Home খবর কর্ণাটকে এসআইআর বিতর্কে কংগ্রেসের আগাম চাল, পিছিয়ে বিজেপি

কর্ণাটকে এসআইআর বিতর্কে কংগ্রেসের আগাম চাল, পিছিয়ে বিজেপি

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
44 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • কর্ণাটকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে রাজনৈতিক লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে।
  • কংগ্রেস আগেভাগেই বিষয়টিকে গণআন্দোলনের রূপ দিতে মাঠে নেমেছে।
  • বিজেপি শুরুতে তুলনামূলকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকলেও এখন সংগঠনকে সক্রিয় করার চেষ্টা করছে।
  • বিরোধী শিবিরের দাবি, ভোটার তালিকা নিয়ে মানুষের উদ্বেগকে কংগ্রেস রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে চাইছে।
  • বিজেপির বক্তব্য, তারা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রচার চালাবে এবং ভোটারদের বিভ্রান্ত হতে দেবে না।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) নিয়ে কর্ণাটকের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। যদিও নির্বাচন এখনও কিছুটা দূরে, তবু ভোটার তালিকা ঘিরে বিতর্ককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে। এই মুহূর্তে পর্যবেক্ষকদের মতে, বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে, আর বিজেপি সেই ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করছে।কংগ্রেস শুরু থেকেই অভিযোগ করছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দলীয় নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন জেলায় সভা, পদযাত্রা, স্মারকলিপি প্রদান এবং বাড়ি-বাড়ি প্রচারের মাধ্যমে বিষয়টিকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের দাবি, গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিকার—ভোটাধিকার—রক্ষার প্রশ্নে কোনও আপস করা যাবে না।রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার-সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন। দলের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছ হওয়া উচিত এবং কোনও নাগরিকের নাম বাদ পড়লে দ্রুত তার প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে, বিজেপি শুরুতে এই ইস্যুকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। দলের মনোযোগ ছিল সংগঠন পুনর্গঠন এবং অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মসূচির দিকে। কিন্তু কংগ্রেস যখন বিষয়টিকে জনপরিসরে বড় বিতর্কে পরিণত করতে শুরু করে, তখন বিজেপিও সক্রিয় হতে বাধ্য হয়।এখন বিজেপি দাবি করছে, ভোটার তালিকা সংশোধন নির্বাচন কমিশনের নিয়মিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। এতে অযথা আতঙ্ক ছড়ানোর কোনও কারণ নেই। দলের নেতাদের বক্তব্য, কংগ্রেস মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে। পাশাপাশি বিজেপি কর্মীদেরও ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখানে মূল লড়াই কেবল ভোটার তালিকা নিয়ে নয়; বরং কে জনমত গঠনে এগিয়ে থাকবে, সেই প্রতিযোগিতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের আগে যে দল কোনও ইস্যুকে মানুষের দৈনন্দিন আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পারে, তার রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। সেই দিক থেকে কংগ্রেস আপাতত আক্রমণাত্মক অবস্থানে রয়েছে।

তবে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তিকেও হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। দলটি সাধারণত নির্বাচনের আগে দ্রুত সংগঠনকে সক্রিয় করতে সক্ষম। ফলে আগামী কয়েক মাসে তারা যদি বুথস্তরে প্রচার জোরদার করতে পারে, তবে বর্তমান ব্যবধান অনেকটাই কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা। কমিশন বারবার জানিয়েছে, ভোটার তালিকাকে নির্ভুল ও হালনাগাদ রাখাই এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য। কোনও যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়লে নির্ধারিত নিয়মে আপত্তি জানানো এবং পুনর্নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। কমিশনের দাবি, পুরো প্রক্রিয়া আইন এবং নির্ধারিত বিধি মেনেই পরিচালিত হচ্ছে।

তবু রাজনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত যে কোনও প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মধ্যে সহজেই উদ্বেগ তৈরি করে। সেই উদ্বেগকে কে কীভাবে রাজনৈতিক ভাষ্য হিসেবে তুলে ধরতে পারে, সেটাই এখন কর্ণাটকের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এই মুহূর্তে কংগ্রেস বিষয়টিতে রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে থাকলেও বিজেপি দ্রুত সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছে। ফলে এসআইআর বিতর্ক আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, ভোটার তালিকা, নাম অন্তর্ভুক্তি বা বাদ পড়া এবং নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ—সবকিছুই কর্ণাটকের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles