খবর

সেপ্টেম্বরে ইরাক ছাড়বে সব মার্কিন সেনা, অবসান ঘটছে দুই দশকের সামরিক উপস্থিতির

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাগদাদ: আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সমস্ত সেনা প্রত্যাহার করতে চলেছে আমেরিকা।
  • এর ফলে ২০০৩ সালে সাদ্দাম হুসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটবে।
  • বুধবার ইরাক ও আমেরিকার কর্মকর্তারা এই সময়সীমা নিশ্চিত করেছেন।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাগদাদ: আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সমস্ত সেনা প্রত্যাহার করতে চলেছে আমেরিকা। এর ফলে ২০০৩ সালে সাদ্দাম হুসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটবে। বুধবার ইরাক ও আমেরিকার কর্মকর্তারা এই সময়সীমা নিশ্চিত করেছেন।

২০২৪ সালেই ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে ইরাকে ইসলামিক স্টেট বা আইএস-বিরোধী মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের অভিযান ধাপে ধাপে গুটিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গত বছর ইরাকের অধিকাংশ অঞ্চলের সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে আধা-স্বশাসিত উত্তরাঞ্চলীয় কুর্দিস্তানে সীমিত সংখ্যক মার্কিন সেনা এত দিন মোতায়েন ছিল।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি বুধবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানায়, আইএস-কে পরাজিত করার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক অভিযান শেষ করা এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিদেশি সেনার ইরাক ত্যাগের ‘স্থির ও চূড়ান্ত তারিখ’ ৩০ সেপ্টেম্বর।

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেনা প্রত্যাহার সম্পূর্ণ হবে বলে ওয়াশিংটন আশা করছে। তবে বর্তমানে ইরাকে ঠিক কত জন মার্কিন সেনা রয়েছেন কিংবা তাঁদের পরবর্তী সময়ে কোথায় মোতায়েন করা হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনও তথ্য দেননি।

ওই কর্মকর্তার বক্তব্য, আমেরিকা, ইরাক ও আন্তর্জাতিক জোটের অন্য সদস্যেরা আইএস-কে পরাজিত করার ক্ষেত্রে বিরাট সাফল্য অর্জন করেছে। এখন থেকে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী, কুর্দিস্তানের পেশমের্গা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাহিনী দেশের ভিতরে সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নেতৃত্ব দেবে।

দুই ইরাকি কুর্দি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রায় তিন সপ্তাহ আগেই এরবিল থেকে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি ভাবে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি না থাকায় তাঁরা নাম প্রকাশ করতে চাননি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে কুর্দিস্তানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলি নিয়মিত আক্রমণের মুখে পড়েছে। ফলে সেনা প্রত্যাহারের নিরাপত্তাগত তাৎপর্যও বেড়েছে।

২০০৩ সালে সাদ্দাম হুসেনের সরকার উৎখাতের জন্য আমেরিকা ইরাক আক্রমণ করেছিল। ২০০৭ সালে বিদ্রোহ দমন অভিযানের চূড়ান্ত পর্যায়ে দেশটিতে মার্কিন সেনার সংখ্যা এক লক্ষ ৭০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। দীর্ঘ যুদ্ধ ও ব্যাপক প্রাণহানির পরে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে শেষ মার্কিন যুদ্ধবাহিনী ইরাক ছেড়েছিল।

কিন্তু ২০১৪ সালে আইএস ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করলে ইরাকি সরকারের আমন্ত্রণে মার্কিন সেনারা আবার ফিরে আসে। আইএসের স্বঘোষিত ভূখণ্ডের পতনের পরে ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক জোটের প্রত্যক্ষ সামরিক অভিযান শেষ হয়। তারপরও প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ এবং যৌথ আইএস-বিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য থেকে গিয়েছিল। সেপ্টেম্বরের প্রত্যাহার সেই দ্বিতীয় পর্যায়ের উপস্থিতিরও সমাপ্তি ঘটাবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles