বাংলাস্ফিয়ার: দিল্লির একটি আদালত ২০২১ সালে বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মামলায় ছাত্রনেত্রী ঐশী ঘোষের বিরুদ্ধে জারি হওয়া অজামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানার (এনবিডব্লিউ) উপর বুধবার স্থগিতাদেশ জারি করেছে।
পাটিয়ালা হাউস আদালতের বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট (প্রথম শ্রেণি) বিজয়শ্রী রাঠোর এই নির্দেশ দেন। এক দিন আগেই দিল্লি পুলিশ পরোয়ানা কার্যকর করতে সিপিআই(এম)-এর নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় দফতরে পৌঁছলে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। সিপিআই(এম)-এর অভিযোগ, সাম্প্রতিক দিল্লির ছাত্র আন্দোলনে ঐশী ঘোষের ভূমিকার জেরেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। তবে দিল্লি পুলিশের দাবি, তারা শুধুমাত্র ২০২১ সালের মামলায় আদালতের নির্দেশে জারি হওয়া পরোয়ানা কার্যকর করতেই সেখানে গিয়েছিল।
ঐশী ঘোষের আইনজীবী কে. এন. জয়শঙ্কর এবং সুভাষ চন্দ্রন কে. আর. আদালতে আবেদন জানিয়ে বলেন, অনিবার্য কারণে আগের শুনানির দিনে ঐশী আদালতে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত জানায়, আইনজীবীদের বক্তব্য বিবেচনা করে পরবর্তী শুনানির দিন পর্যন্ত অজামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানায় স্থগিতাদেশ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ঐশী ঘোষকে পরবর্তী শুনানির দিনে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ১১ এপ্রিল আদালত তাঁর বিরুদ্ধে অজামিনযোগ্য পরোয়ানা জারি করেছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জারি হওয়া আগের পরোয়ানা কার্যকর করা যায়নি, কারণ নির্দিষ্ট ঠিকানায় ঐশী ঘোষকে পাওয়া যায়নি। যদিও তদন্তকারী সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তাঁকে ফোনে শুনানির তারিখ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে আদালত উপ-পুলিশ কমিশনারের মাধ্যমে পরোয়ানা কার্যকর করার নির্দেশ দেয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অগস্ট মাসের পর থেকে ঐশী ঘোষ এবং তাঁর আইনজীবী একাধিকবার আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। এরপর আদালত প্রথমে একাধিক জামিনযোগ্য পরোয়ানা জারি করে এবং পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রথম অজামিনযোগ্য পরোয়ানা জারি করে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। সেদিন স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই) এবং ডেমোক্র্যাটিক ইয়ুথ ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (ডিওয়াইএফআই)-এর সদস্যরা চাণক্যপুরীর বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন। কলকাতায় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)-বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র ও যুব সংগঠনের কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানের প্রতিবাদেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।
দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, নিষিদ্ধ এলাকায় জারি থাকা বিধিনিষেধ অমান্য করে ওই বিক্ষোভ করা হয়। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, রাস্তা অবরোধ করেন এবং পুলিশ সরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও তা মানেননি।
ওই ঘটনার পর ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বারাখাম্বা রোড থানায় ঐশী ঘোষ-সহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৮৮ (সরকারি আদেশ অমান্য), ৩৪ (অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধ) এবং ৪৪৭ (অবৈধ অনুপ্রবেশ) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ এই মামলায় চার্জশিট জমা দেয়।