হাইলাইটস
- বদ্রীনাথ মন্দিরের অনুদান আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার বিখেটিসির সাসপেন্ড কর্মী প্রমোদ নওটিয়াল।
- ভক্তদের নগদ অনুদান ও মূল্যবান সামগ্রী তছরুপের অভিযোগে তদন্ত করছে এসআইটি।
- সিসিটিভি ফুটেজ, আর্থিক নথি ও অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
- উত্তরাখণ্ড সরকারও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদন: উত্তরাখণ্ডের বদ্রীনাথ ধামে ভক্তদের অনুদান ও প্রণামীর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গ্রেপ্তার করল বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির (বিকেটিসি) সাসপেন্ড কর্মী প্রমোদ নওটিয়ালকে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরে জমা পড়া নগদ অনুদান ও মূল্যবান সামগ্রী পরিচালনায় অনিয়ম এবং অর্থ তছরুপের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন।
রবিবার রাতে দেরাদুনে নিজের বাড়ি থেকে নওটিয়ালকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে চামোলি জেলার বদ্রীনাথে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে এসআইটি। তদন্তকারীদের লক্ষ্য, অনুদানের অর্থ কোথায় গিয়েছে, এই চক্রে আর কারা জড়িত এবং দুর্নীতির পরিধি কতটা বিস্তৃত—তা খতিয়ে দেখা।
ঘটনার সূত্রপাত জুলাইয়ের শুরুতে। সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ ওঠে, মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান গণনার সময় নিয়ম ভেঙে নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই বিখেটিসি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে। সেই তদন্তে প্রাথমিকভাবে অনিয়মের প্রমাণ মেলায় নওটিয়ালকে সাসপেন্ড করা হয় এবং পরে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়।
এসআইটির তদন্তে এখন সিসিটিভি ফুটেজ, অনুদান গণনার রেজিস্টার, আর্থিক লেনদেনের নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে একটি ল্যাপটপ ও একটি শালগ্রাম শিলাও উদ্ধার হয়েছে, যা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় উত্তরাখণ্ড সরকারও পৃথক উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। সরকারের স্পষ্ট বার্তা, কোটি কোটি ভক্তের বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান নিয়ে কোনও ধরনের দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অযোধ্যার রামমন্দিরে অনুদান সংক্রান্ত বিতর্কের আবহেই বদ্রীনাথ ধামে এই অভিযোগ সামনে আসায় দেশের বড় বড় তীর্থক্ষেত্রে অনুদান সংগ্রহ, হিসাবরক্ষণ ও নজরদারি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর সারা দেশের।