হাইলাইটস:
- জেলবন্দি হওয়ার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করলেন অনুব্রত মণ্ডল।
- দাবি, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকতে হয়েছে তাঁকে।
- তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে জল্পনা ও বিতর্কের সূত্রপাত।
বাংলাস্ফিয়ার: তৃণমূল কংগ্রেসের বীরভূমের প্রভাবশালী নেতা অনুব্রত মণ্ডল ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন। এবার তিনি সরাসরি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে দাবি করেছেন, তাঁর দীর্ঘ জেলযাত্রার জন্য অভিষেকই দায়ী। অনুব্রতের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ মতভেদ এবং দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অনুব্রত বলেন, তিনি অন্যায়ের শিকার হয়েছেন এবং তাঁকে পরিকল্পিতভাবে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, দলের ভেতরের কিছু নেতার ভূমিকার কারণেই তিনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মামলায় জড়িয়ে পড়েন এবং দীর্ঘ সময় জেলে কাটাতে বাধ্য হন। সেই প্রসঙ্গেই তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে বলেন, তাঁর দুর্দশার জন্য তিনিই দায়ী।
অনুব্রতের এই বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি তৃণমূলের অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং বীরভূমে তাঁর সাংগঠনিক প্রভাব নিয়ে কোনও প্রশ্ন ছিল না। কিন্তু গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান এবং দলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সম্প্রতি তিনি প্রকাশ্যে একাধিক মন্তব্য করেছেন, যা তৃণমূলের বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি তাঁর অসন্তোষের ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, অনুব্রতের এই মন্তব্য কেবল ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং দলের অভ্যন্তরে চলা ক্ষমতার দ্বন্দ্বও সামনে এনে দিল। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলে নেতৃত্ব, সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর অবস্থান নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তার মধ্যেই এই বিস্ফোরক অভিযোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তবে অনুব্রতের অভিযোগের বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দলের নেতাদের একাংশ অবশ্য প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মন্তব্য করা এড়িয়ে গিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, ব্যক্তিগত অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা না করে দলীয় ফোরামেই বিষয়টি তোলা উচিত।
উল্লেখ্য, গরুপাচার মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর দীর্ঘ সময় জেলবন্দি ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। সেই সময় থেকেই তিনি দাবি করে আসছেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এবার প্রথমবার তিনি সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে দায় চাপালেন।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি অনুব্রতের এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করতে শুরু করেছে। বিজেপির দাবি, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দলেরই একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা অভিযোগ তুলেছেন, ফলে দলটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। কংগ্রেস এবং বাম নেতারাও এই ঘটনাকে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
অন্যদিকে, তৃণমূলের একাংশ মনে করছে, অনুব্রতের মন্তব্যকে অতিরঞ্জিত না করাই উচিত। তাঁদের মতে, দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কারণে তিনি আবেগের বশে এমন মন্তব্য করে থাকতে পারেন। তবে রাজনৈতিকভাবে এই মন্তব্য যে অস্বস্তি বাড়িয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
অনুব্রত মণ্ডলের এই বিস্ফোরক দাবি আগামী দিনে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। বিশেষ করে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এ বিষয়ে কী অবস্থান নেয় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই অভিযোগের জবাব দেন কি না, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে।