হাইলাইটস:

  • দলীয় ভাঙন ও বিদ্রোহের আবহে কর্মীদের উদ্দেশে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • তৃণমূল কংগ্রেসকে আবার নতুন করে সংগঠিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বললেন, অতীতেও কঠিন পরিস্থিতি সামলে দলকে পুনর্গঠন করেছেন।
  • দলত্যাগীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে জানান, ব্যক্তির চেয়ে দল ও আদর্শ অনেক বড়।
  • তৃণমূলের মূল শক্তি সাধারণ কর্মী-সমর্থক—তাঁদের উপর ভরসা রেখেই সংগঠনকে পুনর্গঠনের আশ্বাস।
  • রাজনৈতিক প্রতিকূলতা সাময়িক, মানুষের সঙ্গে সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত দলকে টিকিয়ে রাখবে বলে দাবি।

বাংলাস্ফিয়ার: তৃণমূল কংগ্রেসে একের পর এক বিদ্রোহ, দলবদল এবং সাংগঠনিক অস্থিরতার আবহে কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসী বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দলকে নতুন করে গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। অতীতেও বহু প্রতিকূলতার মুখে দাঁড়িয়ে সংগঠনকে পুনর্গঠন করেছেন, এবারও সেই কাজ করতে পিছপা হবেন না।

দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে মমতার বার্তা, কোনও রাজনৈতিক সংকটই স্থায়ী নয়। ইতিহাসে তৃণমূল কংগ্রেস আরও কঠিন সময় দেখেছে, কিন্তু প্রতিবারই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতেও হতাশ হওয়ার কোনও কারণ নেই বলে তিনি মনে করেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তির আসা-যাওয়ায় একটি রাজনৈতিক দল শেষ হয়ে যায় না। যারা ব্যক্তিস্বার্থে দল ছেড়ে চলে গিয়েছেন বা অন্য পথে হাঁটছেন, তাদের সিদ্ধান্তে সংগঠনের আদর্শ বদলে যায় না। প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে তৃণমূল স্তরের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দলের পতাকা বহন করে চলেছেন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতেও বহুবার রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, ভাঙন এবং চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই সাধারণ মানুষের সমর্থন ও কর্মীদের নিষ্ঠার উপর ভর করে দল আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরেছে। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে নতুন করে লড়াইয়ের আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।

মমতার বক্তব্যে স্পষ্ট, সংগঠন পুনর্গঠনের কাজ দ্রুত শুরু হবে। জেলা থেকে বুথ স্তর পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করা, নতুন নেতৃত্বকে সামনে আনা এবং সক্রিয় কর্মীদের আরও দায়িত্ব দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হবে।

একই সঙ্গে তিনি কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, কোনও ধরনের বিভ্রান্তি বা গুজবে কান না দিয়ে মানুষের পাশে থাকতে হবে। রাজনৈতিক লড়াইয়ের মূল ক্ষেত্র মানুষের আস্থা অর্জন, এবং সেই আস্থাই ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়ে দেবে।

দলত্যাগীদের প্রসঙ্গে মমতা ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় বলেন, সুযোগসন্ধানী রাজনীতি কখনও দীর্ঘস্থায়ী হয় না। রাজনৈতিক সুবিধার জন্য যারা অবস্থান বদলায়, শেষ পর্যন্ত জনগণই তাদের বিচার করে। তাই ব্যক্তিগত আক্রমণের বদলে সংগঠনকে শক্তিশালী করাই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

তাঁর বক্তব্যে ছিল আত্মবিশ্বাসের সুর—সংকট যতই গভীর হোক, তৃণমূল কংগ্রেসকে আবার সংগঠিত করা সম্ভব। অতীতে যেমন করেছেন, এবারও তেমনই নতুন উদ্যমে দলকে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি। কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর শেষ বার্তা, লড়াই ছেড়ে নয়, মানুষের সঙ্গে থেকে সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করাই আগামী দিনের প্রধান কাজ।