Home International আয়ারল্যান্ডে মিলল ‘অমর’ হাঙরের রহস্য

আয়ারল্যান্ডে মিলল ‘অমর’ হাঙরের রহস্য

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
7 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • আয়ারল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলে ভেসে এল বিরল গ্রিনল্যান্ড হাঙর।
  • বিজ্ঞানীদের মতে, এটি পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী মেরুদণ্ডী প্রাণীদের অন্যতম।
  • এই হাঙর ৩০০ থেকে ৪০০ বছর, এমনকি তারও বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারে।
  • বরফশীতল গভীর সমুদ্রের এই প্রাণী সম্পর্কে গবেষণার বিরল সুযোগ পেলেন বিজ্ঞানীরা।
  • বয়স, খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে মিলতে পারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

আয়ারল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলে ভেসে এল এমন এক সামুদ্রিক প্রাণী, যার জীবনের শুরু হতে পারে কয়েক শতাব্দী আগে। বিরল এক গ্রিনল্যান্ড হাঙর উপকূলে ভেসে আসার পর তাকে ঘিরে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানীদের মধ্যে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক গবেষকের কথায়, “আমরা সবাই বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম।” কারণ, বরফশীতল গভীর সমুদ্রের এই রহস্যময় প্রাণীকে এত কাছ থেকে দেখার সুযোগ অত্যন্ত বিরল।

৪০০ বছর বাঁচতে পারে এই হাঙর!

গ্রিনল্যান্ড হাঙর পৃথিবীর অন্যতম রহস্যময় সামুদ্রিক প্রাণী। সাধারণত উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক মহাসাগরের অন্ধকার, বরফশীতল জলে এদের দেখা যায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েকশো মিটার গভীরতা থেকে প্রায় ২ হাজার মিটার নীচেও এরা বাস করতে পারে।

আর তাদের সবচেয়ে বড় বিস্ময়—দীর্ঘায়ু।

গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে, একটি গ্রিনল্যান্ড হাঙর ৩০০ থেকে ৪০০ বছর, এমনকি তারও বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারে। অর্থাৎ বর্তমানে জীবিত কোনও কোনও হাঙরের জন্ম হতে পারে ইউরোপের শিল্পবিপ্লবেরও আগে!

তবে এই দীর্ঘ জীবন আসে অত্যন্ত ধীর গতিতে। বছরে মাত্র প্রায় এক সেন্টিমিটার করে বাড়ে এদের শরীর। পূর্ণবয়স্ক হতে তাই সময় লাগে কয়েক দশক। বিজ্ঞানীদের ধারণা, স্ত্রী গ্রিনল্যান্ড হাঙর ১৫০ বছরেরও বেশি বয়সে প্রজননক্ষম হতে পারে।

প্রাণিজগতে এমন ধীর জীবনচক্র অত্যন্ত বিরল।

উপকূলে এল কেন?

আয়ারল্যান্ডে ভেসে আসা হাঙরটির মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে বিজ্ঞানীদের কাছে এটি গবেষণার এক অসাধারণ সুযোগ।

প্রাণীটির শরীর পরীক্ষা করে জানা যেতে পারে—

  • তার আনুমানিক বয়স;
  • স্বাস্থ্য ও রোগের অবস্থা;
  • কী ধরনের খাবার খেত;
  • শরীরে দূষণের প্রভাব ছিল কি না;
  • গভীর সমুদ্রের পরিবেশের পরিবর্তন তার ওপর কী প্রভাব ফেলেছে।

গবেষকদের মতে, উপকূলে ভেসে আসা গভীর সমুদ্রের প্রতিটি প্রাণী যেন এক একটি “জীবন্ত তথ্যভাণ্ডার”। কারণ, যেসব গভীর অঞ্চলে মানুষের পক্ষে পৌঁছনো অত্যন্ত কঠিন, সেখানকার পরিবেশ সম্পর্কে সরাসরি তথ্য সংগ্রহের সুযোগ খুবই সীমিত।

চোখে পরজীবী, তবু শিকারে দক্ষ

গ্রিনল্যান্ড হাঙরের চোখে প্রায়ই একটি পরজীবী জীব বাসা বাঁধে। এর ফলে তাদের দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে যেতে পারে, এমনকি সম্পূর্ণ নষ্টও হতে পারে।

তবুও এই হাঙররা শিকার করতে সক্ষম। ঘ্রাণশক্তি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল অঙ্গের সাহায্যে তারা গভীর সমুদ্রের অন্ধকারে খাবার খুঁজে নেয়।

এরা খুব দ্রুতগতির নয়। বরং বিশ্বের অন্যতম ধীরগতির হাঙর হিসেবে পরিচিত। তবুও মাছ, স্কুইড, এমনকি সিলও শিকার করতে পারে। আবার মৃত প্রাণীর দেহ খেয়েও বেঁচে থাকে।

ফলে গভীর সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রেও এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ‘জীবন্ত সাক্ষী’?

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং মানুষের সামুদ্রিক কর্মকাণ্ডের কারণে গভীর সমুদ্রের পরিবেশও ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে।

গ্রিনল্যান্ড হাঙরের মতো দীর্ঘজীবী প্রাণী এই পরিবর্তনের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হতে পারে। কারণ, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বেঁচে থাকা একটি প্রাণীর শরীরে পরিবেশগত পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের চিহ্ন পাওয়া যেতে পারে।

আয়ারল্যান্ডের এই বিরল ঘটনাকে তাই শুধু একটি অদ্ভুত সামুদ্রিক প্রাণী উপকূলে ভেসে আসার ঘটনা হিসেবে দেখছেন না গবেষকেরা। তাঁদের মতে, এর মাধ্যমে গভীর সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত পরিবর্তন সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পৃথিবীর গভীর সমুদ্র এখনও অনেকটাই অনাবিষ্কৃত। সেখানে বসবাসকারী গ্রিনল্যান্ড হাঙরের মতো প্রাণীরা শুধু দীর্ঘায়ুর বিস্ময় নয়—তারা বহন করে বিবর্তন, জলবায়ু এবং সামুদ্রিক পরিবেশের বহু শতাব্দীর ইতিহাস।

আয়ারল্যান্ডের উপকূলে ভেসে আসা এই বিরল হাঙর তাই যেন সেই অজানা জগতের দরজা হঠাৎ খুলে দেওয়া এক জীবন্ত বার্তা।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles