International

চীনের লাইভ-ফায়ার মহড়া, কড়া বার্তা জাপানের

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • হাইলাইটস জাপানের দক্ষিণতম প্রবাল দ্বীপ ওকিনোতোরিশিমার কাছে চীনা ডেস্ট্রয়ারের লাইভ-ফায়ার মহড়া।
  • ঘটনায় বেইজিংয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়েছে টোকিও।
  • মহড়ার সময় চীনা যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে ছিল আরও দুটি চীনা নৌযান ও একটি রুশ ফ্রিগেট।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

হাইলাইটস

  • জাপানের দক্ষিণতম প্রবাল দ্বীপ ওকিনোতোরিশিমার কাছে চীনা ডেস্ট্রয়ারের লাইভ-ফায়ার মহড়া।
  • ঘটনায় বেইজিংয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়েছে টোকিও।
  • মহড়ার সময় চীনা যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে ছিল আরও দুটি চীনা নৌযান ও একটি রুশ ফ্রিগেট।
  • জাপানের অভিযোগ, কম সময়ের নোটিশে এমন মহড়া বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

জাপানের দক্ষিণতম প্রবাল দ্বীপ ওকিনোতোরিশিমার কাছে চীনা যুদ্ধজাহাজের লাইভ-ফায়ার মহড়াকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত পূর্ব চীন সাগর ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল। রবিবার ওই এলাকায় চীনের একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার গোলাবর্ষণ মহড়া চালানোর পর মঙ্গলবার বেইজিংয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে টোকিও।

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, চীনা ডেস্ট্রয়ারটি ওকিনোতোরিশিমা থেকে প্রায় ১১০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করে এই মহড়া চালায়। সেই সময় তার সঙ্গে ছিল আরও দুটি চীনা নৌযান এবং একটি রুশ ফ্রিগেট।

ঘটনাটি জাপানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে।

‘কম সময়ের নোটিশে মহড়া ঝুঁকিপূর্ণ’

জাপানের মুখ্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা জানান, মহড়ার আগে চীনা নৌবাহিনী রেডিও বার্তার মাধ্যমে আশপাশের জাহাজগুলিকে সতর্ক করেছিল।

তবে টোকিওর অভিযোগ, এত অল্প সময়ের নোটিশে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে লাইভ-ফায়ার মহড়া চালানো বাণিজ্যিক ও অন্যান্য জাহাজের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

জাপান সরকারের বক্তব্য, এই ধরনের সামরিক মহড়া নৌ-চলাচলের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করতে পারে। সেই কারণেই বেইজিংয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ছোট প্রবাল দ্বীপ, বড় ভূরাজনৈতিক লড়াই

ওকিনোতোরিশিমা আকারে ছোট একটি প্রবাল অ্যাটল হলেও কৌশলগত গুরুত্বে তা বিশাল।

এই দ্বীপকে ঘিরে জাপান একটি বিস্তীর্ণ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা ইইজেড দাবি করে। কিন্তু চীন দীর্ঘদিন ধরেই এই দাবির বিরোধিতা করে আসছে।

বেইজিংয়ের যুক্তি, ওকিনোতোরিশিমা প্রকৃত অর্থে কোনও দ্বীপ নয়, বরং একটি শিলা। তাই এর ভিত্তিতে এত বড় সামুদ্রিক এলাকা দাবি করা যায় না।

এই বিরোধই অঞ্চলটির সামুদ্রিক উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সঙ্গে রুশ ফ্রিগেট, বাড়ছে উদ্বেগ

সাম্প্রতিক মহড়ায় চীনা নৌযানের পাশাপাশি একটি রুশ ফ্রিগেটের উপস্থিতিও বিশেষ নজর কেড়েছে।

পূর্ব চীন সাগর, তাইওয়ান প্রণালী এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে চীনা নৌবাহিনীর তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্র দেশগুলিও ওই অঞ্চলে নজরদারি ও সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে।

ফলে সামরিক মহড়া, যুদ্ধজাহাজের চলাচল এবং নজরদারি অভিযানকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।

সাম্প্রতিক এই ঘটনাকেও সেই বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতারই নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

তবে এখনও পর্যন্ত জাপানের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদের বিষয়ে চীনের বিদেশ মন্ত্রক বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles