International

টোকিও অচল হলে? বিকল্প রাজধানীর পথে জাপান

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • ভূমিকম্পপ্রবণ জাপান এবার টোকিওর বিকল্প হিসেবে ‘ব্যাকআপ ক্যাপিটাল’ গড়ার পথে এগোল।
  • বড় কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগে টোকিও অচল হয়ে পড়লে যাতে দেশের প্রশাসন, সরকার এবং জরুরি পরিষেবা থমকে না যায়, সেই লক্ষ্যেই নতুন আইন পাস করেছে…
  • জুলাইয়ে অনুমোদিত এই আইনের মাধ্যমে এক বা একাধিক অঞ্চলকে ভবিষ্যতে ‘ব্যাকআপ ক্যাপিটাল’ হিসেবে চিহ্নিত করার আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

ভূমিকম্পপ্রবণ জাপান এবার টোকিওর বিকল্প হিসেবে ‘ব্যাকআপ ক্যাপিটাল’ গড়ার পথে এগোল। বড় কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগে টোকিও অচল হয়ে পড়লে যাতে দেশের প্রশাসন, সরকার এবং জরুরি পরিষেবা থমকে না যায়, সেই লক্ষ্যেই নতুন আইন পাস করেছে জাপানের পার্লামেন্ট।

জুলাইয়ে অনুমোদিত এই আইনের মাধ্যমে এক বা একাধিক অঞ্চলকে ভবিষ্যতে ‘ব্যাকআপ ক্যাপিটাল’ হিসেবে চিহ্নিত করার আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, বড় বিপর্যয়ের সময় টোকিও কাজ করতে না পারলে দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার হাল ধরবে বিকল্প কোনও কেন্দ্র।

কেন টোকিওর বিকল্প?

জাপানের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্র টোকিও। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই মহানগরীই দেশের সরকারি ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু একই সঙ্গে এটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বড় মাত্রার ভূমিকম্প বা তার সঙ্গে সুনামি আঘাত হানলে টোকিওর পরিকাঠামো এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের কাজ চালিয়ে যাওয়া, জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নাগরিক পরিষেবা সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখেই টোকিওর বাইরে একটি বা একাধিক বিকল্প প্রশাসনিক কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা করছে জাপান।

ওসাকা কি পাবে অগ্রাধিকার?

পরিকল্পনাটি যতটা প্রশাসনিক, ততটাই রাজনৈতিক বিতর্কেরও। বিরোধীদের অভিযোগ, বিকল্প রাজধানী বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া পুরোপুরি নিরপেক্ষ নাও হতে পারে।

বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির জোটসঙ্গী জাপান ইনোভেশন পার্টির শক্ত ঘাঁটি ওসাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সমালোচকরা। তাঁদের মতে, দুর্যোগ মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিকল্পনা যেন রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ারে পরিণত না হয়।

বিতর্কের আঁচ এতটাই তীব্র হয়েছিল যে পার্লামেন্টের গ্রীষ্মকালীন ছুটিও পিছিয়ে দিতে হয়। নিম্নকক্ষে শাসক জোটের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে বিলটি সহজেই পাস হলেও, উচ্চকক্ষে বিরোধীদের তীব্র আপত্তির মুখে অল্প ব্যবধানে অনুমোদন পায়। ফলে আইন বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপে তাকাইচি সরকারকে আরও রাজনৈতিক চাপ সামলাতে হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভাবনা নতুন নয়, এবার আইনি ভিত্তি

টোকিওর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর আলোচনা জাপানে অবশ্য নতুন নয়। অতীতেও বড় দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় রাজধানীর বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির নানা প্রস্তাব উঠেছে। তবে এবারই প্রথম সরকার সেই পরিকল্পনাকে আইনি ভিত্তি দিল।

এখন মূল প্রশ্ন—কোন অঞ্চল বা অঞ্চলগুলিকে ‘ব্যাকআপ ক্যাপিটাল’ হিসেবে বেছে নেওয়া হবে?

তার পাশাপাশি নির্ধারণ করতে হবে, জরুরি পরিস্থিতিতে কোন সরকারি দপ্তর কোথায় সরানো হবে, প্রশাসনিক ক্ষমতা কীভাবে হস্তান্তরিত হবে এবং বিপর্যয়ের মধ্যেও দেশের শাসনব্যবস্থা কীভাবে সচল রাখা হবে।

দুর্যোগের বিরুদ্ধে ‘প্ল্যান বি’

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি ক্রমশ বাড়তে থাকায় বিকল্প রাজধানীর পরিকল্পনা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হতে পারে।

তবে সেই পরিকল্পনা সফল করতে হলে শুধু পরিকাঠামো তৈরি করলেই চলবে না। কোন শহরকে বেছে নেওয়া হবে, কেন বেছে নেওয়া হবে এবং কীভাবে গোটা প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে—সব ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক ঐকমত্য জরুরি।

কারণ টোকিও যদি কোনও দিন সত্যিই অচল হয়ে পড়ে, তখন ‘ব্যাকআপ ক্যাপিটাল’ শুধু একটি পরিকল্পনা নয়—দেশ চালু রাখার শেষ ভরসা হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles