হাইলাইটস
- ইউক্রেনের একাধিক শহরে ৬০০-রও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া।
- অন্তত ২২ জন নিহত, আহত হয়েছেন কয়েকশো মানুষ।
- ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা।
- কয়েক মাসের মধ্যে এটি রাশিয়ার সবচেয়ে বড় হামলাগুলির একটি।
- যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রগতি না হওয়ায় বেসামরিক এলাকাগুলিতে হামলা বাড়িয়েছে মস্কো, অভিযোগ কিয়েভের।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর দাবি, দেশটির একাধিক শহর লক্ষ্য করে ৬০০-রও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে এটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম সমন্বিত হামলা বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকশো মানুষ আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে আবাসিক ভবন, বেসামরিক অবকাঠামো এবং জনবহুল এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে রয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলি রাতভর তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কিয়েভের অভিযোগ, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে না পেরে সাম্প্রতিক মাসগুলিতে রাশিয়া ক্রমশ বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করছে। ইউক্রেনের দাবি, এই ধরনের হামলার উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং দেশের অবকাঠামোকে বিপর্যস্ত করে দেওয়া।
অন্যদিকে, মস্কো বরাবরই দাবি করে এসেছে যে তাদের সামরিক অভিযান কেবল কৌশলগত ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুকেই কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। তবে ইউক্রেন এবং পশ্চিমা দেশগুলির অভিযোগ, বাস্তবে বহু হামলার প্রধান শিকার হচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরাই।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন চতুর্থ বছরের দিকে এগিয়ে চলেছে। সংঘাতের দীর্ঘস্থায়িত্বের সঙ্গে সঙ্গে ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ এই হামলা আবারও প্রমাণ করল যে যুদ্ধের ভয়াবহতা এখনও কমার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না এবং বেসামরিক মানুষের ওপর তার মূল্য ক্রমেই আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে।