হাইলাইটস:
- ২১ দিনের অনশনের পর সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
- এর প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করলেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।
- ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি আগের পরিকল্পনামাফিক হবে বলে ঘোষণা।
- ওয়াংচুককে হাসপাতালে নেওয়া নিয়ে দিল্লি পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ।
- ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জ ও জোর করে ওয়াংচুককে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে সিজেপি।
বাংলাস্ফিয়ার: সোনম ওয়াংচুককে অনশনস্থল থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশনের ২১তম দিনে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর সমর্থনে শনিবার থেকেই নতুন করে অনশন শুরু করেছেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।
সিজেপির পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে জানানো হয়েছে, ওয়াংচুকের আন্দোলনকে থামানো যাবে না। অভিজিৎ দিপকে অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসেছেন এবং ২০ জুলাই ঘোষিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিও পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।
ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ দেখা দিয়েছে। দিল্লি পুলিশের দাবি, দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসার স্বার্থেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, এটি ছিল সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখেই সেই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সিজেপি ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের দাবি, শনিবার সকালে জন্তর মন্তরে আন্দোলনরত ছাত্র-যুবকদের উপর লাঠিচার্জ করা হয়। এরপর জোরপূর্বক সোনম ওয়াংচুককে অনশনমঞ্চ থেকে সরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রশাসন শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনকে দমন করার চেষ্টা করছে।
অভিজিৎ দিপকে বলেন, ওয়াংচুকের অনশন কেবল একজন ব্যক্তির লড়াই নয়, এটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষার সংস্কারের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রতীক। তাই তাঁকে সরিয়ে দিলেও আন্দোলন থামবে না। বরং আরও বেশি মানুষ এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হবেন।
সিজেপির বক্তব্য, সরকার যদি মনে করে একজন আন্দোলনকারীকে হাসপাতালে পাঠিয়ে আন্দোলনের ইতি টানা যাবে, তবে তারা ভুল করছে। দিপকের অনশন সেই প্রতিবাদেরই নতুন অধ্যায়। পাশাপাশি তাঁরা জানিয়েছেন, রবিবারের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র, শিক্ষক, গবেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা যোগ দেবেন।
ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে অবশ্য উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। টানা ২১ দিন অনশন চালিয়ে যাওয়ার ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। হাসপাতালের তরফে তাঁর স্বাস্থ্যের উপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে। তবে তাঁর সমর্থকদের অভিযোগ, স্বাস্থ্যগত কারণকে অজুহাত করে প্রশাসন আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
ঘটনার পর থেকেই জন্তর মন্তর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। রবিবারের কর্মসূচিকে সামনে রেখে প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে তুমুল প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি ওয়াংচুকের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সরকারের সমর্থকদের একাংশের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ ও চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, এতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য খোঁজার কোনও কারণ নেই।
সব মিলিয়ে সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে স্থানান্তর করার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আন্দোলন আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। অভিজিৎ দিপকের অনির্দিষ্টকালের অনশন এবং ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে নজর থাকবে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার দিকে এবং প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে অচলাবস্থা কীভাবে মেটে, তার উপর।