Table of Contents
হাইলাইটস
- ই২০ পেট্রল না চাইলে ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ পেট্রল ব্যবহারের বিকল্পের কথা জানালেন নীতিন গড়করি।
- তবে বিশুদ্ধ পেট্রলের জন্য বেশি দাম দিতে হবে বলে স্পষ্ট করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
- ই২০ নিয়ে গাড়ির মাইলেজ কমা ও ইঞ্জিনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি নিয়ে চালকদের একাংশের উদ্বেগ।
- কেন্দ্রের দাবি, ই২০ আমদানি করা তেলের উপর নির্ভরতা কমাবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াবে।
- ই২৫ চালু করার বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ই২০ পেট্রল নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের মধ্যেই গাড়িচালকদের উদ্দেশে বড় বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করি। তাঁর বক্তব্য, ইথানল-মিশ্রিত পেট্রল পছন্দ না হলে চালকরা ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ পেট্রল কিনতে পারেন। তবে সেই বিকল্পের জন্য বেশি দাম গুনতে হবে।
এক সাক্ষাৎকারে গড়করি বলেন, “যাঁরা ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানি চান না, তাঁরা ১০০ শতাংশ পেট্রল ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু তার দাম বেশি হবে।”
ই২০ নিয়ে দেশজুড়ে গাড়িচালকদের একাংশের উদ্বেগের মধ্যেই এই মন্তব্য করলেন তিনি।
ই২০ নিয়ে এত বিতর্ক কেন?
বর্তমানে দেশে ধাপে ধাপে ই২০ পেট্রলকে সাধারণ জ্বালানি হিসেবে চালু করা হয়েছে। এই জ্বালানিতে ২০ শতাংশ ইথানল এবং ৮০ শতাংশ পেট্রল থাকে।
কেন্দ্রের দাবি, ইথানল মেশানোর ফলে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের উপর ভারতের নির্ভরতা কমবে। পাশাপাশি দূষণ কমানোর পাশাপাশি আখ, ভুট্টা ও অন্যান্য কৃষিজ পণ্যের চাহিদা বাড়বে। এর ফলে কৃষকরাও উপকৃত হতে পারেন।
কিন্তু গাড়িচালকদের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়।
অনেকের দাবি, ই২০ ব্যবহারে গাড়ির মাইলেজ কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে পুরনো মডেলের গাড়িতে ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ, রাবারের পাইপ ও সিলের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।
মাইলেজ কমতে পারে, ইঞ্জিন নষ্ট হবে?
সরকার অবশ্য ই২০ নিয়ে সমস্ত অভিযোগ মানতে নারাজ।
কেন্দ্রের বক্তব্য, ইথানলের শক্তিমান পেট্রলের তুলনায় কম হওয়ায় কিছু গাড়িতে জ্বালানি দক্ষতা কয়েক শতাংশ কমতে পারে। অর্থাৎ একই দূরত্ব যেতে কিছুটা বেশি জ্বালানি লাগতে পারে।
তবে ই২০ ব্যবহারে ইঞ্জিনের স্থায়ী ক্ষতি হয়—এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি বলেই সরকারের দাবি।
নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে অবশ্য অধিকাংশ নির্মাতাই ই২০-সঙ্গতিপূর্ণ ইঞ্জিন বাজারে আনছে। পুরনো গাড়ির মালিকদের প্রস্তুতকারক সংস্থার নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের যুক্তি: জ্বালানি নিরাপত্তা
গড়করি দীর্ঘদিন ধরেই ইথানল ব্যবহারের পক্ষে সওয়াল করে আসছেন। তাঁর যুক্তি, ইথানল শুধু পরিবেশবান্ধব বিকল্প নয়, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
ভারত প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। ইথানলের ব্যবহার বাড়লে সেই নির্ভরতা কমানো সম্ভব হতে পারে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামার প্রভাবও কিছুটা কমতে পারে।
আখ, ভুট্টা, ভাঙা চাল এবং অন্যান্য কৃষিজ উৎপাদন থেকে ইথানল তৈরি করা যায়। ফলে এটি একটি পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি হিসেবেও বিবেচিত হয়।
প্রশ্ন গ্রাহকের পকেট নিয়ে
তবে বিরোধী দল এবং ভোক্তাদের একাংশের প্রশ্ন, ই২০ যদি উৎপাদনে তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়, তাহলে খুচরো বাজারে পেট্রলের দাম কমছে না কেন?
তাঁদের আরও যুক্তি, ই২০ ব্যবহারে মাইলেজ কমে গেলে শেষ পর্যন্ত গাড়িচালকের জ্বালানি খরচই বাড়বে। ফলে সস্তা জ্বালানির নীতি বাস্তবে সাধারণ মানুষের জন্য কতটা সাশ্রয়ী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
ই২৫ আসছে?
ই২০-র পরবর্তী ধাপ হিসেবে ২৫ শতাংশ ইথানল-মিশ্রিত ই২৫ পেট্রল নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কেন্দ্র এখনও এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, ই২৫ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। পরীক্ষার ফলাফল এবং গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলির মতামত পর্যালোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গড়করির সাম্প্রতিক মন্তব্যে অবশ্য একটি বিষয় স্পষ্ট—ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানির নীতি থেকে পিছিয়ে আসছে না সরকার। বরং ই২০ পছন্দ না করা গ্রাহকদের জন্য বিশুদ্ধ পেট্রলের বিকল্প রাখার কথা বলা হলেও, সেই বিকল্পের জন্য বেশি দাম দিতে হবে।
অর্থাৎ সামনে গাড়িচালকদের জন্য সমীকরণটা দাঁড়াচ্ছে—কম দামে ই২০, নাকি বেশি খরচে বিশুদ্ধ পেট্রল?