Home International ডাউনিং স্ট্রিটে নতুন মুখ, পুরনো সংকট

ডাউনিং স্ট্রিটে নতুন মুখ, পুরনো সংকট

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
6 views 2 minutes read
A+A-
Reset

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এমন এক সময়ে ডাউনিং স্ট্রিটে পা রাখলেন, যখন দেশটি একসঙ্গে অর্থনৈতিক স্থবিরতা, জনঅসন্তোষ এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি।

২০১৬ সালের পর ব্রিটেনের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া বার্নহ্যামের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু সরকার চালানো নয়—একটি ক্লান্ত, বিভক্ত এবং আস্থাহীন দেশকে নতুন করে বিশ্বাস করানো।

তাঁর পূর্বসূরি কিয়ার স্টারমার বিপুল নির্বাচনী জয়ের মাত্র দুই বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই ক্ষমতা হারিয়েছেন। সেই পরাজয়ই বুঝিয়ে দিয়েছে, ভোটারদের ধৈর্য এখন কতটা সীমিত।

‘সার্কিট ব্রেকার’ হতে চান বার্নহ্যাম

দায়িত্ব নেওয়ার পরই ৫৬ বছর বয়সি বার্নহ্যাম আগামী দশকের জন্য অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার একটি রূপরেখা সামনে এনেছেন।

তাঁর দাবি, ব্রিটেনের এখন দরকার একটি ‘সার্কিট ব্রেকার’—এমন এক নীতিগত পরিবর্তন, যা গত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রূপান্তর ঘটাতে পারে।

লক্ষ্য শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো নয়। বার্নহ্যাম রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং জনগণের আস্থা পুনর্গঠন করতেও চাইছেন।

কিন্তু প্রতিশ্রুতি দেওয়া যতটা সহজ, তা বাস্তবায়ন করা ততটাই কঠিন।

অর্থনীতি থেকে অভিবাসন—চ্যালেঞ্জ সর্বত্র

ব্রিটেনের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতির। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, স্বাস্থ্য পরিষেবা চাপের মুখে, জনপরিষেবাগুলি ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ে বাড়তে থাকা জনঅসন্তোষ। এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়েই রিফর্ম পার্টির উত্থান ঘটেছে।

ফলে বার্নহ্যামের সামনে দ্বৈত চ্যালেঞ্জ—একদিকে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা, অন্যদিকে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে ভোটাররা মনে করবেন সরকার তাঁদের সমস্যার কথা সত্যিই শুনছে।

দ্রুত ও দৃশ্যমান ফল না এলে লেবার সরকারের জনপ্রিয়তা আরও কমতে পারে।

বিদেশের মাটিতেও বড় পরীক্ষা

অভ্যন্তরীণ সংকটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বার্নহ্যামের সামনে কম চ্যালেঞ্জ নেই।

ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করা, নতুন বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব তৈরি করা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা—সবই তাঁর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

কিন্তু পররাষ্ট্রনীতিতে বার্নহ্যামের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা সীমিত। ফলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে নতুন করে নিজের নেতৃত্বের সক্ষমতাও প্রমাণ করতে হবে।

ভারতের নজরও লন্ডনের দিকে

বার্নহ্যামের সরকারের দিকে ভারতেরও বিশেষ নজর থাকবে।

সদ্য কার্যকর হওয়া ভারত-যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন, প্রযুক্তি সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

ব্রিটেনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রেও ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

শুধু বিল কমালেই বদল আসবে না

বার্নহ্যামের সামনে সবচেয়ে বড় বিপদ হল, বড় রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত ছোটখাটো ঘোষণায় আটকে যাওয়া।

বিদ্যুতের বিল কমানো, কর ছাড় বা সাময়িক আর্থিক স্বস্তি জনমনে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু ব্রিটেনের দীর্ঘমেয়াদি সংকট কাটাতে হলে অর্থনীতি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, আবাসন, জনপরিষেবা এবং অভিবাসন নীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হবে।

সেখানেই আসল পরীক্ষা।

ব্রিটিশ ব্যতিক্রমবাদের পুরনো ধারণা এখন অনেকটাই অতীত। দেশটির অর্থনীতি আর আগের মতো দ্রুত বাড়ছে না, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর আস্থা কমছে এবং ভোটাররা ক্রমশ অধৈর্য হয়ে উঠছেন।

তাই বার্নহ্যামের সামনে প্রশ্নটা শুধু তিনি কতটা জনপ্রিয় হতে পারবেন, তা নয়।

প্রশ্ন হল—তিনি কি সত্যিই এমন পরিবর্তন আনতে পারবেন, যা ব্রিটেনকে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা থেকে বের করে নতুন পথে নিয়ে যাবে?

শেষ পর্যন্ত তাঁর ‘সার্কিট ব্রেকার’ শুধু একটি রাজনৈতিক স্লোগান হয়ে থাকবে, নাকি সত্যিই ব্রিটিশ রাজনীতির গতিপথ বদলে দেবে—তার উত্তরই এখন সময়ের অপেক্ষা।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles