Table of Contents
হাইলাইটস
- বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে একাধিকবার একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলেছে মেক্সিকো।
- ২০২৬ বিশ্বকাপে স্বাগতিক হিসেবে আবারও ইতিহাসের অংশ হতে চলেছে দেশটি।
- মাদ্রিদের ফুটবল ইতিহাসে ঘটেছে এক জাতীয় প্রথম।
- এভার্টনের প্রাক্তন ম্যানেজারদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ জাতীয় দলের কোচ হিসেবে উপস্থিত।
বিশ্বকাপ মানেই শুধু মাঠের লড়াই নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য বিচিত্র পরিসংখ্যান, ইতিহাস এবং কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার মুখে ফুটবলপ্রেমীদের নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দেখেছে দ্য গার্ডিয়ান-এর জনপ্রিয় বিভাগ “দ্য নলেজ”।
মেক্সিকো ও উদ্বোধনী ম্যাচের অদ্ভুত মিল
মেক্সিকো বিশ্বকাপ ইতিহাসে একটি বিশেষ নজিরের অংশ। স্বাগতিক দেশ হিসেবে তারা একাধিকবার একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে উদ্বোধনী ম্যাচ খেলেছে।
১৯৭০ বিশ্বকাপে মেক্সিকো উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের। ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। ১৯৮৬ সালে আবারও বিশ্বকাপের আয়োজক হয় মেক্সিকো। সেবার উদ্বোধনী ম্যাচেও তাদের প্রতিপক্ষ ছিল বুলগেরিয়া, যাদের বিরুদ্ধে তারা ১-১ ড্র করে।
২০২৬ সালে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজন করছে মেক্সিকো। ফলে ফুটবল ইতিহাসে প্রথম দেশ হিসেবে তারা তিনবার বিশ্বকাপ আয়োজনের রেকর্ড গড়ছে। উদ্বোধনী ম্যাচ নিয়ে আবারও নানা পরিসংখ্যান সামনে এসেছে, কারণ বিশ্বকাপের সূচনালগ্ন থেকেই মেক্সিকো প্রায়শই বিশেষ ঐতিহাসিক ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে।
মাদ্রিদের নতুন নজির
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ ফুটবল ইতিহাসে বহু স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী। তবে এবার ঘটেছে এক অভিনব ঘটনা। প্রথমবারের মতো মাদ্রিদ শহরের দুই প্রধান ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত কোচ বা ফুটবলাররা একই বিশ্বকাপে বিভিন্ন জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন।
এটি স্প্যানিশ ফুটবলের আন্তর্জাতিক প্রভাবের একটি বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অংশ নেওয়া বহু জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর কিংবা খেলোয়াড়দের অতীতের সঙ্গে মাদ্রিদের ক্লাব ফুটবলের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
এভার্টনের প্রাক্তন ম্যানেজারদের বিশ্বকাপ সংযোগ
এক পাঠকের প্রশ্ন ছিল—বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অংশগ্রহণকারী জাতীয় দলগুলির কোচদের মধ্যে কি এভার্টনের প্রাক্তন ম্যানেজারদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি?
উত্তরটি বেশ আকর্ষণীয়। বর্তমান বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কয়েকজন জাতীয় দলের প্রধান কোচ অতীতে ইংল্যান্ডের ক্লাব Everton F.C.-এর ম্যানেজার ছিলেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন Carlo Ancelotti, Roberto Martínez এবং Jesse Marsch-এর মতো পরিচিত নাম, যাদের কর্মজীবনের কোনও না কোনও পর্যায়ে এভার্টনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল অথবা ইংলিশ ফুটবলের সেই ধারার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ফলে এভার্টন সরাসরি বিশ্বকাপের মঞ্চে না থাকলেও, তাদের সাবেক কোচদের উপস্থিতি টুর্নামেন্টে বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে।
ফুটবলের ইতিহাসে ছোট তথ্য, বড় গল্প
বিশ্বকাপের মতো বৃহৎ প্রতিযোগিতার আগে এমন পরিসংখ্যান ও ঐতিহাসিক তথ্য ফুটবলপ্রেমীদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে। কখনও একটি উদ্বোধনী ম্যাচের পুনরাবৃত্তি, কখনও কোনও শহরের প্রথম নজির, আবার কখনও একটি ক্লাবের প্রাক্তন ম্যানেজারদের বৈশ্বিক প্রভাব—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ কেবল ৯০ মিনিটের খেলা নয়, বরং এক বিশাল ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক আখ্যান।
২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের আরও বহু অজানা গল্প সামনে আসবে, যা ফুটবলের পরিসংখ্যানকে জীবন্ত ইতিহাসে পরিণত করে।