Home খবর ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে সক্রিয় ট্রাম্প

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে সক্রিয় ট্রাম্প

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
81 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে পৃথক ফোনালাপ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
  • ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ফের মধ্যস্থতার ইচ্ছার কথা জানালেন ট্রাম্প।
  • প্রায় ৯০ মিনিটের আলোচনায় উঠে আসে যুদ্ধ, শান্তি-আলোচনা এবং ন্যাটো সম্মেলনের প্রসঙ্গ।
  • যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানান পুতিন।
  • তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ বৈঠকের আগে বেড়েছে কূটনৈতিক তৎপরতা।

ইউক্রেন যুদ্ধের অচলাবস্থা কাটাতে ফের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার তিনি পৃথকভাবে ফোনে কথা বলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে। দুই নেতার সঙ্গেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা, শান্তি-আলোচনার ভবিষ্যৎ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য মধ্যস্থতার ভূমিকা।

হোয়াইট হাউস ফোনালাপের পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ না করলেও ক্রেমলিন জানিয়েছে, ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে প্রায় ৯০ মিনিট ধরে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। সেখানে ট্রাম্প আবারও জানান, তিনি আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানের পথ খুঁজতে আগ্রহী এবং প্রয়োজনে মধ্যস্থতার দায়িত্ব নিতেও প্রস্তুত।

ন্যাটো বৈঠকের আগে বাড়ছে কূটনৈতিক চাপ

ফোনালাপের সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। ৭ ও ৮ জুলাই তুরস্কে বসছে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ বৈঠক। ইউক্রেন যুদ্ধ, ইউরোপের নিরাপত্তা, রাশিয়াকে ঘিরে ভবিষ্যৎ কৌশল এবং সামরিক সহযোগিতা—এসবই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রে।

ক্রেমলিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, আসন্ন ন্যাটো সম্মেলন এবং ইউক্রেন সংকটের সম্ভাব্য সমাধান নিয়েও ট্রাম্প ও পুতিন মতবিনিময় করেছেন।

সৌজন্যের পর মূল আলোচনায় যুদ্ধ

ফোনালাপের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানান পুতিন। দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও এই সৌজন্য বিনিময় কূটনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

এরপরই আলোচনার কেন্দ্রে আসে যুদ্ধ। যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতি, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনার পথ কীভাবে পুনরুজ্জীবিত করা যায়, তা নিয়েই দীর্ঘ আলোচনা হয়।

ট্রাম্প কী চাইছেন?

ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, আলোচনার মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানো সম্ভব। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘায়িত সংঘাতে শুধু প্রাণহানিই বাড়ছে না, বিশ্ব অর্থনীতিও তার চাপ বহন করছে।

সাম্প্রতিক ফোনালাপেও তিনি সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে তিনি ঠিক কী ধরনের শান্তি-প্রস্তাব দিয়েছেন, তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

জেলেনস্কির সঙ্গেও আলাদা আলোচনা

পুতিনের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও ফোনে আলোচনা করেন ট্রাম্প। যুদ্ধের পরিস্থিতি, ইউক্রেনের নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য শান্তি-আলোচনাই ছিল সেই বৈঠকের মূল বিষয়।

তবে কিয়েভের অবস্থান এখনও অপরিবর্তিত। জেলেনস্কি বারবার জানিয়েছেন, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রশ্নে কোনও আপস হবে না।

যুদ্ধ থামার লক্ষণ এখনও নেই

কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়লেও যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব চিত্র বদলায়নি। পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনে লড়াই অব্যাহত। ড্রোন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ এবং পাল্টা সামরিক অভিযানে এখনও প্রাণহানি ঘটছে।

এই পরিস্থিতিতে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও বাস্তবে সমঝোতা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কারণ রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই পক্ষই এখনও নিজেদের মৌলিক অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়নি।

ফের আলোচনার কেন্দ্রে তুরস্ক?

আসন্ন ন্যাটো সম্মেলনের আয়োজক তুরস্ক অতীতেও রাশিয়া-ইউক্রেন সংলাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। কৃষ্ণসাগর শস্যচুক্তি থেকে বন্দি বিনিময়—একাধিক ক্ষেত্রে আঙ্কারা সফল মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে।

সে কারণেই অনেক পর্যবেক্ষকের ধারণা, এবারও তুরস্ককে ঘিরে নতুন কোনও কূটনৈতিক উদ্যোগের সূচনা হতে পারে।

ট্রাম্পের এই ধারাবাহিক ফোনালাপ তাৎক্ষণিক কোনও বড় অগ্রগতির ইঙ্গিত না দিলেও ন্যাটো বৈঠকের আগে ওয়াশিংটন, মস্কো এবং কিয়েভের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ যে নতুন গতি পেয়েছে, তা স্পষ্ট। এখন নজর তুরস্কের বৈঠকের দিকে—সেখান থেকে যুদ্ধবিরতি বা নতুন শান্তি-প্রক্রিয়ার কোনও বাস্তব রূপরেখা বেরিয়ে আসে কি না, সেটাই দেখার।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles