অন্নপূর্ণায় ‘ভাত নেই’?

যা জানা জরুরি
- বিজেপির ৩ হাজার টাকার প্রতিশ্রুতি কোথায়, প্রশ্ন মমতার; যোগ্য মহিলাদের টাকা না পাওয়ার অভিযোগে সরব তৃণমূল কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির দেওয়া প্রতিশ্রুতির পরও…
- তাঁর দাবি, নির্বাচনী প্রচারে মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সরকার গঠনের কয়েক মাস পরেও বহু যোগ্য মহিলা সেই অর্থ থেকে…
- মমতার অভিযোগ, আবেদন করার পরেও অনেক মহিলার কাছে টাকা পৌঁছচ্ছে না।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বিজেপির ৩ হাজার টাকার প্রতিশ্রুতি কোথায়, প্রশ্ন মমতার; যোগ্য মহিলাদের টাকা না পাওয়ার অভিযোগে সরব তৃণমূল
কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির দেওয়া প্রতিশ্রুতির পরও রাজ্যের বহু মহিলা ‘অন্নপূর্ণা’ প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন না—এই অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন তৃণমূল নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, নির্বাচনী প্রচারে মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সরকার গঠনের কয়েক মাস পরেও বহু যোগ্য মহিলা সেই অর্থ থেকে বঞ্চিত।
মমতার অভিযোগ, আবেদন করার পরেও অনেক মহিলার কাছে টাকা পৌঁছচ্ছে না। কোথাও আবেদন গ্রহণে সমস্যা, কোথাও আবার নথিপত্রের অজুহাতে আবেদন বাতিল করা হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, যোগ্য মহিলারা যদি প্রতিশ্রুত অর্থ না পান, তবে নির্বাচনের আগে দেওয়া ঘোষণার বাস্তবায়ন হচ্ছে কোথায়?
তৃণমূল নেত্রীর কথায়, “ভোট নেওয়ার সময় বাংলার মা-বোনেদের তিন হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এখন সেই মা-বোনেরাই সরকারি দফতরে ঘুরছেন। কেউ টাকা পাচ্ছেন, কেউ পাচ্ছেন না।”
অন্নপূর্ণার সুবিধাভোগী বাছাইয়েও পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন মমতা। তাঁর দাবি, তৃণমূল-সমর্থক পরিবার, সংখ্যালঘু মহিলা এবং প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের একাংশকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি-শাসিত বা বিজেপি-সমর্থক এলাকার বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। যদিও এই দাবির সমর্থনে নির্দিষ্ট কোনও সরকারি তালিকা প্রকাশ করেননি তৃণমূল নেত্রী।
নিজের সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে মমতার দাবি, সেখানে ধর্ম, জাতি বা রাজনৈতিক পরিচয় দেখে সুবিধাভোগী বাছাই করা হয়নি। মহিলাদের হাতে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই ছিল সেই প্রকল্পের লক্ষ্য। তাঁর কটাক্ষ, নতুন সরকার সেই মডেল অনুসরণ করে নিজেদের নামে প্রকল্প চালু করলেও বাস্তবে সকলের কাছে টাকা পৌঁছে দিতে পারছে না।
সরকারের পাল্টা দাবি
রাজ্য সরকারের বক্তব্য, অন্নপূর্ণা প্রকল্প পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের নথি যাচাইয়ের পরই টাকা পাঠানো হচ্ছে। অসম্পূর্ণ আবেদন, ভুল তথ্য কিংবা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যের সঙ্গে নথির অসঙ্গতির মতো কারণে কিছু ক্ষেত্রে টাকা পেতে দেরি হচ্ছে। তবে কোনও যোগ্য মহিলাকে বঞ্চিত করা হবে না বলে প্রশাসনের দাবি।
সরকারের এই ব্যাখ্যা অবশ্য মানতে নারাজ মমতা। তাঁর দাবি, সমস্ত যোগ্য মহিলার বকেয়া অর্থ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে কতজন আবেদন করেছেন, কতজন টাকা পেয়েছেন এবং কতজনের আবেদন বাতিল হয়েছে—তার পূর্ণাঙ্গ হিসাবও প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মমতার হুঁশিয়ারি, দ্রুত প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে মহিলাদের নিয়ে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনে নামবে তৃণমূল। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি শুধু ভোটের প্রচারের হাতিয়ার হতে পারে না। মহিলারা অনুদান চাইছেন না, চাইছেন ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুত অর্থ। সেই প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা হলে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক—দুই পথেই তার প্রতিবাদ করবে তৃণমূল।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



