থাইল্যান্ডে তিন ভারতীয় পর্যটককে অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন এবং পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে পাঁচ ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করেছে থাই পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, এই অপহরণচক্রের নেপথ্যে ছিলেন দুবাইয়ে বসবাসকারী এক পাকিস্তানি নাগরিক। ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা আদায়ের পরিকল্পনাও তাঁরই ছিল বলে পুলিশের অভিযোগ।
গ্রেফতার হওয়া পাঁচজন হলেন অবতার সিং (৩৮), জগজিৎ সিং (৩৮), রামবালক কুমার (২৪), সুখবীর সিং (৩৭) এবং কুলরা সিং (২৭)। মঙ্গলবার ব্যাংককের খ্লং তান এলাকার একটি হোটেল থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সেখান থেকে তাঁরা থাইল্যান্ড ছেড়ে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
তদন্তকারীদের কাছে ধৃতরা দাবি করেছেন, প্রায় এক মাস আগে একটি চ্যাটিং অ্যাপের মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে দুবাই-ভিত্তিক ওই পাকিস্তানি নাগরিকের যোগাযোগ হয়। তাঁর নির্দেশেই অপহরণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এর বিনিময়ে নগদ টাকা, মূল্যবান সামগ্রী এবং থাইল্যান্ড ছাড়ার বিমান টিকিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
সস্তার ভ্রমণের টোপ, তারপর বন্দি
পুলিশের অভিযোগ, কম খরচে সাত দিনের থাইল্যান্ড ভ্রমণের প্রলোভন দেখিয়ে তিন ভারতীয় পর্যটককে পাটায়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছিল। হাত-পা বেঁধে এবং মুখে টেপ লাগিয়ে তাঁদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি।
ঘটনাটি সামনে আসে ২১ জুলাই। থাইল্যান্ডে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস চনবুরি ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং পাটায়া সিটি পুলিশকে বিষয়টি জানায়। অপহৃতদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, ভিডিও কলে তাঁরা তাঁদের স্বজনদের হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখতে পেয়েছিলেন। প্রত্যেক পরিবারের কাছে ৪০ লক্ষ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ।
দূতাবাসের তথ্য, গোয়েন্দা সূত্র এবং সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে থাই পুলিশ। সোমবার পাটায়ার একটি দোতলা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তিন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের আলাদা ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। উদ্ধার করার সময় তাঁদের হাত-পা বাঁধা ছিল, মুখে টেপ লাগানো ছিল এবং শরীরে নির্যাতনের চিহ্নও দেখা যায়।
মুক্তিপণের জন্য ভয়াবহ ভিডিও?
অভিযানের সময় বাড়ি থেকে আঠালো টেপ, মারধরে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে এমন একটি কাঠের বস্তু এবং লাল রঙের স্প্রে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ওই স্প্রে ব্যবহার করে ভয় দেখানোর মতো ছবি ও ভিডিও তৈরি করা হয়েছিল। পরে সেগুলি অপহৃতদের পরিবারের সদস্যদের পাঠিয়ে মুক্তিপণের টাকা আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে পুলিশের দাবি।
তদন্তে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। উদ্ধার হওয়া তিন ভারতীয়ের দাবি, এর আগে একই বাড়িতে আরও এক ভারতীয়কে আটকে রাখা হয়েছিল। তাঁর পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ নেওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই দাবির সত্যতা খতিয়ে দেখছে থাই পুলিশ।
তদন্ত এখনও চলছে
ব্যাংকক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর পাটায়া পুলিশের প্রধান পল কর্নেল আনেক সাথোংইউ অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করেছেন।
তবে এই ঘটনায় তদন্ত এখনও চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আইনত নির্দোষ বলেই বিবেচিত হবেন।