মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির পরাজয় শুধু একটি আসন হারানোর ঘটনা নয়, বরং দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণের স্পষ্ট প্রতিফলন। বহু বছর ধরে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দাতিয়ায় কংগ্রেসের জয় রাজনৈতিক মহলে বড় বার্তা দিয়েছে।
এই আসনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে ছিলেন বিজেপির প্রভাবশালী নেতা ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারোত্তম মিশ্র। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে পরাজিত হন। পরে উপনির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী না করে অন্য মুখের উপর ভরসা করে বিজেপি। দলের একাংশের মতে, সেখান থেকেই সমস্যার শুরু।
স্থানীয় বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, নারোত্তম মিশ্রের অনুগামীদের বড় অংশ ভোটের সময় সক্রিয়ভাবে মাঠে নামেননি। প্রকাশ্যে বিদ্রোহ না হলেও নীরব অসহযোগিতা সংগঠনের উপর বড় প্রভাব ফেলে। বুথ স্তরে কর্মীদের উৎসাহের ঘাটতি এবং ভোটারদের কাছে প্রত্যাশিতভাবে পৌঁছতে না পারার ফলেই বিজেপি পিছিয়ে পড়ে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল প্রার্থী নির্বাচন। বিরোধীরা প্রচার চালায় যে বিজেপি স্থানীয় মানুষের পছন্দকে গুরুত্ব না দিয়ে উপর থেকে প্রার্থী চাপিয়ে দিয়েছে। ফলে দলের ঐতিহ্যগত ভোটব্যাঙ্কের একটি অংশ নিরুৎসাহিত হয়।
অন্যদিকে কংগ্রেস তাদের প্রার্থীকে ঘিরে সুসংগঠিত প্রচার চালায়। স্থানীয় উন্নয়ন, কৃষক সমস্যা, বেকারত্ব এবং মূল্যবৃদ্ধির মতো ইস্যুকে সামনে রেখে তারা ভোটারদের কাছে পৌঁছতে সক্ষম হয়। উপনির্বাচনে সাধারণত স্থানীয় বিষয়ই বেশি প্রাধান্য পায়, আর সেই সুযোগ কার্যকরভাবে কাজে লাগায় কংগ্রেস।
বিজেপির ভিতরে আরও একটি উপলব্ধি তৈরি হয়েছে যে, দাতিয়ার মতো আসনে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জনপ্রিয়তার উপর নির্ভর করলে হবে না। শক্তিশালী স্থানীয় নেতৃত্ব, সংগঠনের ঐক্য এবং কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এমন আসন ধরে রাখা কঠিন।
দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই ফলাফল পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন বলেছেন, দাতিয়া এবং ব্যাঙ্কিপুর—দুই আসনের ফলই দল গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করবে।
দাতিয়ার ফল তাই বিজেপির কাছে একটি সতর্কবার্তা। একসময়ের নির্ভরযোগ্য দুর্গে পরাজয় দেখিয়ে দিল, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ এবং স্থানীয় নেতৃত্বের গুরুত্বকে উপেক্ষা করলে শক্ত ঘাঁটিও হাতছাড়া হতে পারে। নারোত্তম মিশ্রকে প্রার্থী না করার সিদ্ধান্ত এবং তার জেরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক প্রভাব এই পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।