Home Sports ইনফান্তিনোকে সমর্থন না করায় অর্থ আটকে দেওয়ার হুমকি? ফিফার বিরুদ্ধে ‘ব্ল্যাকমেল’-এর বিস্ফোরক অভিযোগ

ইনফান্তিনোকে সমর্থন না করায় অর্থ আটকে দেওয়ার হুমকি? ফিফার বিরুদ্ধে ‘ব্ল্যাকমেল’-এর বিস্ফোরক অভিযোগ

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
16 views 4 minutes read
A+A-
Reset

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ক্রমশ বাড়ছে বিতর্ক। এবার জর্ডন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (জেএফএ) সভাপতি প্রিন্স আলি বিন আল-হুসেইন অভিযোগ করেছেন, ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদের পুনর্নির্বাচনে সমর্থন না দিলে তাদের প্রাপ্য আর্থিক সহায়তা আটকে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল ফিফা। তাঁর অভিযোগ, এটি ছিল সরাসরি ‘ব্ল্যাকমেল’ বা চাপ সৃষ্টি করে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা।

প্রিন্স আলি ২০১৬ সালে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ফিফা সভাপতির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং তৃতীয় হয়েছিলেন। তিনি পশ্চিম এশিয়া ফুটবল ফেডারেশনেরও (ডব্লিউএএফএফ) প্রধান। এই সংস্থার সদস্যদের মধ্যে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশ রয়েছে, যারা এতদিন ইনফান্তিনোর সমর্থক বলেই পরিচিত ছিল।

এই অভিযোগ এমন এক সময় সামনে এল, যখন ফিফার অভ্যন্তর থেকেই ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ফিফার মহাসচিব ম্যাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক ই-মেলে ব্যর্থ ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রকল্পকে “দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা” বলে উল্লেখ করেছেন। একইসঙ্গে ফিফার বৈশ্বিক ফুটবল উন্নয়ন বিভাগের প্রধান আর্সেন ভেঙ্গার বলেছেন, প্রকল্পটি প্রত্যাহার করা ছিল “সম্পূর্ণ প্রয়োজনীয় এবং প্রশ্নাতীত সিদ্ধান্ত”।

ইতিমধ্যেই ইনফান্তিনোর প্রতি বিভিন্ন দেশের সমর্থন কমতে শুরু করেছে। জানা গিয়েছে, গ্রিসও তাঁর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। এর আগে ইংল্যান্ড, ওয়েলস, ফিনল্যান্ড ও সার্বিয়া একই পথে হাঁটেছে। আগামী কয়েক দিনে আরও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ এই তালিকায় যোগ দিতে পারে। উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের কনকাকাফভুক্ত কয়েকটি দেশও সমর্থন প্রত্যাহারের বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত বিবৃতিতে প্রিন্স আলি অভিযোগ করেন, ছোট একটি দেশ হিসেবে জর্ডনকে ফিফার কাছ থেকে ন্যায্য সহায়তা পেতেই বারবার বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। তিনি জানান, এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া জর্ডনের বহু সমর্থক টিকিট কেনার পরও ভিসা পাননি। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ আয়োজনের সময় অতিরিক্ত কর আরোপ নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি আরব কাপকে ঘিরে। তাঁর দাবি, গত ডিসেম্বরে কাতারে অনুষ্ঠিত আরব কাপে রানার্স হওয়ার পরও জর্ডনের ফুটবলারদের প্রাপ্য পুরস্কারের অর্থ এখনও দেওয়া হয়নি।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমাদের দল ফাইনালে ওঠার জন্য যে অর্থ পাওয়ার কথা, তা এখনও দেওয়া হয়নি। অথচ ফিফা গর্ব করে বলে, তাদের রিজার্ভে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার রয়েছে।”

এরপরই তিনি সরাসরি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় তোলেন।

প্রিন্স আলির অভিযোগ, “সমস্যার মূল কারণ নেতৃত্ব। বহু মাস ধরে ফিফা আমাদের নানা বিষয়ে কোনও সাহায্য করছে না। বিশ্বকাপ চলাকালীন আমাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল, যদি আমি ইনফান্তিনোকে সমর্থন করি, তাহলে আমাদের ফুটবল সংস্থার সমস্যাগুলি সমাধান করা অনেক সহজ হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জর্ডন নৈতিক মূল্যবোধে বিশ্বাস করে। আমরা আগে তাঁকে সমর্থন করিনি, এখনও করব না। এই পুরো ঘটনাই ব্ল্যাকমেল, এবং আমরা এর কাছে নতি স্বীকার করব না।”

সূত্রের দাবি, শুধু জর্ডনই নয়, আরও কয়েকটি দেশের ফুটবল সংস্থার ওপরও মার্চে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা নির্বাচনের আগে ইনফান্তিনোকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। তবে অন্য দেশগুলির ক্ষেত্রে সেই চাপ কীভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এদিকে ফিফার মহাসচিব গ্রাফস্ট্রোম কর্মীদের উদ্দেশে লেখা ই-মেলে সাম্প্রতিক বিতর্ককে “দুঃখজনক ও নিন্দনীয়” বলে বর্ণনা করেন। তিনি লেখেন, “স্থায়ীভাবে পরিত্যক্ত এফএফই প্রকল্পকে ঘিরে যে ঘটনাগুলি ঘটেছে, তা অবশ্যই হতাশাজনক। কিন্তু সেই ঘটনাগুলি বিশ্বকাপের সাফল্যকে আড়াল করে দেওয়া উচিত নয়।”

তিনি আরও বলেন, “এই অস্থির পরিস্থিতি বোঝা এবং মেনে নেওয়া কঠিন। ব্যক্তি আসবে-যাবে, কঠিন সময়ও কেটে যাবে। কিন্তু প্রতিষ্ঠান, তার লক্ষ্য এবং বিশ্ব ফুটবলের প্রতি তার দায়িত্ব অটুট থাকবে। তাই আমাদের পেশাদারিত্ব, সংযম এবং দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে হবে।”

অন্যদিকে আর্সেন ভেঙ্গার স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিতর্কিত বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনিও আগে কিছু জানতেন না।

তাঁর কথায়, “এই কৌশলগত পরিকল্পনার সঙ্গে আমি যুক্ত ছিলাম না। সংবাদমাধ্যমের খবর থেকেই প্রথম বিষয়টি জানতে পারি। পরিকল্পনাটি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ প্রয়োজনীয় ছিল। আমি এমন একটি স্বাধীন ফিফায় বিশ্বাস করি, যা স্বচ্ছতা, সততা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে বিশ্ব ফুটবলের সেবা করবে।”

প্রিন্স আলির অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সংস্থার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

তবে বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ক্রমবর্ধমান সংকটের মধ্যে নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে ইনফান্তিনো বুধবার মরক্কোর রাজধানী রাবাতে ফিফা কর্মীদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডাকছেন।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles