Table of Contents
হাইলাইটস
- টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৫১তম আসরে বিশ্বপ্রিমিয়ার হবে রিচি মেহতার ‘ফুলন’।
- ফুলন দেবীর জীবনের এক নাটকীয় ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে ছবিটি।
- ১৯৯৭ সালের আত্মজীবনী I, Phoolan – The Autobiography of India’s Bandit Queen থেকে অনুপ্রাণিত চিত্রনাট্য।
- ‘Delhi Crime’-এর পর নতুন ছবিতে বাস্তব ইতিহাস ও সামাজিক রাজনীতির জটিলতায় ফিরছেন রিচি মেহতা।
- উৎসবের পর প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পাবে ছবিটি; তবে এখনও প্রকাশিত হয়নি নির্দিষ্ট মুক্তির তারিখ।
ভারতের অন্যতম বিতর্কিত, আলোচিত এবং জটিল ঐতিহাসিক চরিত্র ফুলন দেবী এবার পৌঁছে যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের অন্যতম বড় মঞ্চে।
পরিচালক রিচি মেহতার নতুন ছবি ‘ফুলন’-এর বিশ্বপ্রিমিয়ার হবে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (TIFF) ৫১তম আসরে। উৎসবের স্পেশাল প্রেজেন্টেশনস বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে ছবিটি—যা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রমহলে বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর টরন্টোর প্রিন্সেস অব ওয়েলস থিয়েটারে ছবিটির প্রথম প্রদর্শনী হবে। উৎসবের পর প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পাবে ‘ফুলন’। তবে ওটিটি মুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
‘ফুলন’—শুধু একটি জীবনী নয়
ছবিটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা দুটিই করেছেন রিচি মেহতা। তাঁর আগের কাজ Delhi Crime আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপক প্রশংসা পাওয়ার পাশাপাশি এমি পুরস্কারও জিতেছিল।
তাই ‘ফুলন’ নিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের প্রত্যাশাও যথেষ্ট বেশি।
ছবিটির কাহিনি অনুপ্রাণিত ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত ফুলন দেবীর আত্মজীবনী I, Phoolan – The Autobiography of India’s Bandit Queen থেকে। তবে এটি ফুলন দেবীর গোটা জীবনের সরলরৈখিক বয়ান নয়।
বরং তাঁর জীবনের এক বিশেষ, উত্তাল এবং রুদ্ধশ্বাস অধ্যায়কে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে ছবিটি।
প্রযোজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছে এমন এক সময়, যখন হাজার হাজার সশস্ত্র মানুষ ফুলন দেবীকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে একটি গ্রাম ঘিরে ফেলেছিল।
জীবন-মৃত্যুর সেই সংকটময় মুহূর্তে প্রতিশোধ, বেঁচে থাকার লড়াই এবং ক্ষমতার রাজনীতির সংঘাতই হয়ে উঠেছে ছবির মূল বিষয়।
এক জীবনে বহু পরিচয়
ফুলন দেবীর জীবন ভারতীয় সমাজ ও রাজনীতির ইতিহাসে এক গভীরভাবে বিতর্কিত অধ্যায়।
উত্তরপ্রদেশের এক দরিদ্র মল্লাহ পরিবারে জন্ম নেওয়া ফুলন শৈশব থেকেই সামাজিক বৈষম্য, লিঙ্গবৈষম্য এবং নির্যাতনের মুখোমুখি হন।
পরবর্তীকালে তিনি চম্বলের ডাকাত দলে যোগ দেন। একাধিক রক্তক্ষয়ী ঘটনার সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ১৯৮১ সালের বেহমাই হত্যাকাণ্ড তাঁকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
তবে তাঁর জীবন সেখানেই থেমে থাকেনি।
১৯৮৩ সালে দীর্ঘ আলোচনার পর আত্মসমর্পণ করেন ফুলন। এক দশকেরও বেশি সময় কারাবন্দি থাকার পর মুক্তি পেয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। সমাজবাদী পার্টির টিকিটে লোকসভায় নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্যও হন।
২০০১ সালে দিল্লিতে আততায়ীর গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়।
একই জীবনে তিনি কখনও ‘ডাকাত রানি’, কখনও অপরাধী, কখনও নিপীড়িত নারী, আবার কখনও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত হয়েছেন।
‘ব্যান্ডিট কুইন’-এর পর নতুন ব্যাখ্যা
ফুলন দেবীর জীবন নিয়ে এর আগেও একাধিক বই, তথ্যচিত্র এবং চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য শেখর কপূর পরিচালিত ‘ব্যান্ডিট কুইন’। ছবিটি আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপক প্রশংসা পেলেও ফুলন দেবী নিজে এর কিছু অংশ নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন।
সেই প্রেক্ষাপটে রিচি মেহতা তাঁর জীবনের ঘটনাগুলিকে কীভাবে নতুন করে ব্যাখ্যা করেন, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তব ঘটনা ও সামাজিক জটিলতাকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরার দক্ষতা রয়েছে রিচি মেহতার। তাঁর কাজের কেন্দ্রে বারবার উঠে এসেছে অপরাধ, রাষ্ট্র, সমাজ এবং ক্ষমতার সম্পর্ক।
ফলে ‘ফুলন’ কেবল একটি জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র হয়ে থাকবে না বলেই মনে করছেন অনেকে। জাতপাত, নারী নির্যাতন, সামাজিক বঞ্চনা, ক্ষমতার রাজনীতি এবং প্রতিরোধ—সবকিছুই ছবিটির আলোচনায় উঠে আসতে পারে।
টরন্টো থেকে বিশ্বমঞ্চে
টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। বহু উল্লেখযোগ্য ছবি এখান থেকেই বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে।
সেই উৎসবের স্পেশাল প্রেজেন্টেশনস বিভাগে ‘ফুলন’-এর অন্তর্ভুক্তি ছবিটির আন্তর্জাতিক সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এখন অপেক্ষা ১৬ সেপ্টেম্বরের। টরন্টোয় বিশ্বপ্রিমিয়ারের পর প্রাইম ভিডিওর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকের কাছে পৌঁছে যাবে ফুলন দেবীর গল্প।
এক নারীর গল্প—যাঁর জীবন একই সঙ্গে বেদনা, বিতর্ক, অপরাধ, রাজনীতি এবং প্রতিরোধের এক অসাধারণ সমীকরণ।