বাংলাস্ফিয়ার: বিহারে নীট প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া এক মামা‌লা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কিশনগঞ্জ জেলার বাহাদুরগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরে নাম থাকা এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, গত চার মাস ধরে তিনি রাশিয়ায় অবস্থান করছেন। ফলে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া তো দূরের কথা, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর এই দাবি-সংবলিত ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশি তদন্ত ও এফআইআরের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ভাইরাল ভিডিওতে নিজেকে বাহাদুরগঞ্জ শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মুহাম্মদ সাদাকাত বলে পরিচয় দেন ওই ব্যক্তি। তিনি বলেন, ২৪ জুলাই নীট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে এলআরপি চক এলাকায় যে বিক্ষোভ হয়েছিল, সেই ঘটনায় প্রশাসন তাঁকে অভিযুক্ত করেছে। অথচ তিনি গত চার মাস ধরে রাশিয়ায় রয়েছেন।

ভিডিওতে সাদাকাত বলেন, “২৪ জুলাই নীট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে এলআরপি চকে বিক্ষোভ হয়েছিল। সেই মামলায় বাহাদুরগঞ্জ প্রশাসন আমার নাম যুক্ত করেছে। আমি গত চার মাস ধরে রাশিয়ায় আছি। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, আমার নামটি মামলা থেকে বাদ দেওয়া হোক। এর জন্য আমি কৃতজ্ঞ থাকব।”

সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ভিডিওটি বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্টে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি এমন সময় সামনে এল, যখন নীট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দেশজুড়ে আন্দোলনের জেরে বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। বিরোধী দল ও ছাত্র সংগঠনগুলির অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রে নির্বিচারে নাম জুড়ে দেওয়া হয়েছে এবং নিরপরাধ ব্যক্তিরাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এই ঘটনার পর সেই অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।

এদিকে বিহার সরকার ইতিমধ্যেই নীট আন্দোলন সংক্রান্ত বহু মামলার পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া বা ভুলবশত অভিযুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা হবে। সেই প্রেক্ষাপটে সাদাকাতের দাবি নতুন করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

তবে এখনও পর্যন্ত কিশনগঞ্জ জেলা পুলিশ বা বাহাদুরগঞ্জ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাদাকাতের ভিডিও নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তাঁর পাসপোর্ট, ভিসা, অভিবাসন সংক্রান্ত নথি বা বিদেশে থাকার প্রমাণ খতিয়ে দেখা হবে কি না, সে বিষয়েও কিছু জানানো হয়নি।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি প্রমাণিত হয় যে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাকালীন সত্যিই বিদেশে ছিলেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগ টিকবে না। বরং কীভাবে তাঁর নাম এফআইআরে অন্তর্ভুক্ত হল, তা নিয়েই তদন্তের প্রয়োজন হতে পারে।

এই ঘটনায় প্রশাসনের তদন্তের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এখন নজর থাকবে, পুলিশ সাদাকাতের দাবি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে কি না এবং এফআইআরে নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও তদন্ত শুরু হয় কি না।