Home সংস্কৃতি ও বিনোদন ‘বিতর্ক হলেই চাপা কথাও সামনে আসে’: ‘সতলুজ’ নিয়ে জিমি

‘বিতর্ক হলেই চাপা কথাও সামনে আসে’: ‘সতলুজ’ নিয়ে জিমি

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
15 views 3 minutes read
A+A-
Reset

দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত বিতর্কিত ছবি ‘সতলুজ’ নিয়ে এ বার মুখ খুললেন অভিনেতা জিমি শেরগিল। তাঁর মতে, সংবেদনশীল কোনও বিষয়কে ছুঁলে বিতর্ক তৈরি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। বরং সেই বিতর্কের মধ্যেই সামনে আসে এমন অনেক দিক, যা এত দিন চাপা ছিল।

গত মাসে ভারতে জি৫-এ মুক্তি পেয়েছিল ‘সতলুজ’। কিন্তু মুক্তির মাত্র দু’দিনের মধ্যেই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে ছবিটি উধাও হয়ে যায়। মানবাধিকার কর্মী যশবন্ত সিং খালরার জীবন অবলম্বনে তৈরি এই ছবি তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে সেন্সর সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে ছিল। কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র শংসাপত্র পর্ষদ ছবিটিতে ১২৭টিরও বেশি কাটছাঁটের নির্দেশ দিয়েছিল।

এই বিতর্ক প্রসঙ্গেই পিটিআইকে জিমি বলেন, “রাজনীতি রয়েছে এবং তা চলতেই থাকবে। কিন্তু এই ধরনের বিষয় নিয়ে আলোড়ন তৈরি হওয়াও ভাল। কারণ তাতে প্রতিটি দিক সামনে আসে।”

তাঁর ব্যাখ্যা, কোনও সংবেদনশীল বিষয়ের একটি দিক সামনে এলেই তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অন্য দিকগুলিও ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসে। তাঁর কথায়, “সংবেদনশীল কোনও বিষয়ের একটি দিকও যদি স্পর্শ করা হয়, তা হলে তার আড়ালে থাকা অন্য দিকগুলিও প্রকাশ্যে চলে আসে। এটাই এর রাজনীতি।”

‘মাচিস’ দিয়েই শুরু, বিষয়ও ছিল আগুনঝরা

জিমির নিজের অভিনয়জীবনের শুরু হয়েছিল এমনই এক সংবেদনশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ছবি দিয়ে। ১৯৯৬ সালে গুলজার পরিচালিত ‘মাচিস’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন তিনি।

আশির দশকের অশান্ত পঞ্জাবকে পটভূমি করে তৈরি ছবিতে জিমির সঙ্গে ছিলেন চন্দ্রচূড় সিং, ওম পুরী এবং তব্বু। রাজনৈতিক হিংসা, ক্ষোভ এবং সাধারণ মানুষের জীবনে তার অভিঘাতকে কেন্দ্র করে তৈরি ছবিটি মুক্তির পর সমালোচকদের প্রশংসার পাশাপাশি বাণিজ্যিক সাফল্যও পেয়েছিল।

৪৪তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘মাচিস’ জিতেছিল দু’টি সম্মান। সেরা জনপ্রিয় ও সর্বাঙ্গীণ বিনোদনমূলক চলচ্চিত্রের পুরস্কারের পাশাপাশি সেরা অভিনেত্রীর সম্মান পেয়েছিলেন তব্বু।

তবে সেই সময় জিমি ছিলেন একেবারেই নবাগত। ফলে ছবিটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বা চরিত্রের গভীরতা নিয়ে নিজের কোনও ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেয়ে তিনি ভরসা করেছিলেন পরিচালক গুলজারের উপর।

‘চিত্রনাট্য পড়ে কেঁদে ফেলেছিলাম’

নিজের প্রথম ছবির অভিজ্ঞতা স্মরণ করে জিমি বলেন, “ছবিটি যা বলতে চেয়েছিল, তা আসলে নির্মাতাদের ভাবনা। আমি তখন একেবারেই নতুন। দিল্লি থেকে এসেছিলাম। চিত্রনাট্য পড়ে আমি কেঁদে ফেলেছিলাম।”

তার পরেই আসে আরও বড় চমক—তিনি জানতে পারেন, ছবিতে তাঁকেই অভিনয় করতে হবে। চুল ও দাড়ি বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয় তাঁকে।

জিমির কথায়, “এমন একটি চরিত্র কী ভাবে করতে হয়, তা সত্যিই জানতাম না। শুধু অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম। পর্দায় আমাকে কেমন দেখাবে বা শেষ পর্যন্ত গোটা বিষয়টি কেমন দাঁড়াবে, সে সম্পর্কে কোনও ধারণাই ছিল না।”

গুলজারের এক কথাই ছিল ভরসা—‘হয়ে যাবে’

‘মাচিস’-এর শুটিংয়ের সময়ও যথেষ্ট চাপে থাকতেন জিমি। কিন্তু গুলজার তাঁকে শুধু অভিনয় করিয়ে থেমে থাকেননি। সেটে নিয়মিত থাকতে বলতেন, যাতে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতিটি ধাপ কাছ থেকে দেখতে পারেন তিনি।

জিমির স্মৃতিতে, “প্রতিটি শট আমার চোখের সামনেই হত। উনি হয়তো বলতেন, ‘এটা একটু বদলে দাও, ওই জামাকাপড়গুলো তুলে এক পাশে রাখো।’ আমিও সঙ্গে সঙ্গে ছুটে গিয়ে সাহায্য করতাম।”

তবে সবচেয়ে বেশি ভয় পেয়েছিলেন একটি দীর্ঘ স্বগতোক্তির দৃশ্য নিয়ে। এত বড় দৃশ্য সামলাতে পারবেন কি না, তা নিয়েই তাঁর দুশ্চিন্তা ছিল।

জিমি বলেন, “দৃশ্যটির কথা ভাবলেই ভয় পেতাম। আমি বলতাম, ‘স্যর, আমি একটু বসতে চাই…।’ উনি শুধু বলতেন, ‘সব ঠিক হয়ে যাবে। তুমি পারবে।’”

পরিচালকের সেই আস্থার পিছনে ছিল আরও একটি সরল যুক্তি—“তুমি যদি এটা করতে না পারতে, তা হলে আমি তোমাকে এই ছবিতে নিতাম না।”

গুলজারের এই বিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত জিমির সাহস বাড়িয়েছিল। পরিচালকের মুখে বারবার শোনা সেই আশ্বাস—‘হয়ে যাবে’—শেষ পর্যন্ত সত্যিই হয়ে গিয়েছিল।

আজ এত বছর পর ‘সতলুজ’-এর মতো একটি বিতর্কিত ছবিকে ঘিরে যখন ফের সংবেদনশীল বিষয়, রাজনীতি এবং শিল্পের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তখন জিমির নিজের প্রথম ছবির অভিজ্ঞতাও যেন সেই আলোচনায় অন্য মাত্রা যোগ করছে।

বর্তমানে জিমি শেরগিলকে দেখা যাচ্ছে নেটফ্লিক্সের ধারাবাহিক ‘অপারেশন সফেদ সাগর’-এ। সেখানে তিনি উইং কমান্ডার বি এস ধানোয়ার চরিত্রে অভিনয় করছেন—কার্গিল যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ আকাশযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া এক কমান্ডিং অফিসারের ভূমিকায়।

বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles