বাংলাস্ফিয়ার: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টি জুলাই মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে ঘুরে দাঁড়ালেও আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে সেই গতি আবার কমে যেতে পারে। ভারতের আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) শুক্রবার জানিয়েছে, মৌসুমের বাকি সময়ে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম হতে পারে। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি গড় (এলপিএ)-র ৯৪ শতাংশেরও নিচে বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস প্রকাশ করে আইএমডি জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাসে এল নিনো আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার প্রভাবেই মৌসুমি বৃষ্টির দ্বিতীয়ার্ধ দুর্বল হতে পারে।

আইএমডির মহাপরিচালক এম. মহাপাত্র জানান, আগস্ট মাসে দেশের অধিকাংশ এলাকায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকবে। একই সঙ্গে আগস্ট মাসে সার্বিকভাবে বৃষ্টিপাতও স্বাভাবিকের তুলনায় কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে জুলাই মাসে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছিল। ৩০ জুলাই পর্যন্ত গোটা মৌসুমে বৃষ্টির ঘাটতি দাঁড়ায় ১৩ শতাংশ, যা জুনের শেষে ছিল ৪০ শতাংশ। জুলাই মাসে সারা দেশে মোট ২৮৩.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা ওই মাসের দীর্ঘমেয়াদি গড় ২৮০.৫ মিলিমিটারের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি। উল্লেখযোগ্য বিষয়, আইএমডি নিজেই জুলাই মাসে স্বাভাবিকের ৯৪ শতাংশ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে তার চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে।

মহাপাত্র জানান, জুলাইয়ে বঙ্গোপসাগরে চারটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছিল, যার মধ্যে দুটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। এই নিম্নচাপগুলির কারণেই বিশেষ করে মধ্য ভারতে ভালো বৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, গুজরাটের ভালসাদে একদিনেই ১,০০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। তাঁর কথায়, মাঝারি মাত্রার এল নিনো থাকলেও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সংখ্যক নিম্নচাপ তৈরি হওয়ায় তার নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

তবে জুলাই মাসে প্রাকৃতিক দুর্যোগের বলিও হয়েছে বহু মানুষ। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, রাজস্থান, উত্তরাখণ্ড ও মহারাষ্ট্রে বজ্রপাত ও বজ্রঝড়ে ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে অসম, মহারাষ্ট্র, জম্মু-কাশ্মীর, নাগাল্যান্ড, কেরল ও হিমাচল প্রদেশে বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৮৪ জন।

ভালো বৃষ্টি হলেও জুলাই ছিল ১৯০১ সালের পর ভারতের তৃতীয় উষ্ণতম জুলাই। মহাপাত্র জানান, দক্ষিণ উপদ্বীপীয় ভারত এবং পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হওয়ায় তাপমাত্রা বেশি ছিল। দক্ষিণ উপদ্বীপে এটি ছিল দ্বিতীয় উষ্ণতম জুলাই এবং পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে পঞ্চম উষ্ণতম জুলাই।

আগস্টে কী পূর্বাভাস?

আইএমডি জানিয়েছে, আগস্টে দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম হতে পারে। তবে উত্তর-পশ্চিম ও মধ্য ভারতের কিছু অংশ এবং পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্ন কয়েকটি এলাকায় স্বাভাবিক বা তার চেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে। সাধারণত আগস্টে ২৫৪.৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।

তবে মাসের শুরুটা তুলনামূলক ভালো হতে পারে। আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগস্টের প্রথম দুই সপ্তাহে দেশের অধিকাংশ এলাকায় স্বাভাবিক বৃষ্টি হবে। পশ্চিম, মধ্য, পূর্ব এবং উপদ্বীপীয় ভারতের কিছু অংশে এই সময় স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

জুলাইয়ের বৃষ্টিতে দেশের পরিস্থিতিও কিছুটা উন্নত হয়েছে। জুনের শেষে যেখানে মাত্র ৩০ শতাংশ জেলায় স্বাভাবিক বা তার বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছিল (২২৪টি জেলা), জুলাইয়ের শেষে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ শতাংশে (৩৮৮টি জেলা)।

তবে এই উন্নতি সত্ত্বেও গোটা মৌসুমের পূর্বাভাসে কোনও পরিবর্তন আনেনি আইএমডি। জুন মাসে সংস্থাটি এপ্রিলের ৯২ শতাংশ এলপিএ-র পূর্বাভাস কমিয়ে ৯০ শতাংশে নামিয়ে আনে এবং জানায়, স্বাভাবিকের চেয়েও কম বৃষ্টির সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ। এই ঘাটতির জন্য মূলত এল নিনোকেই দায়ী করছে আবহাওয়া দফতর।

এদিন বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)ও জানিয়েছে, এল নিনো ক্রমশ আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং আগস্ট-অক্টোবর ২০২৬ সময়কালে বিশ্বব্যাপী জলবায়ুর উপর তার প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে। এর ফলে বিশ্বের বহু অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। সংস্থার মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার অস্বাভাবিকতা প্রধান পর্যবেক্ষণ অঞ্চলে ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি হতে পারে।