International

এস-৪০০-এর খোঁজে পাকিস্তানের গুপ্তচর!

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতের এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অবস্থান জানতে দেশের মাটিতে গুপ্তচর এবং ‘স্লিপার সেল’ সক্রিয় করেছিল পাকিস্তান!
  • এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন ভারতীয় বায়ুসেনার অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জীতেন্দ্র মিশ্র।
  • ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাতের সময় পশ্চিমাঞ্চলীয় বায়ুসেনা কমান্ডের নেতৃত্বে থাকা মিশ্র সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, পাকিস্তানি বিমান অভিযানের…

বিস্তারিত প্রতিবেদন

অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতের এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অবস্থান জানতে দেশের মাটিতে গুপ্তচর এবং ‘স্লিপার সেল’ সক্রিয় করেছিল পাকিস্তান! এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন ভারতীয় বায়ুসেনার অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জীতেন্দ্র মিশ্র। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাতের সময় পশ্চিমাঞ্চলীয় বায়ুসেনা কমান্ডের নেতৃত্বে থাকা মিশ্র সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, পাকিস্তানি বিমান অভিযানের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ভারতের এস-৪০০ ব্যবস্থা। তাই সেটির অবস্থান জানতে মরিয়া ছিল ইসলামাবাদ।

মিশ্রের দাবি, পাকিস্তান শুধু প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বা আকাশপথের তথ্যের উপর নির্ভর করেনি। ভারতের ভিতরে থাকা গুপ্তচরদের মাধ্যমেও এস-৪০০-র অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা হয়েছিল। পাশাপাশি কোনও কোনও দেশের কাছ থেকে উপগ্রহভিত্তিক সহায়তাও পেয়েছিল পাকিস্তান বলে দাবি তাঁর। তবে সেই দেশগুলির নাম প্রকাশ করেননি অবসরপ্রাপ্ত এই বায়ুসেনা কর্তা।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এস-৪০০ মোতায়েন থাকার কারণে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ভারতীয় সীমান্তের প্রায় ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে ঢোকার ঝুঁকি নিতে পারছিল না। ফলে ভারতের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কোথায় রয়েছে, তা শনাক্ত করা পাকিস্তানের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। মিশ্রের ভাষ্যে, এস-৪০০ কার্যত পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানগুলির চলাচলের পরিসর সংকুচিত করে দিয়েছিল।

রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ হল দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যেখানে শক্তিশালী নজরদারি রাডারের সঙ্গে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত থাকে। বিমান-সহ বিভিন্ন ধরনের আকাশপথের হুমকি দূর থেকে শনাক্ত করে তা প্রতিহত করাই এর মূল কাজ।

তবে পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তির নাম, গ্রেফতার বা মামলা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে এই দাবিকে আপাতত মিশ্রের বক্তব্য হিসেবেই দেখা উচিত।

রাডার ভাঙতেই বাড়ল আকাশনজরদারি

সাক্ষাৎকারে সংঘাতের অন্য দিকগুলিও তুলে ধরেছেন মিশ্র। তাঁর দাবি, ভারতীয় হামলায় পাকিস্তানের একাধিক স্থলভিত্তিক রাডার এবং দু’টি নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আকাশপথে নজরদারি চালানো বিমানের উপর পাকিস্তানের নির্ভরতা বেড়ে যায়। পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে থাকা মার্কিন প্রযুক্তিনির্ভর একটি রাডারও ভারতীয় অভিযানের নিশানা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।

এর পরেই সরগোধা থেকে পরিচালিত একটি আকাশভিত্তিক আগাম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ বিমানকে এস-৪০০ দিয়ে আঘাত করার দাবি করেন মিশ্র। তাঁর বক্তব্য, লক্ষ্যবস্তুর দূরত্ব ছিল প্রায় ৩১৪ কিলোমিটার। এটিকে সামরিক ইতিহাসে এই ধরনের অন্যতম, এমনকি সবচেয়ে দূরপাল্লার সফল আঘাত বলেও বর্ণনা করেছেন তিনি। তবে এই দাবি বা ৩১৪ কিলোমিটার দূরত্বের স্বাধীন যাচাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

পহেলগাঁও থেকে অপারেশন সিঁদুর

পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ৭ মে ভারত পাকিস্তানে নয়টি জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালায়। মিশ্রের দাবি, সেখানেই অভিযান থামিয়ে দেওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের পাল্টা হামলার জেরে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ে।

তাঁর বয়ান অনুযায়ী, প্রথম দিকে আদমপুর বিমানঘাঁটির দিকে প্রায় ১৪-১৫টি চালকবিহীন বিমান পাঠিয়েছিল পাকিস্তান। সবক’টিকেই নিষ্ক্রিয় করা হয় বলে দাবি তাঁর। ৯ মে থেকে হামলার মাত্রা আরও বাড়ে।

মিশ্র আরও জানান, পরবর্তী সময়ে একটি দূরপাল্লার চালকবিহীন বিমান একটি বায়ুসেনা ঘাঁটির হাসপাতাল এবং সংলগ্ন অসামরিক দফতরে আঘাত হানে। তাঁর দাবি, ঘটনায় এক বায়ুসেনা সদস্যের মৃত্যু হয় এবং আরও এক জনের হাত বাদ দিতে হয়।

মহিলা পাইলটদেরও অভিযানে অংশগ্রহণ

অভিযানের লক্ষ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় নির্দেশের কথা তুলে ধরেছেন মিশ্র। তাঁর দাবি, সাধারণ নাগরিকের ক্ষয়ক্ষতি এড়িয়ে জঙ্গি এবং তাদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে অভিযানের কৌশল নির্ধারণে সামরিক বাহিনীকে যথেষ্ট স্বাধীনতাও দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

মিশ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, একাধিক অভিযানে মহিলা যুদ্ধবিমানচালকরাও অংশ নেন। মুরিদকেতে লস্কর-ই-তইবার সদর দফতরে হামলা চালানো মহিলা পাইলটদেরই পরে পাকিস্তানের বিমানঘাঁটি ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের বিরুদ্ধেও অভিযানে পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।

গোটা সাক্ষাৎকারে মিশ্র এস-৪০০-র কার্যকারিতা, অস্ত্র ব্যবহারের দক্ষতা, লক্ষ্য নির্বাচনের কৌশল এবং অভিযানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ—এই সবকিছুকেই অপারেশন সিঁদুরে ভারতের সামরিক সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

তবে তাঁর বর্ণনায় থাকা সামরিক সাফল্য, এস-৪০০ দিয়ে ৩১৪ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরে গুপ্তচর সক্রিয় করার মতো দাবিগুলির স্বাধীন যাচাই এখনও প্রকাশ্যে নেই। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির পাল্টা বক্তব্যও পর্যালোচিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles