Home খবর মাদ্রাসার অস্থায়ী কর্মীদের চাকরি নিয়মিত করার আর্জি খারিজ, ‘রাজি করাতে পারেননি’—সুপ্রিম কোর্ট

মাদ্রাসার অস্থায়ী কর্মীদের চাকরি নিয়মিত করার আর্জি খারিজ, ‘রাজি করাতে পারেননি’—সুপ্রিম কোর্ট

Authored By Diptyajit Roy Chowdhury
8 views 2 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস:

  • মাদ্রাসার অস্থায়ী কর্মীদের চাকরি নিয়মিত করার আবেদন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট।
  • আদালতের পর্যবেক্ষণ, আবেদনকারীরা নিয়মিত নিয়োগের পক্ষে আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।
  • বেঞ্চের মন্তব্য, “আপনারা আমাদের সন্তুষ্ট করতে পারেননি”
  • শুধুমাত্র দীর্ঘদিন কাজ করলেই চাকরি স্থায়ী করার অধিকার তৈরি হয় না বলে জানিয়েছে আদালত।
  • সরকারি নিয়োগে সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়া মেনে চলার গুরুত্ব ফের তুলে ধরল শীর্ষ আদালত।

সুপ্রিম কোর্ট মাদ্রাসার অস্থায়ী কর্মীদের চাকরি নিয়মিত করার দাবিতে দায়ের হওয়া একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। বিচারপতিদের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আবেদনকারীরা এমন কোনও আইনি যুক্তি তুলে ধরতে পারেননি, যা আদালতকে তাদের পক্ষে রায় দিতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। শুনানির সময় আদালতের মন্তব্য ছিল, “আপনারা আমাদের সন্তুষ্ট করতে পারেননি।”

আবেদনকারীদের দাবি ছিল, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলিতে বিভিন্ন পদে কাজ করছেন। সেই কারণে তাঁদের পরিষেবা নিয়মিত করা উচিত এবং স্থায়ী কর্মীর মর্যাদা দেওয়া উচিত। তাঁদের আইনজীবীর যুক্তি ছিল, বহু বছর ধরে একই ধরনের কাজ করে যাওয়া সত্ত্বেও তাঁরা স্থায়ী সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

কিন্তু সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়ে দেয়, সরকারি বা সরকার-অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়মিত করার ক্ষেত্রে কেবল দীর্ঘদিন কর্মরত থাকা যথেষ্ট নয়। নিয়োগ যদি শুরু থেকেই বৈধ ও সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়ায় না হয়ে থাকে, তবে আদালত শুধুমাত্র সহানুভূতির ভিত্তিতে সেটিকে নিয়মিত করার নির্দেশ দিতে পারে না।

বেঞ্চ আরও মনে করিয়ে দেয়, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সমান সুযোগের সাংবিধানিক নীতি অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি, স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ—এই মৌলিক নীতিগুলি এড়িয়ে কাউকে স্থায়ী কর্মীর মর্যাদা দেওয়া হলে তা অন্য চাকরিপ্রার্থীদের অধিকারের পরিপন্থী হতে পারে।

আদালত অতীতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রায়ের উল্লেখ করে জানায়, নিয়মিত নিয়োগের বিধি লঙ্ঘন করে অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের স্থায়ী করার ক্ষেত্রে বিচারব্যবস্থা অত্যন্ত সতর্ক। বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া আদালত এ ধরনের নির্দেশ দিতে অনিচ্ছুক।

এই রায়ের ফলে আবেদনকারী মাদ্রাসা কর্মীদের চাকরি নিয়মিত করার আশা কার্যত শেষ হয়ে গেল। তবে আদালত তাঁদের কাজের মূল্য বা দীর্ঘদিনের পরিষেবাকে অস্বীকার করেনি। বরং স্পষ্ট করেছে, বিষয়টি নীতিগত এবং আইনগত। কোনও কর্মী দীর্ঘদিন কাজ করেছেন বলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী হওয়ার অধিকার সৃষ্টি হয় না।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় আবারও স্পষ্ট করে দিল যে সরকারি নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ধারাবাহিকভাবে সংবিধানের ১৪ ও ১৬ অনুচ্ছেদে বর্ণিত সমতা ও সমান সুযোগের নীতিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। নিয়োগের বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে পরবর্তীকালে আদালতের মাধ্যমে চাকরি নিয়মিত করার প্রবণতাকে নিরুৎসাহিত করাই এই অবস্থানের মূল উদ্দেশ্য।

ফলে ভবিষ্যতে একই ধরনের দাবিতে মামলা হলে আবেদনকারীদের শুধু দীর্ঘদিন কাজ করার তথ্য নয়, নিয়োগের বৈধতা এবং আইনি অধিকারও সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অন্যথায় কেবল সহানুভূতি বা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে চাকরি নিয়মিত করার নির্দেশ পাওয়া কঠিন হবে বলেই এই রায় থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles