গানকে অবমাননা করে কংগ্রেস তাঁদের আত্মত্যাগকেই ছোট করেছে। ১৯৩৭ সালে জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস তোষণের জন্য গানটি ‘কেটে ছোট করেছিল’ বলেও অভিযোগ তাঁর।

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ অবশ্য অভিযোগ নস্যাৎ করে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, ১৯৩৭ সালের ২৮ অক্টোবর কলকাতায় কংগ্রেস কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শ অনুযায়ী ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম অংশটুকুই দলীয় অধিবেশনে গাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তার পর থেকে কংগ্রেস অধিবেশন, সেবা দল এবং দলীয় কর্মসূচিতে সেই অংশই গাওয়া হয়।

জয়রামের দাবি, শনিবার অবশ্য গানটির পূর্ণাঙ্গ পাঠ হয়েছিল এবং তা থামানোর কোনও চেষ্টা করেননি সনিয়া। কংগ্রেস সভাপতি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন বলেই সনিয়া তাঁর জন্য একটি চেয়ার আনার কথা বলছিলেন। সেই মুহূর্তের দৃশ্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে আপত্তি জানানোর ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।

অন্য দিকে, পিনারাই বিজয়নের সমালোচনা সম্পূর্ণ বিপরীত মেরু থেকে। তাঁর অভিযোগ, আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকা সত্ত্বেও কংগ্রেস সদর দফতর এবং কংগ্রেসশাসিত রাজ্যগুলির অনুষ্ঠানে পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ গেয়ে দলটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য থেকে সরে গিয়ে সঙ্ঘ পরিবারের ভাবাদর্শের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। ফলে একটি গানকে কেন্দ্র করে বিতর্কটি এখন শুধু দেশপ্রেম বনাম অবমাননার অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই; কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান ও ধর্মনিরপেক্ষতার সংজ্ঞা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles